ভিডিও কলে শেষ কথা, পেটের টানে আলিপুরদুয়ার থেকে তারাপীঠে এসে মৃত্যু গাড়িচালক স্বামীর, কেঁদে আকূল স্ত্রী
প্রতিদিন | ১৭ আগস্ট ২০২৬
হাতে কাজ নেই। তাই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। চার-পাঁচদিন আগে বাড়িতে বসে অঝোরে কেঁদেছেন। মা বুঝিয়েছিলেন সেই সময়। তার মাত্র কয়েকদিন পরেই কাজ পান। আলিপুরদুয়ারের তপসিখাতার পাকুরিতলা থেকে গাড়ি চড়ে বেশ কয়েকজন তারাপীঠে যান। সোম সকালে তারাপীঠের হোটেলে পুড়ে মৃত্যু কমল রায়ের। গাড়িচালক স্বামীর মৃত্যুতে চোখে জল স্ত্রীর। দুই সন্তান আর বৃদ্ধা শাশুড়িকে নিয়ে কীভাবে চলবে সংসার, ভেবে আকূল পরিবারের লোকজন।
মৃতার স্ত্রী বলেন, “রবিবার শেষবার ভিডিও কলে স্বামীর সঙ্গে কথা হয়। বলেছিলেন সোমবার শিবের মাথায় জল ঢালবে। সোমবার বেলার দিকে ফোন আসে। বলা হয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে স্বামীকে। কিছুক্ষণের মধ্যে মৃত্যু।” কমল রায় দুই সন্তানের বাবা। বাড়িতে রয়েছেন বৃদ্ধা মা। কীভাবে যে দুই সন্তান এবং শাশুড়িকে নিয়ে সংসার চালাবেন, তা ভাবতে পারছেন না সদ্য স্বামীহারা তরুণী।
তারাপীঠে অগ্নিদগ্ধ (Tarapith Hotel Fire) হয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ জন। মৃতদের মধ্যে চারজন আলিপুরদুয়ারের এবং পাঁচজন মেঘালয়ের বাসিন্দা। নিহতেরা হলেন আলিপুরদুয়ারের রাজেশ শর্মা, কমল রায়, অমিত পাল এবং সুবীর সাহা। বাকি ৫ জন মেঘালয়ের শিববাড়ি বাগানাড়া বাসিন্দা। তাঁরা হলেন রাজেন্দ্র নাথ, আশা নাথ, বুরান মাদাক, শিবরাজ মাদাক, আউশনাথ মাদাক। মৃত আলিপুরদুয়ারের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চামড়া গুদাম লাইনের বাসিন্দা নিহত সুবীর সাহার পরিবারের লোকজন এই দুঃসংবাদ পেয়ে যেন শোকে পাথর হয়ে গিয়েছেন। নিহতদের আত্মার শান্তিকামনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নিহতদের পরিবারের লোকজনকে মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ৫ লক্ষ এবং জেলাশাসকের তরফে ৪ লক্ষ টাকার আর্থিক সাহায্য করা হয়েছে। রাজ্য প্রশাসনের তরফে আহতদের ২ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য করা হবে।