শ্রাবণ মাসের তৃতীয় সোমবারে পূর্ণ্যার্থীদের ভিড়ের চাপে এ বার বিপত্তি মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীতে। মহাকালেশ্বর মন্দির চত্বরের নাগচন্দ্রেশ্বর মন্দিরে দর্শনের জন্য অপেক্ষারত পুণ্যার্থীদের মধ্যে পদপিষ্টের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। ঘটনায় বেশ কয়েকজন ভক্ত আহত হয়েছেন। তাঁদের উদ্ধার করে উজ্জয়িনীর চারক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ দিকে, হর্ষসিদ্ধি মন্দিরের সামনের ব্যারিকেড দেওয়া এলাকায় ভিড়ের চাপ বেড়ে যাওয়ায় ১৩ জন ভক্ত অসুস্থ হয়ে পড়েন। আহত ও অসুস্থ ভক্তদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, যেখানে তাঁদের চিকিৎসা চলছে। আপাতত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ফের দর্শন শুরু হয়েছে।
প্রাথমিক খবর অনুযায়ী, মন্দির চত্বরের ব্যারিকেডের মধ্যে একটি ট্রান্সফরমারের কাছে বিদ্যুতের স্ফুলিঙ্গ গুজব ছড়িয়ে পড়ে। সেই খবর মুহূর্তের মধ্যে ভিড়ের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করে। আতঙ্কিত ভক্তদের একাংশ আচমকা পিছন দিকে সরে যেতে শুরু করলে শুরু হয় ধাক্কাধাক্কি এবং হুড়োহুড়ি। সেই সময়েই কয়েকজন মাটিতে পড়ে গিয়ে আহত হন।
ঘটনার সূত্রপাত নিয়ে এখনও বিস্তারিত তদন্ত চলছে। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, মন্দিরের কাছাকাছি বিদ্যুতের কোনও সমস্যা হয়েছে—এমন খবর বা গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল। সেই খবরের জেরে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ভক্তদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। তবে সত্যিই কোথাও বিদ্যুৎ ছড়িয়েছিল কি না, নাকি শুধুমাত্র গুজব থেকেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
ঘটনার সময়ে পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকরা ঘটনাস্থলেই ছিলেন। তাঁরা দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দেন। কিছুক্ষণের জন্য নাগচন্দ্রেশ্বর মন্দিরের দর্শন বন্ধ রাখা হয়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ফের দর্শন শুরু হয়।
হুড়োহুড়ির মধ্যে আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে চারক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, আহতদের মধ্যে উজ্জয়িনীর বাসিন্দা হিন্দুবাই, সাগর ও লক্ষ্মীবাই রয়েছেন। গ্বালিয়রের দুই তরুণী সোনম ও খুশিও আহত হয়েছেন। এ ছাড়া গঞ্জবাসোদার অনসূয়া ও তাঁর মা মমতা, গুজরাটের ভাপির হরিশচন্দ্র, ভালসাদের তুলসী ও তাঁর মা রেখা বাঈ এবং বিহারের দ্বারভাঙ্গার সুজিতও আহতদের তালিকায় রয়েছেন। হরিশচন্দ্রের পায়ে গুরুতর চোট লেগেছে বলে জানা গিয়েছে। হুড়োহুড়ির সময় ব্যারিকেডে ধাক্কা লেগে তাঁর পায়ে আঘাত লাগে। হাসপাতালে আহতদের চিকিৎসা চলছে।
শুধু নাগচন্দ্রেশ্বর মন্দিরের কাছেই নয়, একই সকালে হর্ষসিদ্ধি মন্দিরের সামনে ব্যারিকেড ঘেরা এলাকায় অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে কয়েকজন ভক্ত অসুস্থ হয়ে পড়েন। অর্থাৎ, নাগপঞ্চমী উপলক্ষে উজ্জয়িনীতে ভক্তসমাগমের চাপ কতটা ছিল, এই দুই ঘটনা থেকেই তার আঁচ পাওয়া যাচ্ছে।
নাগচন্দ্রেশ্বর মন্দির মহাকালেশ্বর মন্দির কমপ্লেক্সের উপরের তলায় অবস্থিত। নাগপঞ্চমীর বিশেষ দিনে এই মন্দিরে দর্শনের জন্য বিপুল সংখ্যক ভক্তের সমাগম হয়। এ বারের ভিড় সামলাতে প্রশাসন আগেভাগেই বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছিল। এমনকী, ভক্তদের যাতায়াতের জন্য তৈরি ৯১ ফুট দীর্ঘ ফুট ওভারব্রিজের সক্ষমতা যাচাই করতে ৩০০-রও বেশি নিরাপত্তারক্ষীকে একসঙ্গে লাফিয়ে ‘লোড টেস্ট’ করানো হয়েছিল। তার পরেও এদিন মন্দির চত্বরে পদপিষ্টের মতো পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় ফের প্রশ্ন উঠেছে।
উল্লেখ্য, এ দিন সকালেই বিহারের লখিসরাইয়ের বিখ্যাত অশোকধাম মন্দিরে ভিড়ের চাপে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় সাত পূণ্যার্থীর। আহত বহু।
প্রশ্ন: উজ্জয়িনীর মহাকাল মন্দিরে কী ঘটেছে?
