নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ১৬ আগস্ট থেকে রাজ্যে চালু হচ্ছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য বিমা প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত’। কিন্তু এখনই বন্ধ হচ্ছে না পূর্বতন সরকারের আমলে চালু হওয়া ‘স্বাস্থ্যসাথী’ প্রকল্প। আরও তিন মাস ‘স্বাস্থ্যসাথী’ প্রকল্পের সুবিধা পাবেন রাজ্যের বাসিন্দারা। কেন এই সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য? ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পের যথাযথ বাস্তবায়নে কিছুটা হলেও সময় লাগবে বলে মনে করছে রাজ্য প্রশাসন। এই সন্ধিক্ষণে আপৎকালীন পরিস্থিতিতে কেউ যাতে সরকারি স্বাস্থ্য বিমার সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত। শুক্রবার স্বাস্থ্যভবনে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ চালু করা নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডাঃ শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। সেখানে তিনি বলেন, ‘যাঁরা আয়ুষ্মান ভারতের সুবিধা পাবেন না, তাঁরা পাবেন মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা। স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পও আপাতত চালু থাকবে। অর্থাৎ, তিনটি প্রকল্প চলবে এক সঙ্গে। তিন মাস পর ধীরে ধীরে সব দিক খতিয়ে দেখে মানুষের অসুবিধা না করে স্বাস্থ্যসাথী বন্ধ করা হবে। কেউ বাদ পড়বেন না। বাদ পড়ার আশঙ্কাও করবেন না।’
ইতিমধ্যে রাজ্যের ৩ কোটি ৪০ লক্ষ মানুষ ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন বলে খবর। তাঁরা কাল, ১৬ আগস্ট থেকে এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। পরিষেবা মিলবে ১৯৩০টি হাসপাতালে। এর মধ্যে প্রাইভেট হাসপাতালের সংখ্যা ১৩০৩। আধার লিংকড এই প্রকল্পে পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস চিকিৎসার সুবিধা পাবেন আয়ুষ্মান কার্ড হোল্ডাররা। যাঁদের কাছে কার্ড পৌঁছাবে না, তাঁরা হাসপাতালেই নাম তুলতে পারবেন। আর যারা আয়ুষ্মানের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হবেন না, তাঁরা নাম লেখাতে পারবেন মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমার জন্য। সেক্ষেত্রেও অবশ্য আয় সংক্রান্ত শর্ত রয়েছে। তবে মন্ত্রীর দাবি, ‘রাজ্যের দেড় কোটি পরিবারের ৬ কোটি মানুষ কেন্দ্রের আয়ুষ্মান ভারতের সুবিধা পাবেন।’