• ক্ষতিপূরণ নয়, খুন হওয়া বাবার নামে স্কুল চাইল ইন্দাসের ককরোচ-সমর্থক যুবক
    এই সময় | ১৭ আগস্ট ২০২৬
  • বাঁকুড়ার ইন্দাসে ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) সমর্থকের বাবাকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ ওঠে। সোমবার মৃত শেখ মহম্মদ মাফিকের পরিবারের সঙ্গে দেখা করলেন CJP নেতা আশুতোষ রাঙ্কা। ইন্দাসের করিশুন্ডা গ্রামে ককরোচ-কর্মী শেখ আব্দুল হাফিজ ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। কান্নায় ভেঙে পড়েন আব্দুলের বাড়ির লোকেরা। তাঁদের দাবি, আব্দুল CJP সমর্থক বলেই তাঁর বাবা মাফিককে খুন করা হলো। রাঙ্কা জানান, আব্দুলকে আর্থিক সহযোগিতার কথা বলা হয়েছিল। যদিও টাকা নিতে রাজি হয়নি সে। বদলে মৃত বাবার নামে একটা স্কুল চেয়েছে।

    বাঁকুড়া জেলার ইন্দাস থানার কড়িশুন্ডা গ্রামের শেখ আব্দুল হাফিজ গত ১৯ জুলাই দিল্লি গিয়েছিলেন যন্তরমন্তরে নিট কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে ককরোচ পার্টির ডাকা ধর্নায় যোগ দিতে। সেখানে ২৫ জুলাই পর্যন্ত ছিলেন। এর পরে ইন্দাসের বাড়িতে ফেরেন। এর পর থেকেই দিল্লিতে যাওয়া নিয়ে হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছিল বলে দাবি আব্দুলের। এরই মধ্যে CJP-র তরফে দেশ জুড়ে ১২ অগস্ট ‘স্কুল ঠিক করো কর্মসূচি’ ঘোষণা হয়। সেই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গ্রামের একটি স্কুলে পানীয় জলের ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা-সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন আব্দুল হাফিজ।

    আব্দুলের অভিযোগ, ‘এর পরে ১৩ অগস্ট গ্রামের কয়েকজন বিজেপি কর্মী বাড়িতে চড়াও হন। আমাকে চড়-থাপ্পড় মারার পাশাপাশি শাবল দিয়ে আঘাত করেন। কোনওক্রমে ঘরের ভিতরে ঢুকে পড়ি। বাবা আমাকে বাঁচাতে এলে, বাবাকেও মারধর করা হয়।’ আব্দুলের বাবা বছর ৫০-এর শেখ মহম্মদ মাফিককে ইন্দাস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় ১৫ অগস্ট শনিবার সকালে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে রেফার করা হয়। শনিবার রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ সেখানেই মৃত্যু হয়।

    CJP নেতা আশুতোষ রাঙ্কার কথায়, ‘আপনারা ভাবুন, কী ধরনের চিন্তাভাবনা আব্দুলের। আমরা বললাম, আব্দুল আমরা চাই আর্থিক সহযোগিতা করা হোক। আব্দুল বলছে, ‘আমার কোনও ক্ষতিপূরণ চাই না। আমার বাবার নামে একটা স্কুল করে দাও’। একবার ভাবুন, কম্পেনসেশনও পর্যন্ত চাইছে না। ওর ঠাকুমা আমাকে বলছেন, ‘আব্দুল তোমাদের দায়িত্ব’। আপনারা ভাবুন, ওর পারিবারিক শিক্ষাটা। ভাবুন কেমন ছিলেন ওর বাবা।’

    আশুতোষের একটি ভিডিয়ো এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে CJP প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে লেখেন, ‘ঘৃণার রাজনীতির শিকার হয়ে আব্দুল ওর বাবাকে হারিয়েছে। যে হেতু আব্দুল ওর এলাকায় স্কুল শিক্ষার পরিকাঠামোগত উন্নতি চেয়েছিল, বিজেপি কর্মীরা ওর বাবাকে মেরেছে।’

    যদিও রবিবারই নবান্ন সভাঘর থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, ‘FIR-এ বিজেপির নাম বলা নেই। দুষ্কৃতী বলা আছে। গ্রেপ্তারও হয়েছে যাদের বিরুদ্ধে FIR। আইনের শাসন চলেছে এখানে। দ্রুত তদন্ত হয়েছে, বাকিটাও হবে।’ ইতিমধ্যেই আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এই ঘটনায়।

  • Link to this news (এই সময়)