• আশিসের মৃত্যুতে কেষ্ট বললেন ‘ভালো লোক’, অভিষেকের তোপ বিজেপি-মিডিয়াকে, নিরপেক্ষ তদন্ত চায় শাসকদল
    এই সময় | ১৬ আগস্ট ২০২৬
  • আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় ভালো লোক ছিলেন। কোনও দুর্নীতিতেও জড়িত ছিলেন না। তাঁর অস্বাভাবিক মৃত্যুর খবর পাওয়া মাত্রই রামপুরহাটের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার আগে এ কথা বললেন বীরভূমের তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল। সুইসাইড নোটের কথা উল্লেখ করে আশিসের বিরুদ্ধে যে ভাবে অপপ্রচার হয়েছে, তা নিয়ে সরব হয়েছেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্য দিকে, তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক তথা বিধানসভার প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার আশিসের অকস্মাৎ মৃত্যুতে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন রামপুরহাটের বিজেপি বিধায়ক ধ্রুব সাহা। গত বিধানসভা নির্বাচনে রামপুরহাটে ধ্রুবর কাছে পরাজিত হয়েছিলেন আশিস।

    রামপুরহাটের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হাটতলাপাড়ায় থাকতেন আশিস। তাঁর বাড়ির লাগোয়া একটি দলীয় কার্যালয় ছিল। রবিবার সকালে সেখান থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় রামপুরহাট থানার পুলিশ। দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। রামপুরহাট কলেজের প্রাক্তন শিক্ষক আশিসের মৃত্যুসংবাদ পেয়ে তাঁর বাড়ির সামনে জড়ো হন প্রচুর স্থানীয় মানুষ এবং দলীয় কর্মীরা। সকালে খবর মিলেছিল, প্রবীণ নেতার বাড়ি যাবেন অনুব্রত মণ্ডল, বোলপুরের বিধায়ক চন্দ্রনাথ সিংহ, সিউড়ির প্রাক্তন বিধায়ক বিকাশ রায়চৌধুরী এবং লাভপুরের প্রাক্তন বিধায়ক অভিজিৎ সিং।

    পরে রামপুরহাটের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার সময়ে অনুব্রত বলেন, ‘এত ভাল লোক। কেন এই কাজ করলেন, বুঝতে পারছি না। ওঁর কোনও শত্রু নেই। কারও সঙ্গে ঝগড়া নেই। কোনও মানসিক চাপই ছিল না। উনি কারও সঙ্গে ঝগড়াঝাঁটিতেই যেতেন না। আমি প্রচণ্ড দুঃখ পেয়েছি। ওঁর সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের পরিচয়। খুব নিরীহ, শান্ত লোক ছিলেন। আশিস কোনও দুর্নীতিতে ছিলেন বলে আমার মনে হয় না।’

    প্রসঙ্গত, অনুব্রত বীরভূম জেলা তৃণমূলের সভাপতি থাকাকালীন আশিস তাঁর সঙ্গী ছিলেন। তবে অনুব্রতের কারণেই জেলার রাজনীতিতে তাঁর খুব বেশি উত্থানের সুযোগ ছিল না। জেলা তৃণমূলের একাংশের দাবি, অনুব্রতের সঙ্গে নানা সময়ে তাঁর বিরোধও বেধেছে। কিন্তু কখনও দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ করেননি। বরাবর তৃণমূলের অনুগত সৈনিক হিসেবেই কাজ করে গিয়েছেন।

