শ্রাবণের শেষ সোমবার ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা তারাপীঠে। মন্দিরের অদূরেই ‘বিদেশিনী’ নামে একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন নয় জন। আগুন লাগার পরে ঠিক কী পরিস্থিতি হয়েছিল? এই সময় অনলাইনকে জানালেন ওই হোটেলে থাকা এক পর্যটক।
তপনজ্যোতি মণ্ডল
আমরা বিদিশিনী গেস্ট হাউসের ০১ এবং ০২ নম্বর রুমে ছিলাম। দু’টি ঘর মিলিয়ে মোট সাত জন টুরিস্ট ছিলাম। যখন সাড়ে চারটে-পাঁচটা বাজে, তখন দেখি বাইরে প্রচণ্ড আওয়াজ হচ্ছে, পটপট করে শব্দ হচ্ছে। যে রকম কাঠ পুড়লে ফেটে ফেটে আওয়াজ হয়, সে রকম। আমরা তাড়াতাড়ি দরজা খুললাম। দরজা খুলে দেখি আগুনের লেলিহান শিখা আর ধোঁয়া ঘরের মধ্যে ঢুকে গেল। ঘরের মধ্যে কোনও জানালা বা কিছু খোলার ব্যবস্থা ছিল না, কারণ এসি ঘর ছিল।
আমরা বাথরুমে গিয়ে, মানে সাত জন বাথরুমে ঢুকে (দুটো ঘরের দুটো বাথরুমে) দরজা বন্ধ করে দিলাম। যাতে ওর মধ্যে ধোঁয়া না প্রবেশ করতে পারে। বাথরুমের উপরের যে জানালা, সেটা ভেঙে বহুক্ষণ ধরে আমরা ডাকাডাকি করার পরেও হোটেলের কোনও লোক...আসেনি। তারা শুধু উপরের তিন তলা, চার তলার লোককেই বাঁচানোর চেষ্টা করছে, আমাদেরকে বের করার চেষ্টা করেনি। শেষে আমরা তারাপীঠ থানায় বার বার ফোন করে করি। শেষে ওরা এসে আমাদের সামনের দরজা দিয়ে ভেঙে বের করেছে।
আমার বাড়ির সাত জনের মধ্যে আমার আঘাত লেগেছে, পা জখম হয়েছে, ফ্র্যাকচার হয়েছে। আমার মায়ের অবস্থা খারাপ। এখন রামপুরহাট জেলা সদর হাসপাতালে ট্রিটমেন্ট চলছে।
আমরা অনেক দূর থেকে এসেছি। মন্দিরে পুজো দিয়ে আজকেই চলে যাওয়ার কথা। যাক, এখন এই পরিস্থিতিতে হোটেল কর্তৃপক্ষের কাছে যেটা আবেদন করছি— একটা অল্টারনেট রুমের ব্যবস্থা করে দিতে। আমরা অন্তত কিছুক্ষণ সেখানে রেস্ট নেব, ফ্রেশ হব। এইজন্যই বলছি, আপনাদের মাধ্যমে সেটাই বলছি।