• ভাদু শেখ হত্যাকাণ্ডে বড় সাফল্য সিবিআইয়ের, চার বছর পরে মুম্বই থেকে গ্রেপ্তার অন্যতম অভিযুক্ত মাসাদ শেখ
    এই সময় | ১৭ আগস্ট ২০২৬
  • বীরভূমের তৃণমূল নেতা তথা বড়শাল পঞ্চায়েতের উপপ্রধান ভাদু শেখ হত্যাকাণ্ডে বড়সড় সাফল্য পেল সিবিআই। ঘটনার পরেই অন্যতম অভিযুক্ত মাসাদ শেখ গা ঢাকা দেন বলে অভিযোগ। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। অবশেষে ঘটনার চার বছর পরে গত শুক্রবার তাঁকে মুম্বই থেকে পাকড়াও করলেন তদন্তকারীরা। ট্রানজিট রিমান্ডে মাসাদকে বর্ধমানে নিয়ে আসা হয়েছে।

    ধৃত: মসাদ শেখ

    অভিযোগ: ভাদু শেখ খুনের অন্যতম অভিযুক্ত

    গ্রেপ্তার: মুম্বই থেকে

    ঘটনার বছর: ২০২২

    ভাদু শেখ খুন: ২১ মার্চ, ২০২২

    বগটুইকাণ্ড: ভাদু খুনের পর আগুনে শিশু ও মহিলা-সহ ১০ জনের মৃত্যু

    তদন্ত: সিবিআই

    বর্তমান অবস্থা: মসাদকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে

    পরবর্তী শুনানি: সোমবার বর্ধমানের তৃতীয় জেলা ও দায়রা আদালতে হাজির করা হবে

    মাসাদের বাড়ি বগটুই গ্রামে। অভিযোগ, ভাদু শেখের খুনের পরেই গা ঢাকা দিয়েছিলেন তিনি। গোপন সূত্রে সিবিআই জানতে পারে, মুম্বইয়ের ডংরি থানা এলাকার ওয়াদিবন্দরে রয়েছেন মাসাদ। সঙ্গে সঙ্গে শুরু শুরু হয় অভিযান। খানাতল্লাশি চালিয়ে টোবাকো গলি থেকে পাকড়াও করা হয় ভাদু শেখ হত্যাকাণ্ডের অন্যতম অভিযুক্ত মাসাদকে।

    গ্রেপ্তারির পরে তাঁকে মুম্বইয়ের আদালতে পেশ করে ট্রানজিট রিমান্ডের আবেদন জানান সিবিআই আধিকারিকরা। সেই আবেদন মঞ্জুর করে আদালত। শনিবার তাঁকে রাজ্যে এনে বর্ধমানের তৃতীয় জেলা ও দায়রা আদালতে পেশ করার কথা ছিল। কিন্তু ১৫ অগস্ট স্বাধীনতা দিবসের ছুটি থাকায় দায়রা আদালতের পরিবর্তে বর্ধমানের সিজেএম আদালতে পেশ করা হয় মসাদকে। সেখানে তাঁকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতের নির্দেশ দেন সিজেএম। একই সঙ্গে ধৃতকে আগামী সোমবার তৃতীয় জেলা ও দায়রা আদালতে পেশ করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

    সিবিআইয়ের তদন্ত অনুযায়ী, ২০২২-এর ২১ মার্চ বগটুই মোড়ের কাছে একটি চায়ের দোকানের সামনে মোবাইলে কথা বলছিলেন ভাদু শেখ। সেই সময় বাইকে চেপে এসে কয়েক জন দুষ্কৃতী তাঁর উপরে হামলা চালায় বলে অভিযোগ। প্রথমে ভাদুকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় দুষ্কতীরা। তার পরে কয়েকটি বোমা ছুড়ে ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেয়। রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন ভাদু। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে রামপুরহাট হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

    ভাদুর মৃত্যুর পরে তাঁর ভাই বিকির আলি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। এর পরেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বগটুই। ওই রাতেই গ্রামের একাধিক বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনায় শিশু ও মহিলা-সহ মোট ১০ জনের মৃত্যু হয়। ভাদু শেখ খুন এবং বগটুইয়ের গণহত্যা—দুটি পৃথক মামলা রুজু করে শুরু হয় তদন্ত। প্রথমে তদন্তভার দেওয়া হয়েছিল সিটকে। পরে কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে দু’টি মামলাই যায় সিবিআইয়ের হাতে।

    ভাদু শেখ খুনের মামলায় ২০২২-এর ২০ জুন পলাশ খান ওরফে ফয়জল খান, সঞ্জু শেখ ওরফে নূর ইসলাম শেখ, সফি শেখ এবং মাহী শেখের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করে সিবিআই। তাঁদের বিরুদ্ধে পরিকল্পনা করে খুন, বিস্ফোরক এবং অস্ত্র আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলা করা হয়।

