• কন্যারত্নে ভাতা বেড়ে ২ হাজার টাকা, বর্ধিত টাকা আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে, উপকৃত হবে রাজ্যের সরকারি স্কুলের ২০ লক্ষাধিক ছাত্রী
    বর্তমান | ১৬ আগস্ট ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যের বিজেপি পরিচালিত সরকার আগেই ‘কন্যাশ্রী’ প্রকল্পের নাম বদলে ‘কন্যারত্ন’ করেছে। ছাত্রীদের মধ্যে স্কুলছুট হওয়ার প্রবণতা কমাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার ‘কন্যাশ্রী’ প্রকল্প চালু করেছিল। কোনো ছাত্রীর বয়স ১৩ বছর হলে এই প্রকল্পের আওতায় প্রতি বছর এক হাজার টাকা করে তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠায় রাজ্য। এবার এই উৎসাহ ভাতা বাড়িয়ে ২,০০০ টাকা করা হবে বলে ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার ধনধান্য প্রেক্ষাগৃহে ‘কন্যারত্ন দিবস’-এর অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা করেন তিনি। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে এই ভাতা মিলবে বলে তিনি জানিয়েছেন। 

    কতজন পাবে এই ভাতা? পূর্বতন সরকারের আমলে ২০ লক্ষ ১৩ হাজার ছাত্রীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ঢুকত ‘কন্যাশ্রী’র টাকা। পালাবদলের পরও এই সংখ্যা অপরিবর্তিত থাকছে। তবে শুক্রবার ১০ লক্ষ ১৩ হাজার ছাত্রীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে এক হাজার টাকা করে পাঠানো শুরু করেছে রাজ্য। এ বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, বিদ্যালয়গুলি যেসব ছাত্রীর তথ্য যাচাই বা ভেরিফিকেশন করে পাঠিয়েছে, তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে এদিন টাকা ট্রান্সফার করা শুরু হল। বাকিদের ক্ষেত্রে স্কুল যত দ্রুত যাচাই করে পাঠাবে, তত তাড়তিাড়ি টাকা ঢুকবে তাদের অ্যাকাউন্টে। এর জন্য ৪০০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। এছাড়াও ১ লক্ষ ২৯ হাজার ছাত্রীর অ্যাকাউন্টে এককালীন ২৫ হাজার টাকা করে পাঠানো হয়েছে। কোনো ছাত্রী উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করলে বা ১৮ বছর বয়সের পরও পাড়াশোনা চালিয়ে গেলে ‘কন্যরত্ন’ প্রকল্পের অধীনে এককালীন এই আর্থিক সহায়তা প্রদান করে রাজ্য।  

    এসবের মাঝেই পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্রের ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’ কর্মসূচির সূচনা করেন শুভেন্দু। মহিলাদের জন্য বিশেষ হেল্পলাইন নম্বরও (১৮১) চালু করেন তিনি। উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের দুই মন্ত্রী মালতী রাভা রায়, অগ্নিমিত্রা পালসহ একাধিক মহিলা বিধায়িক এবং পদস্থ আধিকারিক। 

    এদিনের অনুষ্ঠানে কলকাতা, হাওড়া, উত্তর ২৪ পরগনা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের প্রায় ১,৬০০ ছাত্রী হাজির ছিল ধনধান্য প্রেক্ষাগৃহে। ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’-এর শপথ গ্রহণ করে তারা সবাই। একই সঙ্গে কর্মজীবী মায়েদের সুবিধার্থে ‘পালনা’ নামে একটি নতুন ক্রেশ উদ্যোগের উদ্বোধন করা হয় এদিন। অঙ্গনওয়াড়ি কাম ক্রেশ কেন্দ্রের মাধ্যমে পরিচালিত এই প্রকল্পে শিশুদের যত্ন, পুষ্টি এবং প্রাথমিক মানসিক বিকাশের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

    প্রসঙ্গত, নারী, শিশু উন্নয়ন ও সমাজকল্যাণ দপ্তরের এই প্রকল্পের লক্ষ্য ও  সাফল্য তুলে ধরতে প্রতি বছর ১৪ আগস্ট ‘কন্যাশ্রী দিবস’ পালন করত পূর্বতন সরকার। এই প্রকল্পের জন্যই নেদারল্যান্ডের হেগ শহরে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে সেরা পাবলিক সার্ভিস পুরস্কার তুলে দিয়েছিল রাষ্ট্রসংঘ। এদিন সমাজ মাধ্যমে রাজ্য সরকারের সেই স্বীকৃতি পাওয়ার মুহূর্তের বিভিন্ন ছবি পোস্ট করে রাজ্যের ছাত্রীদের ‘কন্যাশ্রী দিবস’-এর শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মমতা। 

    সার্বিকভাবে উচ্চশিক্ষায় উৎসাহ দিতে রাজ্যের আরও বেশ কিছু পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, ‘৬০ শতাংশের বেশি নম্বর যাঁরা পাচ্ছেন, তাঁদের বিবেকানন্দ মেরিট স্কলারশিপ যোজনায় বিশেষ অর্থনৈতিক সহযোগিতার স্কিম আমরাও চালু রাখছি। এছাড়া আমরা একটি নতুন স্কিম এনেছি। সেটাও স্বামী বিবেকানন্দের নামে। বিদেশে পড়াশোনা করতে যাওয়া ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে জাতীয় স্তরে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে উচ্চ বা উচ্চতর শিক্ষা বা ডাক্তারি পড়ার ক্ষেত্রে সহায়তা করতে আমরা ১০০ কোটি টাকার একটি আলাদা তহবিল বরাদ্দ করেছি।’ 
  • Link to this news (বর্তমান)