‘নালসার’ পর আরও এক আইন কলেজ, সমাবর্তনে প্রধান বিচারপতিকে আমন্ত্রণে আপত্তি শিক্ষার্থীদের
প্রতিদিন | ১৭ আগস্ট ২০২৬
সমাবর্তনে প্রধান বিচারপতিকে আমন্ত্রণ জানানোয় প্রতিবাদ করেন হায়দরাবাদের আইন বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা। ফের একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি। এবার ভারতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় আইন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘ন্যাশনাল ল স্কুল অফ ইন্ডিয়া ইউনিভার্সিটি’ (এনএলএসআইইউ)-র বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আসন্ন সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তকে আমন্ত্রণে আপত্তি করলেন। একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যান মানান কুমার মিশ্রাকে আমন্ত্রণেও আপত্তি জানালেন পড়ুয়ারা।
শনিবার এক চিঠিতে এনএলএসআইইউ-এর বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা হায়দরাবাদের নালসার-এর শিক্ষার্থীদের প্রতি “নিঃশর্ত সংহতি” প্রকাশ করেন। পাশাপাশি ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যানের নির্দেশিকার (যা পরে তুলে নেওয়া হয়) সমালোচনা করেন। এইসঙ্গে তাঁদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতির আমন্ত্রণের সিদ্ধান্তেরও সমালোচনা করেন।
ন্যাশনাল ল স্কুল অফ ইন্ডিয়া ইউনিভার্সিটির প্রতিবাদী শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, বিষয়টি কেবল সমাবর্তন অনুষ্ঠানে কে উপস্থিত থাকছেন তা নয়, বরং ভারতের শীর্ষস্থানীয় ল স্কুলগুলোর শিক্ষার্থীরা তাঁদের পেশাগত ভবিষ্যতের ওপর কোনও নেতিবাচক প্রভাব বা ভয় ছাড়াই প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠান ও সরকারি কর্তাদের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করার স্বাধীনতা পাবে কি না, সেটিই এখানে মূল প্রশ্ন।
প্রসঙ্গত, হায়দরাবাদের ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অফ লিগাল স্টাডিজ অ্যান্ড রিসার্চ ইউনিভার্সিটির সমাবর্তন উৎসবে প্রধান অতিথি হিসাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তকে। এর বিরোধিতা করেন পড়ুয়াদের একাংশ। নেপথ্যে প্রধান বিচারপতির ‘ককরোচ’ মন্তব্য। এই ঘটনার জেরে কড়া সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া (বিসিআই)। এক নির্দেশিকায় বিসিআই জানিয়েছিল, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হায়দরাবাদের আইন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৬ সালের কোনও স্নাতককে কোনও রাজ্যের বার কাউন্সিলে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হবে না। যদিও কয়েক ঘণ্টা পরেই এই সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়।
খোদ প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তও বিসিআইয়ের সিদ্ধান্তে উষ্মা প্রকাশ করেন। এই বিষয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, “এটি (ছাত্রদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা) একেবারেই অনভিপ্রেত। আমিও একসময় ছাত্র ছিলাম। সক্রিয়ভাবে আন্দোলনেও অংশ নিয়েছিলাম। ঘটনাটি আমার ও শিক্ষার্থীদের মধ্যের বিষয়। এতে হস্তক্ষেপ করার তারা (বিসিআই) কে?” এইসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টও বিসিআই-এর জারি করা বিজ্ঞপ্তির বিষয়ে তাদের কাছে জবাব চায়। যদিও প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে আরও একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আপত্তির পর বিষয়টি কোনদিকে মোড় নেয় সেটাই এখন দেখার।