• ‘আশিসের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ নেই, সুইসাইড নোটটা...’, বললেন পুলিশ সুপার
    এই সময় | ১৬ আগস্ট ২০২৬
  • কখনও দুর্নীতিতে না জড়ানো সত্ত্বেও তাঁর নামে নানা অপপ্রচার চলেছে। তাঁর ভাবমূর্তি নষ্টের চেষ্টা করা হয়েছে। আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেটারহেড প্যাডে হাতে লেখা সুইসাইড নোটে এ কথা লেখা রয়েছে বলে খবর পুলিশ সূত্রে। কিন্তু আশিসের বিরুদ্ধে কখনও দুর্নীতি বা অন্য কোনও রকম অপরাধের অভিযোগ পুলিশের কাছে জমা পড়েনি। এ রকম কিছু অন্তত তাঁর জানা নেই বলেই জানালেন বীরভূমের পুলিশ সুপার ভিদিত রাজ বুন্দেশ। আশিসকে কখনও কোনও ব্যাপারে নোটিসও ধরানো হয়নি বলেই জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।

    রামপুরহাটের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হাটতলাপাড়ায় থাকতেন আশিস। তাঁর বাড়ির লাগোয়া একটি দলীয় কার্যালয় ছিল। রবিবার সকালে সেখান থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় রামপুরহাট থানার পুলিশ। দেহ উদ্ধার করে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পুলিশ সুপার জানান, সকালে পরিবারের তরফে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নামে এক জন পুলিশে খবর দেন। পুলিশও খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে যায়। গিয়ে দেখে, দরজা ভিতর থেকে বন্ধ। তার পরে দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে আশিসের দেহ উদ্ধার হয়। গোটা প্রক্রিয়ার ভিডিয়োগ্রাফি করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন বুন্দেশ।

    পুলিশ সুপার বলেন, ‘একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়েছে। তাতে লেখা রয়েছে, আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। সুইসাইড নোটটি ওঁর কি না, সেটা বিশেষজ্ঞদের দিয়ে পরীক্ষা করে দেখা হবে। পরিবারের তরফ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও অভিযোগ নেই। পুলিশ একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করেছে। দেহটি রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।’ বুন্দেশ আরও বলেন, ‘ওঁর (আশিসের) বিরুদ্ধে পুলিশে কোনও অভিযোগ ছিল বলে আমার জানা নেই। ওঁকে কোনও নোটিসও করা হয়নি।’

    প্রসঙ্গত, পুলিশ সূত্রে খবর, আশিসের যে সুইসাইড নোটটি উদ্ধার হয়েছে, তাতে অপপ্রচার নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেওয়া হয়েছে। লেখা হয়েছে, ‘টিআরডিএ (তারাপীঠ রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদ)-তে জেনারেল মিটিং ছাড়া আর কোনও দায়িত্ব ছিল না। আমি টেন্ডার কমিটিতে ছিলাম না। আমার চেক পাওয়ার ছিল না। আমি প্ল্যান পাশ বা নো অবজেকশন সার্টিফিকেট ইস্যুর ব্যাপারেও ছিলাম না। আমার সঙ্গে এ বিষয়ে কোনও দিন কেউ আলোচনা করেননি।’ এ-ও লেখা হয়েছে, ‘আমাকে ম্যালাইন (ভাবমূর্তি নষ্ট করা) করার জন্য যা সব করা হল, তাকে ধিক্কার জানাই। আজ তাই মনে হচ্ছে, রাজনীতিতে আসাটাই ভুল হয়েছে। আমার বংশের ছেলেদের রাজনীতি না করার পরামর্শ দিচ্ছি। ওরা ওদের নিজ নিজ কাজের মধ্যে থাক।’

    অপপ্রচারের বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। এক্স হ্যান্ডেলে দীর্ঘ বার্তায় তিনি লিখেছেন, ‘পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার তথা প্রাক্তন বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মর্মান্তিক প্রয়াণ কেবল হৃদয়বিদারকই নয়। রাজনীতি ও সাংবাদিকতার একটি নির্দিষ্ট সীমারেখা থাকা উচিত বলে যাঁরা বিশ্বাস করেন, তাঁদের সকলের বিবেকই নড়ে যাওয়া উচিত এই ঘটনায়।’ তাঁর সংযোজন, ‘ওঁর (আশিসের) সুইসাইড নোট ধারাবাহিক অপপ্রচার নিয়ে গুরুতর ও উদ্বেগজনক প্রশ্ন তুলে ধরেছে। সে সব ওঁকে সহ্য করতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন। বিজেপি এবং সংবাদমাধ্যমের একাংশকে অবশ্যই এই পরিণতি নিয়ে চিন্তাভাবনা করতে হবে, যেখানে সত্য প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগেই অভিযোগকে বাড়িয়েচাড়িয়ে দেখানো হয়, সম্মান বা মর্যাদার কথা না ভেবে জনসমক্ষে কোনও ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করে দেওয়া হয়।’

    (তথ্য সহায়তা: অর্ঘ্য ঘোষ)

  • Link to this news (এই সময়)