৯ মে, ২০২৬ রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শপথ নিয়েছিলেন। ঠিক এক বছর বাদে মুখ্যমন্ত্রিত্বের এক বছর পূর্ণ হলে সাধারণ মানুষের সামনে পরীক্ষা দেবেন। বাংলার মানুষ সঠিক লোককেই দায়িত্ব দিয়েছে? সেটা প্রমাণ করবেন এক বছর বাদে, সোমবার পুরুলিয়ার মানবাজারে জল প্রকল্পের উদ্বোধনে গিয়ে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, ‘৯ মে আমার এক বছর পূর্ণ হবে, সে দিন আমি আপনাদের সঙ্গে পরীক্ষায় বসব। পরীক্ষায় আপনারা আমায় নম্বর দেবেন। ১০-এর মধ্যে ৯ না পেলে ক্ষমা স্বীকার করে নেব। কিন্তু আপনারাই বলবেন যে সঠিক লোককে, সঠিক দলকে দায়িত্ব দিয়েছি। বিশ্বাস, ভরসা রাখুন।’
জাপানের সংস্থা জাইকা (JICA)-র সহায়তায় পুরুলিয়া জেলার ৯টি ব্লকে মেগা পানীয় জল প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ১১৭৩ কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্প এ দিন উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। পুরুলিয়ার মানবাজার ১, পুঞ্চা, পুরুলিয়া ১, আড়শা ও বরাবাজার ও পুরুলিয়া পুরসভা মিলিয়ে প্রায় ৮৭,২৭১টি পরিবার জনপ্রতি ৭০ লিটার পানীয় জল পাবে। স্বাধীনতার ৮০ বছর পেরিয়ে গেলেও মানবাজারের লোকেদের জলের দাবি না মেটাতে পারা দুঃখের বলে এ দিন মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। বিগত সরকারকে ‘জল জীবন মিশন’-এর আওতায় কেন্দ্রীয় সরকার জল প্রকল্পের জন্য টাকা দিলেও তা নিয়ে দুর্নীতি হয়েছে মানুষ জল পায়নি বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী।
আগামী দিনে পুরুলিয়ার এয়ারপোর্ট-সহ আরও নানা উন্নয়ন হবে বলে জানান শুভেন্দু। যথাসময়ে কুড়মালি ভাষাকে অষ্টম তপশিলি অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলেও এ দিন আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। শুভেন্দু জানান, ইতিমধ্যেই কুড়মি বোর্ডের উন্নতির জন্য ৫০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। আদিবাসী ইউনিভার্সিটি, একলব্য বিদ্যালয়-সহ নানান উন্নতিমূলক কাজ করা হচ্ছে আদিবাসীদের জন্য।
এ দিন রঘুনাথপুরে অমিত মেটালিকস সংস্থার লৌহ ইস্পাত কারখানার উদ্বোধনেও হাজির হন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এই সংস্থা কথা দিয়েছে জঙ্গলমহলের অদক্ষ কর্মীদের কাজ দেওয়া হবে।’ আগামী দিনে জঙ্গলমহলের মানুষের কর্মসংস্থানের বিষয়টি প্রধান অগ্রাধিকার হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।