• তোলাবাজি: দল থেকে বহিষ্কার, বার্তা শমীকের
    এই সময় | ১৭ আগস্ট ২০২৬
  • এই সময়: বাংলায় প্রথম বিজেপি সরকার একশো দিনে পা দিচ্ছে বুধবার। একশো দিনের কাজের খতিয়ান নিয়ে বিজেপি যখন ঝোড়ো প্রচারে নামতে চলেছে, ঠিক সেই সময়েই দলীয় বিধায়কদের একাংশকে চরম হুঁশিয়ারি দিলেন শমীক ভট্টাচার্য। রবিবার বঙ্গ–বিজেপির সভাপতি স্পষ্ট বুঝিয়ে দিয়েছেন, পরিষদীয় দল সাফসুতরো করার লক্ষ্যে ২০–৩০ জন বিধায়ককে যদি পার্টি থেকে তাড়িয়ে দিতে হয়, তা হলেও অমিত শাহরা আপত্তি করবেন না। বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকে গত তিন মাসে একাধিকবার বিজেপি–র নেতা–কর্মীদের একাংশের উদ্দেশে সতর্কবার্তা শোনা গিয়েছে তাঁর মুখে। কিন্তু এ দিন শমীককে যেমন রণংদেহি মেজাজে দেখা গিয়েছে, সাম্প্রতিক অতীতে তেমনটা হয়নি বলে পদ্ম–নেতাদের দাবি।

    রবিবার নিউ টাউনের বিশ্ববাং‍লা কনভেনশন সেন্টারে বিজেপি–র প্রশিক্ষণ শিবিরে শমীক ছাড়াও হাজির ছিলেন পদ্মের দুই শীর্ষ কেন্দ্রীয় নেতা সুনীল বনসল এবং শিবপ্রকাশ। এ ছাড়া বিভিন্ন জেলার সভাপতি, বহু বিধায়ক এবং বেশ কয়েকজন মন্ত্রী এবং রাজ্য পদাধিকারীকেও এ দিন রুদ্ধদ্বার প্রশিক্ষণ শিবিরে ঢুকতে দেখা যায়। বাংলায় বিজেপি সরকার প্রথম একশো দিনে কী কী কাজ করেছে, তার প্রচার কৌশল চূড়া‍ন্ত করাই ছিল এই প্রশিক্ষণ শিবিরের লক্ষ্য। সূত্রের দাবি, সেই রুদ্ধদ্বার প্রশিক্ষণ শিবিরেই শমীক নিশানা করেন বিজেপি বিধায়কদের একাংশকে।

    পদ্ম শিবিরের অন্দরের খবর, কোনও রাখঢাক না করেই বঙ্গ–বিজেপি সভাপতি সেখানে বলেন, ‘আমাদের পার্টির অনেক বিধায়কের বিরুদ্ধে এখনই ভূরি ভূরি তোলাবাজি আর কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ আসছে। দলীয় শৃঙ্খলা ভাঙার অভিযোগও উঠেছে অন‍েক বিধায়কের বিরুদ্ধে। এ সব কিন্তু বরদাস্ত করা হবে না।’ অতীতেও বিজেপির বিভিন্ন রুদ্ধদ্বার বৈঠকে শমীক, বনসলরা সতর্ক করেছেন বিধায়কদের একাংশকে। কিন্তু তারপরেও তাঁদের অনেকের টনক নড়েনি বলে মনে করছেন পদ্ম–নেতৃত্ব। এ বার তাই এক রকম লাস্ট ওয়ার্নিং দিলেন শমীক।

    সূত্রের খবর, বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারের সভামঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি সবাইক স্মরণ করিয়ে দেন, ২০–৩০ জন বিধায়ককে তাড়িয়ে দিলেও সরকার অটুট থাকবে। শমীক বলেন, ‘আমাদের ২০৮ জন বিধায়ক। ২০–৩০ জন বিধায়ক যদি কমেও যায়, সরকারের কোনও ক্ষতি হবে না। আমার সঙ্গে অমিত শাহের কথা হয়েছে এ বিষয়ে।’ সরাসরি কারও নাম না–করে বিধায়কদের একাংশের উদ্দেশে তাঁর সংযোজন, ‘এখনও সময় আছে, শুধরে যান। না হলে অভিযুক্ত বিধায়কদের সাসপেন্ড করা হবে।’