    বোলপুরের তৃণমূল বিধায়ক চন্দ্রনাথ সিনহারও বক্তব্য, পাঁচ বারের বিধায়ক আশিসের বিরুদ্ধে কেউ দুর্নীতির অভিযোগ করতে পারেননি কখনও। তিনি বলেন, ‘অনেকের সঙ্গেই ঝগড়াঝাঁটি হয়েছে, অনেকেই বিরোধিতা করেছেন। কিন্তু কেউ বলতে পারবে না, আশিসদা দুর্নীতি করেছেন। কোনও ঘটনায় হয়তো প্রচণ্ড মানসিক আঘাত পেয়েছিলেন। তার জেরে হয়তো দুর্বল মুহূর্তে এই ঘটনা ঘটিয়ে ফেলেছেন। আমি তাঁর চেয়ে ছোট হলেও অত্যন্ত সুসম্পর্ক ছিল। ওঁর আত্মার শান্তি কামনা করছি।’ চন্দ্রনাথ বলেন, ‘আশিসদা বাংলার শিক্ষক ছিলেন। খুব সুন্দর পড়া বোঝাতেন। ওঁর অনেক ছাত্রছাত্রীই আমাকে বলেছেন।’

    অভিষেক এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, ‘পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার তথা প্রাক্তন বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মর্মান্তিক প্রয়াণ কেবল হৃদয়বিদারকই নয়। রাজনীতি ও সাংবাদিকতার একটি নির্দিষ্ট সীমারেখা থাকা উচিত বলে যাঁরা বিশ্বাস করেন, তাঁদের সকলের বিবেকই নড়ে যাওয়া উচিত এই ঘটনায়।’ তাঁর সংযোজন, ‘ওঁর (আশিসের) সুইসাইড নোট ধারাবাহিক অপপ্রচার নিয়ে গুরুতর ও উদ্বেগজনক প্রশ্ন তুলে ধরেছে। সে সব ওঁকে সহ্য করতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন। বিজেপি এবং সংবাদমাধ্যমের একাংশকে অবশ্যই এই পরিণতি নিয়ে চিন্তাভাবনা করতে হবে, যেখানে সত্য প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগেই অভিযোগকে বাড়িয়েচাড়িয়ে দেখানো হয়, সম্মান বা মর্যাদার কথা না ভেবে জনসমক্ষে কোনও ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করে দেওয়া হয়।’

    আশিসের মৃত্যুতে বড় কারণ থাকলেও থাকতে পারে বলে দাবি করেছেন রামপুরহাটের বিধায়ক ধ্রুব। বিজেপি নেতা জানান, গত বিধানসভা ভোটে আশিসকে হারানোর পরে তিনি তাঁর বাড়িতেও গিয়েছিলেন। তাঁকে প্রণামও করেছেন। প্রবীণ নেতার মৃত্যুর ঘটনা অনভিপ্রেত জানিয়েছে ধ্রুব বলেন, ‘অনভিপ্রেত। দেখতে হবে এই ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ আছে কিনা। আমরা ওঁর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। এই মৃত্যুর জন্য নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানাচ্ছি। পুলিশ তদন্ত করুক। প্রয়োজনে নিরপেক্ষ এজেন্সিকে দিয়ে তদন্ত করানো হোক। আমরা এই ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে চাই।’

    আশিসকে কি জেলা তৃণমূলের অন্যতম স্বচ্ছ ভাবমূর্তির নেতা বলেই মনে করেন? ধ্রুবর জবাব, ‘দেখুন সেটাই জানতাম। সেই কারণেই ওঁকে প্রাণাম করতে গিয়েছিলাম। উনি ২৫ বছর বিধায়ক ছিলেন। কখনও মনে হয়নি উনি আত্মহত্যা করতে পারেন। দলীয় বা পারিবারিক কোনও কারণ আছে কি না, তদন্ত করতে হবে। আমরা মনে করছি, এই ঘটনার নেপথ্যে অনেক কারণ রয়েছে, সেগুলো সামনে আসা উচিত। এখন তদন্তগুলোয় নাম আসার পরে আত্মহত্যার বিষয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। পরিবারের কাকে বাঁচানোর জন্য তাঁকে আত্মহত্যা করতে হলো, সে প্রশ্ন আসছে। পরিবারের প্রতি এত যে মানুষটার ভালোবাসা, তিনি আত্মহত্যা করলেন কেন!’

  • Link to this news (এই সময়)