• পুরুলিয়ায় ইস্পাত ও পানীয় জল প্রকল্প উপহার শুভেন্দুর, আজ উদ্বোধনে মুখ্যমন্ত্রী
    এই সময় | ১৭ আগস্ট ২০২৬
  • প্রশান্ত পাল, পুরুলিয়া

    রাজ্যের শিল্প মানচিত্রে যুক্ত হতে চলেছে নয়া মাইলফলক। আজ, সোমবার পুরুলিয়ার রঘুনাথপুরের দুরমুটে 'অমিত মেটালিকস'–এর গ্রিনফিল্ড ইন্টিগ্রেটেড স্টিল প্রজক্টের নির্মাণকাজের সূচনা করবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এ দিনই মানবাজার ১ ব্লকে পৃথক একটি অনুষ্ঠান থেকে 'জাইকা'–র (জাপান ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সি) পানীয় জল সরবরাহ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা করবেন তিনি।

    প্রস্তাবিত চার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে যে ইস্পাত প্রকল্প রঘুনাথপুরে গড়ে উঠতে চলেছে, তার ভূমিপুজো অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত, শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়, পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, পূর্ত এবং জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দপ্তরের মন্ত্রী অজয় পোদ্দার, পরিবহণ ও শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিং, জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দপ্তর এবং অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী নদিয়ারচাঁদ বাউড়ি, শিল্প দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র এবং পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো।

    ১৫১ একর জমির উপরে ক্যাপটিভ পাওয়ার প্লান্ট, ফেরো অ্যালয় এবং স্পঞ্জ আয়রন কারখানা মিলিয়ে এই প্রকল্প গড়ে উঠবে। যার বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা হবে ১.২ মিলিয়ন টন। 'অমিত মেটালিকস' সূত্রে জানানো হয়েছে, প্রকল্পটি পশ্চিমবঙ্গের প্রতি তাঁদের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতির ফসল। প্রকল্পটি আগামী এক হাজার দিনের মধ্যে গড়ে উঠবে বলে আশা কারখানা কর্তৃপক্ষের। তাঁরা জানিয়েছেন, এই বিনিয়োগের ফলে প্রায় পাঁচ হাজার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

    এ দিনই মানবাজার ১ ব্লকের ধানাড়া পঞ্চায়েতের জামদা গ্রামের অদূরে গড়ে ওঠা পানীয় জল প্রকল্পটি উদ্বোধনে করবেন মুখ্যমন্ত্রী। পুরুলিয়ার মানবাজার ১, বরাবাজার, পুরুলিয়া ১, পুঞ্চা, আড়শা ব্লকে তীব্র সঙ্কট রয়েছে পানীয় জলের। এই এলাকাগুলি ছাড়া এই প্রকল্পের জল পৌঁছবে পুরুলিয়া শহরেও।

    ২০১৯-এর ৮ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন সরকার এই প্রকল্পের প্রশাসনিক অনুমোদন দেয়। প্রকল্প রূপায়ণের জন্য ১,২৯৬.২৫ কোটি টাকার চূড়ান্ত অনুমোদন মেলে। যার মধ্যে 'জাইকা'র ঋণ ৮৮৯.০৬ কোটি। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ৪৫৮ মৌজার ৮ লক্ষ ১৩ হাজার ৪০৬ জন মানুষ প্রতিদিন ৮ ঘণ্টা নলবাহিত পানীয় জল পাবেন। জাপানের সংস্থা 'জাইকা'-র আর্থিক সহায়তায় রাজ্য সরকারের জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দপ্তর এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত করেছে।

    মুকুটমণিপুর জলাধারের গভীর থেকে জল তুলে ১.২ কিলোমিটার পাইপলাইনের মাধ্যমে তা অন্য একটি জলাধারে আনা হবে। সেখানে আধুনিক প্রযুক্তিতে পরিশোধিত সেই জল ২৭২ কিলোমিটার দীর্ঘ পরিবাহী নলের মাধ্যমে ৪২টি ওভারহেড ট্যাঙ্কে পৌঁছবে। এই ট্যাঙ্কগুলি থেকে দৈনিক ৬ কোটি ৮০ লক্ষ লিটার জল পৌঁছে দিতে পাতা হয়েছে ১,৫৯৪ কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপলাইন।

    রাজ্যের মন্ত্রী নদিয়ারচাঁদ বাউড়ি বলেন, 'জল জীবন মিশন প্রকল্পের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী মানুষের ঘরে ঘরে পরিস্রুত পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার কথা বলেছেন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে সেই কাজই করা হচ্ছে। আগামী দিনে জেলার বাকি অংশে একই ভাবে এই পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া হবে।'

    এর পাশাপাশি মানবাজার ১ ব্লকের মাধবপুর ফুটবল মাঠে একটি প্রশাসনিক সভা করবেন মুখ্যমন্ত্রী। এই মঞ্চে রাজ্য সরকারের পদস্থ আমলাদের পাশাপাশি 'জাইকা'-র প্রতিনিধিরাও থাকবেন।

  • Link to this news (এই সময়)