আর জি কর হাসপাতালে অন-ডিউটি চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার তদন্তে পানিহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষ গ্রেপ্তারের পর তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার ঘটনায় মুখ খুললেন নির্যাতিতার মা তথা পানিহাটির বিধায়ক রত্না দেবনাথ। খড়দহ থানা থেকে আদালতে নিয়ে যাওয়ার পথে প্রাক্তন বিধায়কের দিকে ডিম ছোড়ার ঘটনাকে সম্পূর্ণ অনভিপ্রেত বলে উল্লেখ করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন তিনি। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, ‘যা-ই ঘটুক না কেন, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কোনওভাবেই কাম্য নয়।
শনিবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে পানিহাটির বিধায়ক রত্না দেবনাথ বলেন, ‘পুলিশ ইতিমধ্যেই অভিযুক্তকে হেফাজতে নিয়েছে এবং প্রশাসনই নিয়ম মেনে তাঁদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। তাই উত্তেজিত হয়ে সাধারণ মানুষের এভাবে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া উচিত নয়।’ তিনি মন্তব্য করেন, ‘অন্যায় যারা করবে, তারা ধরা পড়বে। পাশাপাশি আমরাও যেন কোনও অন্যায় না করি। এই যে ডিম ছোড়া, এটা কাম্য নয়।’
নির্মল ঘোষের বয়সের বিষয়টি উল্লেখ করে রত্না দেবনাথ উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন,‘উনি ৮০ বছরের একজন মানুষ। ওঁর হয়তো হার্ট অ্যাটাকও হয়ে যেতে পারে। তখন আমরা প্রমাণ কোথায় পাব! তখন আমরা ওঁর কাছ থেকে কী তথ্য পাব!’ তদন্ত প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে শেষ করা এবং আসল সত্য উদ্ঘাটনের স্বার্থেই অভিযুক্তদের নিরাপত্তা ও শারীরিক সুস্থতার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
তবে এই ঘটনার প্রতিবাদ জানালেও, আর জি করের বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। রত্না দেবনাথ বলেন, ‘তিলোত্তমার কাণ্ডে কেউ পার পাবে না। মুখ্যমন্ত্রীর উপর ভরসা আছে, প্রাক্তন চেয়ারম্যানও ধরা পড়বেন।’
ঘটনার স্মৃতি টেনে সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়েরও তুলোধোনা করেন নির্যাতিতার মা। দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্ত করতে না দেওয়ার পেছনে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তোলেন রত্না দেবনাথ। তাঁর দাবি, বারবার বলা সত্ত্বেও দ্বিতীয়বারের জন্য পোস্টমর্টেম করতে দেওয়া হয়নি, উল্টে তাঁদের ভয় দেখানো হয়েছিল।
তড়িঘড়ি দেহ সৎকারের ঘটনার নেপথ্যে পুলিশের একাংশের যোগসাজশ ছিল বলে সোচ্চার হন তিনি। মেয়ের দেহ সৎকারের টাকা যে পুলিশকর্মী দিয়েছিসেন, তাঁকে খুঁজছেন জানিয়ে রত্না দেবী জানান, তিনি সেই টাকা ফেরত দিতে চান।
অন্য দিকে, পরিবারের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পানিহাটির বিধায়ক। তিনি জানান, স্বামীর নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি তিনি বিধানসভায় উত্থাপন করেছিলেন। তাঁর সেই আবেদনের পর রাজ্য সরকার তাঁর স্বামীর প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার বন্দোবস্ত করেছে।
প্রশ্ন: নির্মল ঘোষকে কেন ডিম ছোড়া হয়েছিল?
উত্তর: আর জি কর হাসপাতালে চিকিৎসক তরুণীর মৃত্যু সংক্রান্ত তদন্তে নির্মল ঘোষ গ্রেফতার হওয়ার পর তাঁকে আদালতে নিয়ে যাওয়ার পথে ক্ষুব্ধ কয়েকজন তাঁর দিকে ডিম ছোড়েন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রশ্ন: নির্মল ঘোষকে ডিম ছোড়ার ঘটনায় রত্না দেবনাথ কী বলেছেন?
উত্তর: পানিহাটির বিধায়ক রত্না দেবনাথ ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, কোনও পরিস্থিতিতেই সাধারণ মানুষের আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া উচিত নয়।
প্রশ্ন: নির্মল ঘোষের শারীরিক সুস্থতা নিয়ে কেন উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রত্না দেবনাথ?
উত্তর: নির্মল ঘোষের বয়সের কথা উল্লেখ করে রত্না দেবনাথ বলেছেন, তদন্ত চলাকালীন তাঁর শারীরিক সুস্থতা জরুরি। তাঁর মতে, অভিযুক্তের কিছু হয়ে গেলে তদন্তের স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে।
প্রশ্ন: রত্না দেবনাথ কি আর জি কর মামলায় বিচার নিয়ে আশাবাদী?
উত্তর: হ্যাঁ। তিনি বলেছেন, আর জি করের ঘটনায় কেউ পার পাবেন না এবং তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর উপর তাঁর আস্থা রয়েছে।
প্রশ্ন: দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত নিয়ে কী অভিযোগ করেছেন রত্না দেবনাথ?
উত্তর: তাঁর অভিযোগ, দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের দাবি জানানো হলেও তা করতে দেওয়া হয়নি এবং তাঁদের ভয় দেখানো হয়েছিল। দ্রুত দেহ সৎকারের ঘটনায় পুলিশের একাংশের ভূমিকা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন।
প্রশ্ন: পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে রত্না দেবনাথ কী জানিয়েছেন?
উত্তর: তিনি জানিয়েছেন, তাঁর স্বামীর নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি বিধানসভায় তুলেছিলেন। এরপর রাজ্য সরকারের তরফে তাঁর স্বামীর জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।