• স্বাধীনতা দিবস পালন, পার্টি অফিসে আড্ডা, মধ্যরাত পর্যন্ত বাড়িতেও গল্প! আশিসের মৃত্যুতে স্তম্ভিত পরিবার
    এই সময় | ১৬ আগস্ট ২০২৬
  • সকালে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করেছিলেন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। সন্ধ্যাবেলা পার্টি অফিসেও আড্ডা দিয়েছেন। শুধু তা-ই নয়, প্রায় মধ্যরাত পর্যন্ত হাসিমুখেই গল্প করেছেন বাড়ির লোকেদের সঙ্গে। তার পরেই রবিবার সকালে ঘর থেকে আশিসের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনা বিশ্বাসই করতে পারছেন না পরিবারের লোকেরা। পাড়াপড়শিরাও হতবাক।

    রামপুরহাটের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হাটতলাপাড়ায় থাকতেন আশিস। তাঁর বাড়ির লাগোয়া একটি দলীয় কার্যালয় ছিল। রবিবার সকালে সেখান থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় রামপুরহাট থানার পুলিশ। দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। আশিসের ভাই প্রশান্ত বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ঘরের দরজার ফাঁক দিয়ে একটি দড়ি ঝুলতে দেখা গিয়েছিল। তাতেই সন্দেহ হয়। তার পরে দরজার ভেঙে উদ্ধার হয় প্রবীণ নেতার দেহ।

    পরিবারের দাবি, আশিস কোনও কারণে মানসিক ভাবে বিধ্বস্ত ছিলেন কি না, তা তাঁর আচরণে বোঝা যায়নি। সেই কারণেই তাঁর মৃত্যুতে হতচকিত সকলে। প্রশান্ত বলেন, ‘রাতেও আমরা একসঙ্গে বসে গল্প করলাম। এমন কিছু ঘটতে পারে, তা বোঝার কোনও উপায় ছিল না। রাত ১২টা পর্যন্ত বাড়ির সবাই মিলে গল্প করেছি। তার পরে নিজেই খেতে উঠলেন এবং ঘরের দরজা বন্ধ করে দিলেন। সকালে এই খবর শুনলাম। এখনও বিশ্বাস করতে পারছি না।’

    এলাকাবাসীরাও জানান, শনিবার সকালে স্বাধীনতা দিবসও পালন করেছিলেন আশিস। এলাকায় পতাকা উত্তোলেনের সময়েও সক্রিয় ভাবে অংশ নিয়েছিলেন। তার পরে দলীয় কার্যালয়ে বেশ কিছু ক্ষণ সময় কাটিয়েছেন। এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘কাল সন্ধেবেলাই তো কথা বললাম। অফিসেই বসেছিলেন উনি। প্রতি রাতেই আমাদের আড্ডা হয়। যদিও কাল আমি আড্ডায় থাকতে পারিনি।’ তাঁর অনুমান, ‘ব্যক্তিগত ভাবে আমার মনে হয়, উনি মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে ছিলেন। মানসিক ভাবে বোধহয় ভেঙে পড়েছিলেন। অনেকে অনেক কিছু প্রমাণ করার চেষ্টা করেছিলেন। সম্ভবত ওঁর আত্মসম্মান বোধে লেগেছিল। আর কিছু নয়। কারণ ওঁদের বাড়ি তো শান্তিপূর্ণ বাড়ি। কোনও দিন কারও সঙ্গে অশান্তির কথা শুনিনি।’

    দলীয় কর্মীরাও জানিয়েছেন, তাঁকে নিয়ে যে ধরনের কথা বলা হয়েছে, যে সব অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা মেনে নিতে পারেননি আশিস। সম্ভবত সে সব নিয়ে মানসিক চাপের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি।

    (তথ্য সহায়তা: অর্ঘ্য ঘোষ এবং ঋতভাস চট্টোপাধ্যায়।)

  • Link to this news (এই সময়)