ঘিঞ্জি রাস্তা। তারই মাঝে হোটেল। আগুন লাগার খবর পাওয়ার পরেও দমকল পৌঁছতে বেশ খানিকটা বেগ পেতে হয়। ওই জায়গায় কীভাবে দেওয়া হল হোটেল তৈরির অনুমতি?
তারাপীঠের অগ্নিদগ্ধ হোটেল (Tarapith Hotel Fire) পরিদর্শনের পর এমনই প্রশ্ন তুললেন বিধায়ক ধ্রুব সাহা। পূর্বতন সরকারের আমলে তৈরি তারাপীঠ রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদকে দুষলেন তিনি।
বিধায়ক ধ্রুব সাহা বলেন, “এত বড় ভবন। অথচ সেখানে অগ্নি নির্বাপণ বন্দোবস্ত নেই। জতুগৃহ বানিয়ে দিয়েছে। তারাপীঠ উন্নয়ন পর্ষদ পয়সা নিয়ে বানিয়েছে। আগুন নেভানোর ব্য়বস্থা আছে কিনা দেখেনি। এত মানুষের সাহায্যের দায় নেবে কে?” বলে রাখা ভালো, রবিবারই দলীয় কার্যালয় থেকে প্রাক্তন বিধায়ক তথা মন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের দেহ উদ্ধার হয়। তাঁর দেহের পাশ থেকে একটি সুইসাইড নোটও পাওয়া গিয়েছে। ওই সুইসাইড নোটেও দুর্নীতির উল্লেখ ছিল। তার পরদিনই এই ঘটনায় যেন তারাপীঠ রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদের কঙ্কালসার দশা প্রকাশ্যে এল বলেই মনে করছেন অনেকে।
এদিকে, তারাপীঠের অগ্নিকাণ্ড নিয়ে বীরভূমের পুলিশ সুপার বিদিত রাজ ভুন্দেশ বলেন, “ভোর ৫টা থানায় সকালে ফোন আসে। জানানো হয় আগুন লেগে গিয়েছে। যেহেতু কাচের দরজা, জানলা বন্ধ ছিল। তাই বাইরে থেকে ধোঁয়া টের পাওয়া যায়নি। পুলিশ ও দমকল সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। মই দিয়ে উদ্ধারের ব্যবস্থা করা হয়। ২২ জনকে উদ্ধার করা হয়। ১১ জনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।” ওই হোটেলটির অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা যথাযথ ছিল কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যে হোটেল মালিককে আটক করা হয়েছে। যাদের উদাসীনতায় এই ঘটনা ঘটেছে, তাদের বিরুদ্ধে কড়া শাস্তির বন্দোবস্ত করা হবে বলেই জানিয়েছেন পুলিশ সুপার। ঘটনাস্থলে আসছে ফরেনসিক টিম। ফায়ার লাইসেন্স ঠিকঠাক ছিল কিনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।