নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ২৯ জুলাই থেকে পাঁচটি কলে পানীয় জল আসছে না। কাশীপুরের জ্যোতিনগর কলোনির বাসিন্দাদের অভিযোগ, পানীয় জল সরবরাহই হচ্ছে না। এর ফলে প্রবল সমস্যায় পড়েছেন এখানকার বাসিন্দারা। পানীয় জল জোগাড় করতে দূরে যেতে হচ্ছে। তারপর জল পান করতে পারছে মানুষ। এ কোনো মরুভূমির গল্প নয়। এই ঘটনা ঘটছে খাস কলকাতায়। জলের আকাল মেটাতে দু’দিন অন্তর সিপিএমের গণসংগঠন পশ্চিমবঙ্গ বস্তি উন্নয়ন সমিতি পানীয় জল সরবরাহ করছে। তার ফলে কিছুটা হলেও সুরাহা হচ্ছে কলোনির বাসিন্দাদের। তবে তাতেও দুর্দশা পুরোপুরি কাটছে না। এই এলাকার বাসিন্দা বাবু গাজি, আরজিনা বিবি, পিংকি বিবিদের প্রশ্ন, ‘কেন জল বন্ধ? আমরা অনেকবার বোরো অফিস সহ থানায় জানিয়েছি। এই এলাকায় পাঁচ-পাঁচটি পানীয় জলের কল বন্ধ রয়েছে। বাচ্চারা স্কুলে যেতে পারছে না। বয়স্কদের অসুবিধার মুখে পড়তে হচ্ছে।’ তাঁদের অভিযোগ, গঙ্গার জলে স্নান করতে হচ্ছে। ফলে দেখা দিচ্ছে চর্মরোগ। জামাকাপড় কাচার পরও নোংরা যাচ্ছে না। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এখানে প্রায় ৮০০ ভোটার। এসআইআরের পর প্রায় ১২০ জনের নাম ট্রাইবুনালে আছে। এখানকার কয়েকজনের অভিযোগ জলের লাইন কেটে দেওয়া হয়েছে। কলকাতা কর্পোরেশনের বক্তব্য, রাস্তার দু’টি কল নিয়ে সমস্যা আছে। জলের লাইন পুরসভা কেটে দিয়েছে এই অভিযোগ ভিত্তিহীন। ওভাবে জলের লাইন কাটা যায় না। কোনো কারণে ফেরুল নিয়ে সমস্যা হতে পারে। কেন জল পড়ছে না তা দেখা হবে। স্থানীয় বিধায়ক রীতেশ তিওয়ারি এ প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘আর কোথাও তো সমস্যা হচ্ছে না। ওখানে কারা, কোথা থেকে এসে থাকছেন, সেটা আগে দেখে আসুন।’ সিপিএম নেত্রী দীপু দাস বলেন, ‘আমরা স্বাধীনতা দিবস পালন করছি। এদিকে শহরের একটা এলাকার মানুষ পানীয় জল পাচ্ছেন না।’ এই পাড়ার মোড়ে চটে যাওয়া একটি লাল রঙের বোর্ডে কলোনির ১৯৯৫ সালের একটি রেজিস্ট্রেশন নম্বর লেখা রয়েছে। বস্তি উন্নয়ন সমিতির নেতা অজিত শাসমলও বলেন, ‘১৯৯৫ সালের কলোনির রেজিস্ট্রেশনের কাগজ রয়েছে। ওঁরা জল কেন পাবেন না? আমরা এক-দু’দিন অন্তর ওখানে গিয়ে পানীয় জল দিয়ে আসছি। জ্যোতিনগর কলোনি কমিটির তরফে সিটি সিভিল কোর্টে মামলাও করা হয়েছে।’