জম্মু ও কাশ্মীরের কিশতওয়ারের ছাতরুর ঘন জঙ্গল। ঘুটঘুটে অন্ধকারে কয়েক ফুট দূরেরও দৃশ্যমানতা নেই। তার মধ্যেই ক্ষিপ্র গতিতে ছুটছে ‘টাইসন’। জঙ্গি ডেরা খুঁজে বার করতে সেনাবাহিনীর নিখুঁত ‘নেভিগেশন’ এই সারমেয়। ফেব্রুয়ারি মাসে সেনাবাহিনীর ‘অপারেশন রক্ষক’-এ খতম হয় তিন জঙ্গি। সন্ধান মেলে তাদের গোপন ডেরার। যদিও জঙ্গিদের ছোড়া গুলিতে আহত হয়েছিল জার্মান শেফার্ড প্রজাতির সেনাকুকুর। তবে সেই অভিযানে আসল ‘হিরো’ ছিল টাইসনই। ৮০তম স্বাধীনতা দিবসে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু সশস্ত্র বাহিনীর ৮৯ জন সদস্যকে ‘মেনশন-ইন-ডিসপ্যাচেস’ (Mention-in-Despatches) সম্মানে ভূষিত করেন। সেই তালিকাতে রয়েছে টাইসনও।
ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কুকুর ও অন্যান্য প্রাণীদের অবদান নতুন নয়। বিস্ফোরক সনাক্তকরণ, সন্দেহজনক লোকেশন খুঁজে বের করা এবং জঙ্গিদের ট্র্যাক করার জন্য এর আগে বহুবার স্নিফার ডগকে ব্যবহার করেছে ইন্ডিয়ান আর্মি। জুম (Zoom), ফ্যান্টম (Phantom), এক্সেল (Axel)-এর মতো বহু সেনাকুকুর দেশের জন্য প্রাণ উৎসর্গ করেছে। তাদের রাষ্ট্রপতি সম্মানও দেওয়া হয়েছে। তবে টাইসন প্রথম জীবিত সেনাকুকুর যে এই স্বাধীনতা দিবসে সম্মানিত হয়েছে।
প্যারা স্পেশাল ফোর্সের সদস্য এই চারপেয়ে। অস্ত্র বহনে অক্ষম হলেও নিজের ঘ্রাণশক্তি আর বুদ্ধি দিয়ে সেনাদলের পথপ্রদর্শক হয়েছিল টাইসন, যা দেশের সামরিক ইতিহাসে বীরত্বের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে রইল।
উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারি মাসে ছাতরুর ঘন জঙ্গলে একটি অপারেশন চালায় সেনাবাহিনী। গোপন সূত্রে খবর আসে, ওই জঙ্গলের ভিতর একটি মাটির ঘরে লুকিয়ে ছিল জঙ্গিরা। তাদের সঠিক অবস্থান খুঁজে বের করা মুশকিল হয়ে পড়েছিল। সেখানে জঙ্গিদের আস্তানার লোকেশন ট্র্যাকার হিসেবে কাজে লাগানো হয়েছিল টাইসনকে। এই অভিযানে জইশ-ই-মহম্মদ জঙ্গিগোষ্ঠীর কমান্ডার সাইফুল্লাহ বালোচ-সহ মোট ৩ জন শীর্ষ জঙ্গি খতম হয়। জঙ্গিদের গুলিতে অপারেশনেই মাঝেই চোট পায় টাইসন। উধমপুরের সেনা হাসপাতালে বিমানে করে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। সেখানে তাকে সুষ্ঠ করে তোলা হয়।
১. টাইসন কে?
টাইসন ভারতীয় সেনাবাহিনীর একটি জার্মান শেফার্ড সেনাকুকুর, যে প্যারা স্পেশাল ফোর্সের সঙ্গে কাজ করে।
২. টাইসন কোন অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়?
কিশতওয়ারের ছাতরুর ঘন জঙ্গলে সেনাবাহিনীর ‘অপারেশন রক্ষক’-এ জঙ্গিদের গোপন ডেরা খুঁজে বের করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয় টাইসন।
৩. টাইসন কী ভাবে আহত হয়েছিল?
অভিযানের সময় জঙ্গিদের ছোড়া গুলিতে আহত হয় টাইসন। পরে তাকে উধমপুরের সেনা হাসপাতালে বিমানে করে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করা হয়।
৪. টাইসন কী সম্মান পেয়েছে?
৮০তম স্বাধীনতা দিবসে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু টাইসনকে ‘মেনশন-ইন-ডিসপ্যাচেস’ সম্মানে ভূষিত করেন।
৫. টাইসন কেন বিশেষ সম্মান পেল?
গুলি লাগার পরও পিছিয়ে না গিয়ে ঘ্রাণশক্তি ও দক্ষতার মাধ্যমে জঙ্গিদের গোপন অবস্থান শনাক্ত করতে সাহায্য করেছিল টাইসন। সেই সাহসিকতার স্বীকৃতিতেই তাকে এই সম্মান দেওয়া হয়েছে।