লোকসভা ভোটের আগে বিজেপিতে ‘সংঘ-শক্তি’! রাম মাধবের প্রত্যাবর্তনে বাড়ছে আরএসএস-এর গুরুত্ব
প্রতিদিন | ১৮ আগস্ট ২০২৬
২০২৪-এর লোকসভা ভোটে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের আসন সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ২৪০। যদিও ২৯৩টি আসন নিয়ে সরকার গঠন করে বিজেপি নেতৃত্বধানী এনডিএ জোট। এই পরিস্থিতিতে ২০২৯ সালের লোকসভা ভোটের প্রস্তুতি শুরু করে দিল বিজেপি। সোমবার নিজেদের সাংগঠনিকস্তরে রদবদল বড় করেছে গেরুয়া শিবির। তাতেই বড় চমক দেখা গিয়েছে। ফেরানো হয়েছে অথবা নিজ পদে বহাল রাখা হয়েছে একাধিক নেতাকে, যাঁদের শিকর জড়িয়ে রয়েছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-এর সঙ্গে। তাঁদের মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ একটি নাম হল রাম মাধব।
২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি সরকারের প্রথম মেয়াদের শুরুতেই বিজেপিতে বড় দায়িত্ব পান একদা সংঘের প্রচারক রাম। তিনি বিজেপির জাতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসাবে নিযুক্ত হয়েছিলেন। উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলি এবং জম্মু ও কাশ্মীরে গেরুয়া শিবিরের সাংগঠনিক বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন রাম। শুধু তাই নয়, অসম, ত্রিপুরা ও নাগাল্যান্ডে বিজেপি সরকার গঠন এবং দলকে শক্তিশালী করার কাজে তাঁর ভূমিকা অনস্বীকার্য। উপত্যকায় বিজেপি-পিডিপি জোট সরকার গঠনের নেপথ্যে মূল কাণ্ডারি ছিলেন রাম। তবে এই জোটের কারণে দলের রাজনৈতিক ক্ষয় শুরু হওয়ায় শেষ পর্যন্ত বিজেপি সেই জোট ভেঙে দেয়। তৎকালীন রাজ্যপাল সত্যপাল মালিকও সে সময় বিভিন্ন বিতর্কে রামকে জড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন। এর জেরে তাঁর রাজনৈতিক যাত্রা প্রভাবিত হয়েছিল। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে বিজেপির তৎকালীন সভাপতি জেপি নাড্ডা যখন সাংগঠনিক স্তলে বদল আনেন, তখন রামকে জাতীয় সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর তিনি সংঘে ফিরে যান। অবশেষে দীর্ঘ ৬ বছর পর ফের বিজেপিতে তাঁর প্রত্যাবর্তন হল। এবার রামকে জাতীয় সহ-সভাপতি হিসাবে নিযুক্ত করা হয়েছে। গেরুয়া শিবিরে প্রত্যাবর্তন নিঃসন্দেহে তাঁর দ্বিতীয় ইনিংসের সূচনা। একাধিক সূত্রের দাবি, রামের এই নতুন দায়িত্বপ্রাপ্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির।
অন্যদিকে, সংঘের প্রচারক সুনীল বনসলকেও জাতীয় সাধারণ সম্পাদক পদে বহাল রেখেছে বিজেপি। বিভিন্ন রাজ্যে গেরুয়া শিবিরের নির্বাচনী প্রচার ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। উত্তরপ্রদেশে টানা চারবার জয়, বাংলায় বিজেপির প্রথম বিজয়রথ ছোটানোর নেপথ্যে বনসলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তবে শুধু রাম কিংবা বনসল বিজেপির নয়া সংগঠনে এমন অনেক নেতার নাম রয়েছে, যাঁদের শিকড় জড়িয়ে রয়েছে সংঘের সঙ্গে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ২০২৯-এর লোকসভা ভোটের আগে শুধু মোদি বা অমিত শাহের জনপ্রিয়তার উপর নির্ভর করতে চায় না বিজেপি। দলের তৃণমূল স্তরের সংগঠন আরও কীভাবে শক্তিশালী করা যায়, তারই চেষ্টায় রয়েছে গেরুয়া শিবির। এদিকে বিজেপির সাংগঠনিক স্তরে সংঘের গুরুত্ব বৃদ্ধির অর্থ কি দলের নিয়ন্ত্রণ আরএসএস-এর হাতে চলে যাচ্ছে? তেমনটা নয়। আসলে লোকসভা ভোটের আগে সংঘের সাংগঠনিক শক্তিকে পুরো দমে কাজে লাগাতে চাইছে গেরুয়া শিবির।