উত্তর: নাগপঞ্চমীর দিনে মহাকালেশ্বর মন্দিরের নাগচন্দ্রেশ্বর মন্দিরে দর্শনের জন্য অপেক্ষারত ভক্তদের মধ্যে হুড়োহুড়ি শুরু হয়। পরিস্থিতি পদপিষ্টের মতো হয়ে যায় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন।
প্রশ্ন: কেন মহাকাল মন্দিরে হুড়োহুড়ি শুরু হয়?
উত্তর: প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, মন্দির চত্বরের একটি ট্রান্সফরমারের কাছে বিদ্যুতের স্ফুলিঙ্গের খবর বা গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল। সেই খবরের জেরে ভক্তদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয় এবং অনেকে আচমকা পিছিয়ে যেতে শুরু করেন।
প্রশ্ন: মহাকাল মন্দিরের ঘটনায় কতজন আহত হয়েছেন?
উত্তর: ঘটনায় বেশ কয়েকজন ভক্ত আহত হয়েছেন। তাঁদের উজ্জয়িনীর চারক হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করা হচ্ছে। আহতের সঠিক সংখ্যা নিয়ে এখনও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
প্রশ্ন: বিদ্যুৎ ছড়িয়েছিল কি?
উত্তর: এখনও তা নিশ্চিত নয়। বিদ্যুতের স্ফুলিঙ্গের খবরটি সত্যি ছিল, নাকি শুধুমাত্র গুজব থেকেই আতঙ্ক ছড়ায়, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
প্রশ্ন: নাগচন্দ্রেশ্বর মন্দির কোথায়?
উত্তর: নাগচন্দ্রেশ্বর মন্দির মহাকালেশ্বর মন্দির কমপ্লেক্সের উপরের তলায় অবস্থিত। নাগপঞ্চমীর দিনে এই মন্দিরে বিশেষ দর্শনের জন্য বিপুল ভক্ত সমাগম হয়।
প্রশ্ন: হর্ষসিদ্ধি মন্দিরেও কি কোনও ঘটনা ঘটেছে?
উত্তর: হ্যাঁ। একই সকালে হর্ষসিদ্ধি মন্দিরের সামনের ব্যারিকেড ঘেরা এলাকায় ভিড়ের চাপ বেড়ে যাওয়ায় ১৩ জন ভক্ত অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁদেরও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
প্রশ্ন: বর্তমানে মহাকাল মন্দিরের পরিস্থিতি কেমন?
উত্তর: প্রশাসন ও পুলিশের তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে। কিছুক্ষণের জন্য নাগচন্দ্রেশ্বর মন্দিরের দর্শন বন্ধ রাখা হলেও পরে ফের দর্শন শুরু হয়েছে।
প্রশ্ন: মহাকাল মন্দিরে কেন এত ভিড় হয়েছিল?
উত্তর: নাগপঞ্চমী এবং শ্রাবণ মাসের তৃতীয় সোমবার উপলক্ষে উজ্জয়িনীর মহাকালেশ্বর মন্দিরে বিপুল সংখ্যক পুণ্যার্থীর সমাগম হয়েছিল।