• শিক্ষকতার বাইরের পরিচয় থাকত কলেজের বাইরেই, প্রাক্তন শিক্ষকের স্মৃতিচারণা পড়ুয়াদের
    এই সময় | ১৭ আগস্ট ২০২৬
  • অর্ঘ্য ঘোষ, রামপুরহাট

    এক সময়ে বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার বা মন্ত্রী তিনি ছিলেন ঠিকই। কিন্তু সে সব ছাপিয়ে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন একজন শিক্ষক। ছাত্রদরদী, কলেজের উন্নয়নের স্বার্থে নিঃস্বার্থ শিক্ষক। রবিবার তাঁর মৃত্যুতে পরিবার ও পার্টির লোকজন তো বটেই, ভেঙে পড়েছেন আশিসের এক সময়ের সহকর্মী-ছাত্ররাও।

    আশিসের প্রাক্তন সহকর্মী, রামপুরহাট কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) তপনকুমার ভট্টাচার্য বলেন, 'খুব ছাত্রদরদী ছিলেন। রাজনীতি ও মন্ত্রিত্ব সামলেও কলেজ করেছেন। তাঁর জন্য কলেজের অনেক উন্নতি হয়েছে। কলেজ পরিচালনায় ওঁর সহযোগিতা অনস্বীকার্য।'

    বাংলার শিক্ষক আশিসের প্রাক্তন ছাত্র, মারগ্রামের সুরজ খান, নারায়ণপুরের দীনেশ দাস-রা বলেন, 'নেতা–মন্ত্রী হলেও তিনি সর্বাগ্রে ছিলেন শিক্ষক। শিক্ষকতার বাইরের পরিচয়টুকু কলেজের বাইরেই রেখে আসতেন। পড়াশোনার ব্যাপারে কোনও দরকার হলেই তাঁকে পেয়েছি। আজকের দিনে এমন ব্যক্তিত্ব দুর্লভ!'

    সেই দুর্লভ ব্যক্তিত্বই যে ভিতরে ভিতরে ভেঙে পড়েছিলেন, সেটা বোঝেননি বাড়ির লোকও। অন্য দিনের মতো গল্পগুজব করে খাওয়া–দাওয়া সেরে যে যার ঘরে ঘুমোতে গিয়েছিলেন শনিবার। রবিবার সাতসকালে উঠে রামপুরহাটের বাড়ি লাগোয়া পার্টি অফিসে আলো জ্বলতে দেখে প্রশান্ত বন্দ্যোপাধ্যায় ভেবেছিলেন, হয়তো মর্নিং ওয়াকে বেরিয়েছেন দাদা। কিন্তু ... ঘরে আলো জ্বেলে বেরোবেন কি! তা হলে পড়াশোনা বা অন্য কিছু করছেন? দরজায় ঠেলা দিতেই প্রশান্ত টের পান, ভিতর থেকে শিকল তোলা। কিন্তু সামান্য ফাঁক দিয়ে যে দৃশ্য তাঁর চোখে পড়ে, তা বিশ্বাস হওয়ার নয়। চিৎকার করে ওঠেন তিনি, যা শুনে পরিবারের সদস্যরা চলে আসেন। দরজার ফাঁক দিয়ে দেখেন, ঘরের ভিতরে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে নাইলনের দড়িতে ঝুলছেন বিধানসভার প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার তথা প্রাক্তন মন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়! পায়ের কাছে উল্টে পড়ে রয়েছে একটি চেয়ার। খবর পেয়ে পুলিশ পৌঁছে দরজা ভেঙে তাঁর দেহ উদ্ধার করে। উদ্ধার হয় একটি সুইসাইড নোটও।

    প্রশান্ত বলেন, 'স্বাধীনতা দিবসে অফিসের সামনে জাতীয় পতাকা তুলেছেন। সারা দিন অফিসেই ছিলেন। অনেকে এসেছিলেন, তাঁদের সঙ্গে কথা বলেছেন। রাত ১২টা পর্যন্ত গল্পগুজব করে খেয়ে শুয়ে পড়ি।'

    তাঁর কথায়, 'দাদার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নেই। যাঁরা অভিযোগ করছেন, তাঁরা মিথ্যে বলছেন।' কালীঘাট তৃণমূলের জেলা আহ্বায়ক সৈয়দ সিরাজ জিম্মি বলেন, 'রাজ্য নেতৃত্ব নতুন মুখ খুঁজছিলেন। আশিসদার জায়গায় রামপুরহাটের নতুন মুখ হিসেবে আমি তাঁর ছেলে শতদলের নাম প্রস্তাব করেছিলাম। আশিসদা সে কথা জানতেন না।'

  • Link to this news (এই সময়)