    ওই রুদ্ধদ্বার সভায় শমীক বিধায়কদের মনে করিয়ে দেন, বিধানসভা ভোটে পদ্মের যে প্রার্থীরা জিতেছেন, তাঁরা কেউই নিজের শক্তিতে জেতেননি। দল সর্বশক্তি নিয়ে পাশে ছিল বলেই তাঁরা জয়ের মুখ দেখেছেন। শমীক বলেন, ‘দল কী ভাবে আপনাদের হয়ে লড়াই করেছে, তা আপনারা নিজেরাও অনেকে জানেন না। ভাববেন না, নিজের জোরে ভোটে জিতেছেন। দল ছিল, তাই জিতেছেন। তাই এমন কিছু করবেন না, যাতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’ শমীকের দাবি, ‘কয়েকজন আবার ভোটে জিততে না–পারলেও তোলাবাজির দোকান খুলে বসেছেন। পার্টির কাছে সব খবর আছে।’

    বিজেপি সূত্রের দাবি, গত একশো দিনে বিজেপি সরকার কী কী কাজ করেছে, তার খতিয়ান তৈরির পাশাপাশি গত একশো দিনে বিজেপির কোন বিধায়ক কোন কোন জায়গা থেকে তোলা আদায়ের চেষ্টা করেছেন, সেই খতিয়ানও গোপনে তৈরি করেছেন দলের রাজ্য নেতৃত্ব। নেতৃত্বের নিষেধাজ্ঞায় কর্ণপাত না করে কিছু বিজেপি বিধায়ক আবার তৃণমূলের দাগি কাউন্সিলারদের কয়েকজনকে বিজেপির মঞ্চে ডেকে নিচ্ছেন, যা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন পার্টির নিচুতলার নেতা–কর্মীরা। এ সবের জন্যও যে দল কড়া পদক্ষেপ করতে পারে, সেটাও বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারের সভা থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন বিজেপি–র রাজ্য সভাপতি।

    বিজেপি বাংলায় ক্ষমতায় আসার পরে তোলাবাজি, দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের মতো বিভিন্ন ঘটনায় অন্তত আড়াইশো জন নেতা–কর্মীকে শো–কজ় করেছেন নেতৃত্ব। জনা পঁচিশেককে দল থেকে সাসপেন্ডও করা হয়েছে। এমনকী, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জনতার দরবারেও একাধিক বিজেপি বিধায়কের নাম করে বিভিন্ন অভিযোগ জমা পড়েছে। সে সব নিয়ে যেমন প্রশাসন যেমন সতর্ক হচ্ছে, তেমনই দলও যে কড়া নজর রাখছে— সেটাই এ দিন স্পষ্ট করে দিয়েছেন শমীক। তাঁর বক্তব্যের মূল নির্যাস হলো— আগামী দিনে এমন অভিযোগের ক্ষেত্রে কোনও বিধায়কের বিরুদ্ধে কঠোরতম পদক্ষেপ করতেও দল দ্বিধা করবে না এবং খোদ অমিত শাহের মতো শীর্ষ নেতৃত্বকেও এ নিয়ে অবহিত করা হয়েছে।

    যদিও কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষের বক্তব্য, ‘এটা শমীক ভট্টাচার্য হয়তো মন থেকেই বলছেন। কিন্তু বিজেপি–র কাজকর্মে তার প্রতিফলন ঘটছে না। নিজের দলের ২০–২৫ জন চলে গেলে উনি অসুবিধা নেই বলছেন, আবার একইসঙ্গে তৃণমূলে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে এমন ২০–২৫ জনকে বুকে টেনে নিচ্ছেন। বিজেপি যে ভাবে চলছে, তার সঙ্গে ওঁর কথার সাযুজ্য নেই।’

  • Link to this news (এই সময়)