• দিল্লিতে ককরোচদের ধর্নায় ছিলেন বাঁকুড়ার হাফিজ, তাঁর বাবাকে পিটিয়ে মারার অভিযোগ! শুভেন্দু বললেন...
    এই সময় | ১৭ আগস্ট ২০২৬
  • ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) সমর্থনে দিল্লিতে গিয়েছিলেন বাঁকুড়ার যুবক শেখ আব্দুল হাফিজ। অভিযোগ, সেই রোষেই তাঁকে এবং তাঁর বাবাকে মারধর করে । শনিবার রাতে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে মৃত্যু হয় হাফিজের বাবা শেখ মহম্মদ মাফিকের (৫০)। এই ঘটনায় বিজেপির স্থানীয় পাঁচ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল CJP সমর্থক হাফিজের। যদিও এ নিয়ে রবিবার নবান্ন সভাঘরের সাংবাদিক সম্মেলন থেকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বাঁকুড়ার ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ। FIR কপিতে বিজেপি কর্মীর উল্লেখ নেই। দুষ্কৃতী বলে চিহ্নিত করা হয়েছে পাঁচ জনকে। তার মধ্যে তিনজন ইতিমধ্যে গ্রেপ্তারও হয়েছে। যদিও বিকেলে ইন্দাসের ঘটনা নিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কৃশানু রায় জানান, এখনও ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ দিন ধৃতদের বিষ্ণুপুর মহকুমা কোর্টে তোলা হয়েছে।

    এই ঘটনার নিন্দা করে ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করেন, ‘এটা ভেবে আমার রক্ত টগবগ করে ফুটছে যে, ভালো স্কুলের দাবি জানাতে গিয়ে একজনকে খুন হতে হলো! আব্দুল হাফিজের পরিবারের পাশে CJP আছে। আমরা চুপ থাকব না, আমরা বেটার স্কুলের জন্য লড়াই চালিয়ে যাব।’

    বাঁকুড়া জেলার ইন্দাস থানার কড়িশুন্ডা গ্রামের যুবক শেখ আব্দুল হাফিজ। ১৯ জুলাই তিনি দিল্লি যান নিট কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে ককরোচ পার্টির ডাকা ধর্নায় যোগ দিতে। যন্তর মন্তরেই ছিলেন ২৫ জুলাই পর্যন্ত। এর পরে ইন্দাসের বাড়িতে ফেরেন। এর পর থেকেই দিল্লিতে যাওয়া নিয়ে হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছিল বলে দাবি হাফিজের। সে সময়ে তিনি থানায় মৌখিক ভাবে বিষয়টি জানান বলেও দাবি করেছেন। পুলিশ নিরাপত্তার দিকটি দেখে নেওয়ারও আশ্বাস দেয়। এরই মধ্যে CJP-র তরফে দেশ জুড়ে ১২ অগস্ট ‘স্কুল ঠিক করো কর্মসূচি’ ঘোষণা হয়। সেই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গ্রামের একটি স্কুলে পানীয় জলের ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা-সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন আব্দুল হাফিজ।

    হাফিজের কথায়, ‘আমারই স্কুল ওটা। সেখানে অন্য কাজে গিয়েছিলাম। স্যরের কাছে জানতে চাই, স্কুলে সব ঠিক আছে কি না। জল, ক্লাসরুম, পঠনপাঠনে কোনও সমস্যা থাকলে জানাতেও বলি। আমি কিন্তু কোনও পার্টির কিছুই বলিনি। বলেছি অসুবিধা হলে বলতে। এর পরে ১৩ অগস্ট গ্রামের বেশ কয়েকজন বিজেপি কর্মী বাড়িতে চড়াও হন। আমাকে চড়-থাপ্পড় মারার পাশাপাশি শাবল দিয়ে আঘাত করেন। কোনওক্রমে ঘরের ভিতরে ঢুকে পড়ি। বাবা আমাকে বাঁচাতে এলে, বাবাকেও মারধর করা হয়।’

    ঘটনার খবর পেয়ে ইন্দাস থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত শেখ মহম্মদ মাফিককে উদ্ধার করে ইন্দাস হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় ১৫ অগস্ট শনিবার সকালে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে রেফার করা হয়। শনিবার রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ সেখানেই মৃত্যু হয়। হাফিজের দাবি, তাঁকে নানা ভাবে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। ফোন থেকে জোর করে ভিডিয়োও ডিলিট করানো হয়। শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন করায়, তাঁর বাবাকে প্রাণ দিতে হলো বলেও দাবি হাফিজের।

    ইন্দাস থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন মৃতের স্ত্রী। রবিবার দুপুরে বাঁকুড়ার ইন্দাস থানায় হাজির হয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন মৃত শেখ মহম্মদ মাফিকের স্ত্রী হাসিনা বেগম। অভিযোগ পেতেই FIR-এ থাকা ৩ জন-সহ মোট ৮ জনকে গ্রেপ্তার করে ইন্দাস থানার পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। এ দিন হাফিজের পাশে দাঁড়াতে কলকাতা থেকে যান সিজেপি নেতা দেদীপ্য গঙ্গোপাধ্যায়।

    এই ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার বাঁকুড়ায় প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে সিজেপি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘একটা ঘটনা ঘটেছে। এর সঙ্গে দিল্লির কোনও যোগ আছে কি না খতিয়ে দেখতে হবে। FIR-এ বিজেপির নাম বলা নেই। দুষ্কৃতী বলা আছে। গ্রেপ্তারও হয়েছে যাদের বিরুদ্ধে FIR। আইনের শাসন চলেছে এখানে। দ্রুত তদন্ত হয়েছে, বাকিটাও হবে। কড়া তদন্ত হবে। আর পিসফুল প্রোটেস্ট করতেই পারে। ওয়েলকাম। কলকাতায়ও তো হয়েছে। ডেমোক্রেটিক কান্ট্রি। যে কেউ প্রতিবাদ করতেই পারে।’

  • Link to this news (এই সময়)