    এর পর ১৩ নভেম্বর সোনা শেখ ও ছোট লালন শেখ ওরফে কামরুল শেখের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত চার্জশিট পেশ করা হয়। ২০২৩-এর ১৯ সেপ্টেম্বর নিউটন শেখ ওরফে আসামুল হক, মসাদ শেখ এবং শেরা শেখের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় তথা চূড়ান্ত চার্জশিট পেশ করে তদন্তকারী সংস্থা।

    পরে হাই কোর্টের নির্দেশে বগটুইয়ের দু’টি মামলাই রামপুরহাট আদালত থেকে বর্ধমান আদালতে স্থানান্তরিত করা হয়। ২০২৪-এর ৬ জুন সাত জনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে আদালত। সেই সময় মাসাদকে ঘোষিত অপরাধী ঘোষণা করা হয়েছিল। এত দিন ধরে ফেরার থাকার পর অবশেষে মুম্বই থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করল সিবিআই।

    অন্য দিকে, বগটুই গণহত্যার মামলাটিও বর্ধমানের চতুর্থ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা আদালতে বিচারাধীন। ওই মামলায় ২৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করেছে সিবিআই। তাঁদের মধ্যে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। ২২ জনকে আগেই গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। কয়েক মাস আগে কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিট থেকে রোহন শেখ ওরফে কিসমত শেখকে পাকড়াও করা হয়। রোহন বগটুইকাণ্ডের অন্যতম অভিযুক্ত লালন শেখের ছেলে। সিবিআই হেফাজতে থাকাকালীন লালনের রহস্যমৃত্যু হয়েছিল।

    তদন্তকারীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গণহত্যার মামলায় চার্জশিটে নাম থাকা ২৩ জনকে এখনও পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আরও দু’জন অভিযুক্ত এখনও অধরা। আর ভাদু শেখ খুনের মামলায় দীর্ঘদিনের পলাতক মাসাদ শেখের গ্রেপ্তারিকে তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবেই দেখছে সিবিআই।

    প্রশ্ন: বগটুইকাণ্ডে মাসাদ শেখ কে?

    উত্তর: মাসাদ শেখ বগটুই গ্রামের বাসিন্দা। তৃণমূল নেতা তথা বড়শাল পঞ্চায়েতের উপপ্রধান ভাদু শেখ খুনের মামলায় তাঁকে অন্যতম অভিযুক্ত করেছে সিবিআই।

    প্রশ্ন: মসাদ শেখকে কোথা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে?

    উত্তর: মুম্বইয়ের ডংরি থানা এলাকার ওয়াদিবন্দর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। টোবাকো গলি এলাকায় তাঁর সন্ধান পেয়েছিলেন তদন্তকারীরা।

    প্রশ্ন: ভাদু শেখকে কবে খুন করা হয়েছিল?

    উত্তর: ২০২২ সালের ২১ মার্চ বগটুই মোড়ের কাছে একটি চায়ের দোকানের সামনে ভাদু শেখকে খুন করা হয় বলে সিবিআইয়ের তদন্তে উঠে এসেছে।

    প্রশ্ন: ভাদু শেখের মৃত্যুর পর বগটুইয়ে কী ঘটেছিল?

    উত্তর: ভাদু শেখ খুনের পর ওই রাতেই বগটুই গ্রামের একাধিক বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। ঘটনায় শিশু ও মহিলা-সহ ১০ জনের মৃত্যু হয়।

    প্রশ্ন: বগটুইকাণ্ডের তদন্ত কে করছে?

    উত্তর: প্রথমে রাজ্য পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট তদন্ত করেছিল। পরে কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে ভাদু শেখ খুন এবং বগটুইয়ের অগ্নিকাণ্ড—দুই মামলারই তদন্তভার নেয় সিবিআই।

    প্রশ্ন: মসাদকে আদালত আগে ঘোষিত অপরাধী ঘোষণা করেছিল কেন?

    উত্তর: ভাদু শেখ খুনের মামলায় চার্জশিটে নাম থাকা সত্ত্বেও মসাদ দীর্ঘদিন ফেরার ছিলেন। ২০২৪ সালের ৬ জুন আদালত তাঁকে ঘোষিত অপরাধী ঘোষণা করে।

    প্রশ্ন: মসাদকে এখন কোথায় রাখা হয়েছে?

    উত্তর: মুম্বই থেকে ট্রানজিট রিমান্ডে বর্ধমানে আনার পর তাঁকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। সোমবার তাঁকে বর্ধমানের তৃতীয় জেলা ও দায়রা আদালতে পেশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    প্রশ্ন: বগটুই গণহত্যার মামলার কী অবস্থা?

    উত্তর: বর্ধমানের চতুর্থ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা আদালতে মামলাটির বিচার চলছে। ওই মামলায় ২৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করেছে সিবিআই। তাঁদের মধ্যে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ২২ জনকে আগেই গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

  • Link to this news (এই সময়)