• অবিরাম বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত পূর্ব মেদিনীপুর, ডুবল রাস্তাঘাট, কন্ট্রোল রুম চালু প্রশাসনের
    এই সময় | ১৭ আগস্ট ২০২৬
  • এক টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত পূর্ব মেদিনীপুরের জনজীবন। বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের জেরে পূর্ব মেদিনীপুরের উপকূলবর্তী অঞ্চলে ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। প্রবল বৃষ্টিতে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে জেলার একাধিক জায়গায়। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য প্রশাসনের তরফে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।

    প্রশাসনের তরফে হলদিয়া এবং পূর্ব মেদিনীপুর জেলার জন্য পৃথক দু’টি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।

    হলদিয়ার জন্য কন্ট্রোল রুমের নম্বর - ৭৯০৮৫২১২০০। অন্য দিকে, জেলার অন্যান্য জায়গার জন্য কন্ট্রোল রুমের নম্বর - ০৩২২৮-২৬২৭২৮।

    জানা গিয়েছে, শিল্পশহর হলদিয়ায় মোট ২৭টি ত্রাণ শিবির তৈরি করা হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতিমধ্যেই জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরা (National Disaster Management Force) এসে উপস্থিত হয়েছেন। যে কোনও সমস্যার জন্য তৈরি রয়েছে প্রশাসন। জানা গিয়েছে, পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল আজ বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এলাকায় আসছেন।

    প্রসঙ্গত, বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের জেরে প্রবল বৃষ্টি চলছে পূর্ব মেদিনীপুর-সহ বঙ্গোপসাগরের উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে। প্রবল সমস্যার মুখে পড়েছেন স্থানীয়রা। বিপর্যস্ত হলদিয়া-সহ পূর্ব মেদিনীপুরের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ। জলমগ্ন হয়ে পড়েছে নন্দীগ্রাম, চণ্ডীপুর, ময়না, ভগবানপুর ও পটাশপুরের একাধিক এলাকা। এই পরিস্থিতিতে যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে।

    বৃষ্টির জেরে কেলেঘাই নদীর জলস্তর দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ভগবানপুর ও পটাশপুরের বাসিন্দারা নদীবাঁধের পরিস্থিতি নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন। টানা বর্ষণের ফলে বাঁধের উপরও চাপ বাড়ছে বলে স্থানীয়দের আশঙ্কা। এ দিকে কেলেঘাই নদীর উপর থাকা একাধিক বাঁশ ও কাঠের তৈরি সাঁকো জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে। রবিবার ময়নার আসনান থেকে ভগবানপুরের গুড়গ্রামের মধ্যে যোগাযোগকারী বাঁশের সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে।

    এক নজরে

    FAQ

    পূর্ব মেদিনীপুরে হঠাৎ এই বন্যা পরিস্থিতির কারণ কী?

    বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপের জেরে এক টানা ভারী বৃষ্টিপাতের কারণেই পূর্ব মেদিনীপুরের উপকূলবর্তী ও অন্যান্য এলাকায় এই বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

    আপৎকালীন পরিস্থিতিতে প্রশাসনের সাথে যোগাযোগের নম্বরগুলি কী কী?

    প্রশাসন দুটি কন্ট্রোল রুম খুলেছে। হলদিয়ার বাসিন্দাদের জন্য নম্বরটি হলো ৭৯০৮৫২১২০০ এবং জেলার অন্যান্য জায়গার জন্য নম্বরটি হলো ০৩২২৮-২৬২৭২৮।

    বিপদগ্রস্ত মানুষদের জন্য কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে?

    প্রশাসনের তরফ থেকে শুধুমাত্র হলদিয়াতেই ২৭টি ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে। উদ্ধারকাজ ও যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর (NDRF) সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।

    জেলার কোন কোন এলাকা সবথেকে বেশি জলমগ্ন?

    প্রবল বৃষ্টির জেরে মূলত হলদিয়া, নন্দীগ্রাম, চণ্ডীপুর, ময়না, ভগবানপুর এবং পটাশপুরের একাধিক এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে।

    নদীবাঁধ নিয়ে স্থানীয় মানুষের উদ্বেগের কারণ কী?

    টানা বর্ষণে কেলেঘাই নদীর জলস্তর দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীবাঁধের উপর প্রবল চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। বাঁধ ভেঙে প্লাবনের আশঙ্কায় ভগবানপুর ও পটাশপুরের বাসিন্দারা আতঙ্কিত। ইতিমধ্যে নদীর প্রবল স্রোতে একাধিক বাঁশ ও কাঠের তৈরি সাঁকো ভেঙে গিয়েছে।

  • Link to this news (এই সময়)