• ‘সব বালির ঘাটকে বৈধ করব’, পাচার-তোলাবাজি বন্ধে পুরুলিয়ায় বড় বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর
    প্রতিদিন | ১৭ আগস্ট ২০২৬
  • বাঁকুড়া, বীরভূম, পুরুলিয়ার বিভিন্ন এলাকা থেকে অবৈধ বালি, পাথর পাচারের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। রাজ্যে পালাবদলের পরে দুর্নীতি রুখতে ‘জিরো টলারেন্স’-এর বার্তা দিয়েছে প্রথম বিজেপি সরকার। বালি ও পাথর, কয়লা পাচার রুখতে কড়া প্রশাসন। বিভিন্ন জায়গায় অভিযানও চলছে। সেই আবহেই পুরুলিয়া থেকে বড় বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর, “সব বালির ঘাটকে বৈধ করব।” প্রসঙ্গত, কয়েক সপ্তাহ আগেই বীরভূমের বালি-পাথর মাফিয়া টুলু মণ্ডলের বিশাল অবৈধ কারবার ও সম্পত্তির হদিশ পেয়েছে প্রশাসন। দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় অবৈধ ঘাট বানিয়ে কারবার চলছিল বলে অভিযোগ। তৃণমূল আমলে সেই কারবার ঘিরে কোটি কোটি টাকা হাতবদল হত!

    অবৈধ বালি কারবার বন্ধ করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ রাজ্যের বিজেপি সরকার। বালিঘাট ঘিরে যে সব অবৈধ লেনদেন চলত, সেসবও রুখতে প্রশাসন বিভিন্ন জায়গায় ধরপাকড় চালাচ্ছে। পুরুলিয়া সফরে এসে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যেও এদিন উঠে এল সেই দুর্নীতি বন্ধের প্রসঙ্গ। সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে এদিন মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন, “জানতে চাইব তোলাবাজি বন্ধ হয়েছে, হ্যাঁ কিনা? রাস্তায় হাত পাতা বন্ধ? গোমাতা পাচার বন্ধ, বেআইনি কয়লা পাচার বন্ধ? বালির ঘাট বন্ধ? এরপরেই শুভেন্দু বলেন, “আমি জানি, বালি রেট একটু বেশি হয়ে গিয়েছে। সমস্যা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী আবাস বা পশ্চিমবঙ্গ আবাসে বাড়ি বানাতে বালির জন্য ১২০০ টাকা করে পাবেন।” সরকারি বাড়ি বানাতে ১৫০০ টাকা করে বালির জন্য দেওয়া হয় বলে খবর।

    মুখ্যমন্ত্রী বার্তা দেন, “একটু রেগুলারাইজড করতে দিন। আপনারা চান তো সরকারের ঘরে টাকা আসুক। সরকারের ঘরে এলেই তো আপনাদের দিতে পারব।” এরপরেই মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা, “সব বালির ঘাটকে বৈধকরণ করব। তোলাবাজি হবে না। সিন্ডিকেট চলবে না। কাটমানি বন্ধ। এবারে আমরা ৩০ লক্ষ সরকারি বাড়ি দেব। একটাকা যদি কেউ চায়, তাহলে আমায় খবর দেবেন।” সব বালির ঘাট সরকারি আওতায় আনার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমনই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। বালি ঘাট সরকারি নিয়ন্ত্রণে এলে রাজস্ব বাড়বে। এছাড়াও অবৈধ বালি চালানের জন্য বাজারে বালির দামও বেশি থাকে। অনেক বেশি টাকা বালি কিনতে গুনতে হয়। বাজারে বালির দাম বৈধ ঘাট হলে নিয়ন্ত্রণে আসবে। এমনই মত ওয়াকিবহাল মহলের।
  • Link to this news (প্রতিদিন)