মধুচন্দ্রিমায় গিয়ে ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা নববধূর। স্বামীর বিরুদ্ধে নির্যাতন ও খুনের চেষ্টার অভিযোগ তুললেন উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুরের এক মহিলা। অভিযোগ, হানিমুনে গিয়ে তাঁর পিরিয়ড শুরু হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে স্বামী তাঁকে বেধড়ক মারধর করেন। শুধু তাই নয়, তাঁকে শ্বাসরোধ করে খুনের চেষ্টাও করা হয় বলে অভিযোগ। মহিলার চিৎকার শুনে হোটেলের কর্মীরা ছুটে এসে তাঁকে উদ্ধার করেন বলে দাবি অভিযোগকারিণীর। এই ঘটনায় শুধু মহিলার স্বামী নয়, শাশুড়ি এবং ননদের বিরুদ্ধে FIR দায়ের করেছে পুলিশ।
জানা গিয়েছে, হানিমুনের জন্য আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে বেড়াতে গিয়েছিলেন ওই দম্পতি। অভিযোগকারিণীর দাবি, তাঁর স্বামী দিল্লির বাসিন্দা নিখিল মিশ্র। ২০২৩ সালের ৩০ মে দিল্লির একটি ম্যারেজ লনে তাঁদের বিয়ে হয়। বিয়ের পরে ২ জুন তিনি শ্বশুরবাড়িতে চলে যান। অভিযোগ, বিয়ের আগে থেকেই শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁর পরিবারের দেওয়া সামগ্রী নিয়ে আপত্তি তুলেছিলেন এবং ব্র্যান্ডেড জিনিসপত্র দেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন।
মহিলার আরও অভিযোগ, তাঁর বাবা প্রায় ২০ লক্ষ টাকা নগদ, একটি গাড়ি এবং প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা মূল্যের অন্যান্য সামগ্রীও পণ হিসেবে দিয়েছিলেন। কিন্তু বিয়ের পরেও সেই সমস্ত জিনিস নিয়ে তাঁকে নিয়মিত কটূক্তি ও মানসিক ভাবে হেনস্থা করা হতো বলে অভিযোগ।
বিয়ের প্রায় এক মাস পরে, ৪ জুলাই ২০২৩-এ ওই দম্পতি হানিমুনের উদ্দেশে আন্দামানে যান। সেখানে পৌঁছনোর পরেই মহিলার পিরিয়ড অর্থাৎ ঋতুস্রাব শুরু হয়। অভিযোগ, তাঁর প্রচণ্ড পেটে ব্যথা এবং অতিরিক্ত রক্তপাত হচ্ছিল। বিষয়টি জানার পরেই স্বামী মারাত্মক রেগে যান।
মহিলার অভিযোগ, তাঁর স্বামী প্রশ্ন করেন কেন তিনি আগে থেকে পিরিয়ডের কথা জানাননি। এর পরেই তাঁকে ‘মুড নষ্ট করে দেওয়ার’ জন্য দায়ী করে মারধর শুরু করেন। চড়, ঘুষি এবং লাথি মারার পাশাপাশি তাঁকে শ্বাসরোধ করারও চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ করেছেন ওই মহিলা। তাঁর চিৎকার শুনে হোটেলের কর্মীরা ঘরে এসে পরিস্থিতি সামাল দেন এবং তাঁকে রক্ষা করেন বলে অভিযোগ।
ওই মহিলার অভিযোগ, স্বামী তাঁর বাবাকে ফোন করে তাঁকে নিয়ে যাওয়ার জন্য বলেন। মহিলার দাবি, স্বামী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন যে তিনি আর তাঁর সঙ্গে থাকতে চান না।
দিল্লিতে ফেরার পরে ওই মহিলা শাশুড়ি এবং ননদকে হানিমুনের ঘটনার কথা জানান। কিন্তু তাঁর অভিযোগ, তাঁরা তাঁকে সাহায্য করার পরিবর্তে মানসিক ভাবে নির্যাতন করতে শুরু করেন। শেষ পর্যন্ত বিয়ের মাত্র ৪৫ দিনের মাথায়, ১৪ জুলাই ২০২৩-এ তাঁকে শ্বশুরবাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
এর পরে সমস্যা মেটাতে তাঁর বাবা দিল্লিতে গেলে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁকেও অপমান করেন বলে FIR-এ দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি পণ হিসেবে দেওয়া সামগ্রী ফেরত দেওয়া হয়নি। একইসঙ্গে স্বামী তাঁকে হুমকি দিয়ে মেসেজও করতেন বলে অভিযোগ করেছেন মহিলা।
অভিযোগকারিণীর দাবি, পুলিশের কাছে একাধিকবার গেলেও প্রথম দিকে তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে FIR দায়ের করা হয়নি। শেষ পর্যন্ত গোরক্ষপুরের SSP ড. কৌস্তুভের হস্তক্ষেপে ১৫ অগস্ট ২০২৬-এ মামলাটি নথিভুক্ত হয়।
রামগড়তাল থানার আধিকারিক শ্যামানন্দ রাই জানিয়েছেন, মহিলার অভিযোগের ভিত্তিতে ১৫ অগস্ট ২০২৬ তারিখে নিখিল মিশ্র, তাঁর মা এবং বোনের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং সংগৃহীত প্রমাণের উপর ভিত্তি করে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রশ্ন: হানিমুনে ওই মহিলার সঙ্গে কী ঘটেছিল?
উত্তর: অভিযোগ, আন্দামানে হানিমুনে গিয়ে তাঁর পিরিয়ড শুরু হওয়ার পর স্বামী রেগে গিয়ে তাঁকে মারধর করেন এবং শ্বাসরোধ করে খুনের চেষ্টা করেন। তাঁর চিৎকার শুনে হোটেলের কর্মীরা এসে তাঁকে উদ্ধার করেন বলে অভিযোগ।
প্রশ্ন: কেন স্বামী ওই মহিলাকে মারধর করেছিলেন বলে অভিযোগ?
উত্তর: মহিলার অভিযোগ, হানিমুনে তাঁর পিরিয়ড শুরু হওয়ায় স্বামী ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং তাঁকে ‘মুড নষ্ট করে দেওয়ার’ জন্য দায়ী করেন।
প্রশ্ন: অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আর কী অভিযোগ রয়েছে?
উত্তর: পণ হিসেবে দেওয়া সামগ্রী নিয়ে আপত্তি, কটূক্তি, মানসিক নির্যাতন এবং পরে তাঁকে শ্বশুরবাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগও করেছেন মহিলা।
প্রশ্ন: ঘটনায় কার বিরুদ্ধে FIR হয়েছে?
উত্তর: মহিলার স্বামী নিখিল মিশ্র, তাঁর মা এবং বোনের বিরুদ্ধে FIR দায়ের করা হয়েছে।
প্রশ্ন: কবে FIR দায়ের হয়েছে?
উত্তর: পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ অগস্ট ২০২৬ তারিখে রামগড়তাল থানায় মামলা নথিভুক্ত করা হয়।
প্রশ্ন: ঘটনাটি কবে ঘটেছিল?
উত্তর: অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৪ জুলাই আন্দামানে হানিমুনের সময় ঘটনাটি ঘটে।
প্রশ্ন: পুলিশ কি তদন্ত শুরু করেছে?
উত্তর: হ্যাঁ। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং সংগৃহীত প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।