এবার মনসা পুজোতেও (Manasa Puja) ছুটি ঘোষণা রাজ্য সরকারের। সোমবার এই মর্মে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। তাতে উল্লেখ করা হয়েছে, ওইদিন বাঁকুড়া এবং পুরুলিয়ার সরকারি অফিস, স্কুলগুলি ছুটি থাকবে। এই প্রথমবার মনসা পুজোয় ছুটি ঘোষণা করল রাজ্য সরকার।
হিন্দু পুরাণ অনুযায়ী, শ্রাবণের শুক্লপক্ষের পঞ্চমী তিথিতে নাগপঞ্চমী হয়। ১৬ আগস্ট বিকেল ৪টে ৫২ মিনিটে তিথি শুরু হয়েছে। ১৭ আগস্ট বিকেল ৫টায় শেষ তিথি। উদয়া তিথি অনুযায়ী, নাগপঞ্চমী ১৭ আগস্ট পালিত হবে। বহু জায়গায় এদিন মনসাদেবীর পুজো হয়। শুভ সময় ভোর ৬টা ৮ মিনিট থেকে সকাল ৮টা ৩৯ মিনিট। আবার কোথাও কোথাও মঙ্গলবার হবে মনসা পুজো।
পুরাণে বলা হয়, সর্পদংশনের ভয় থেকে মানুষকে বাঁচানোর জন্য প্রজাপতি ব্রহ্মা কশ্যপমুনিকে একটি মন্ত্র আবিস্কার করার আদেশ দেন। ব্রহ্মার আদেশে ঋষি কশ্যপ শুরু করেন সেই চেষ্টা। ঠিক যখন এই বিষয়ে চিন্তা করছেন তিনি, এমন সময় তাঁর ‘মননক্রিয়া’ থেকে আবির্ভূতা হন স্বর্ণবর্ণের এক দেবী। মন থেকে তাঁর জন্ম হওয়ায়, মনসা নাম পান তিনি। কিন্তু মনসার জন্ম তো বটেই, মনসার জীবন নিয়েও কথকতা রয়েছে বহু। যেমন মনসামঙ্গল কাব্যে বলা হয়, চাঁদ সওদাগরের কাছ থেকে পুজো পাওয়ার বাসনায় একের পর এক সমস্যা তৈরি করেন দেবী মনসা। তাঁর পুত্র লখিন্দরের প্রাণ সর্পাঘাতে হরণ করেন দেবী। তারপর বেহুলার কৃতিত্বে ফেরে লখিন্দরের প্রাণ। এরপর মর্ত্যে দেবী হিসেবে পুজো পান মনসা।
আবার কোনও কোনও ক্ষেত্রে তথাকথিত ‘নিকৃষ্ট জীবে’র দেবী হিসাবে বর্ণিত হন মনসা। উঠে আসে তাঁর স্বর্গে স্থান পাওয়ার লড়াই নিয়েও। বলা হয়, শিবের স্ত্রী দেবী চণ্ডী মনসাকে ঘৃণা করতেন! একটা সময় চণ্ডী মনসাকে নিজের মেয়ের স্বীকৃতি দিলেও মনসা-চণ্ডীর বিভেদ রচিত হয় বারবার। এমনকী মনসার চোখ অন্ধের কারণ এই বিবাদ, বলা হয় এমনও। আবার কোনও কোনও ক্ষেত্র থেকে জানা যায়, মহাদেব নন, ঋষি কাশ্যপই আসলে দেবী মনসার বাবা! পুরাণ মতে, মনসা শিবের মানসকন্যা আবার জরৎকারুর স্ত্রী। এই জরৎকারু দেবী মনসাকে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন, স্বামীর ঘর করতে পারেননি তিনি। আস্তিকমুনি মনসার সন্তান হিসাবেও দাবি করা হয় পুরাণে। একাধিকবার এক প্রতিহিংসাপরায়ণ নারী হিসেবেও বর্ণিত হয়েছেন তিনি। তবুও লড়াই করেছেন মনসা। চাঁদ সওদাগরের বাম হাতের পুজো পেয়েও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার লড়াই লড়েছেন এই সাহসী দেবী।