• বিরোধিতা মানেই ‘দিমাগি নকশাল’! মোদির মন্তব্যে তোপ কংগ্রেসের, ক্ষুব্ধ শিক্ষিত সমাজও
    বর্তমান | ১৮ আগস্ট ২০২৬
  • নয়াদিল্লি: বিজেপি নেতাদের এতদিন পছন্দের শব্দবন্ধ ছিল ‘আরবান নকশাল’। কারণ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলতেন। এবার স্বাধীনতা দিবসের সকালে লালকেল্লায় ভাষণ দিতে গিয়ে নতুন শব্দবন্ধ তৈরি করলেন মোদি স্বয়ং। ‘দিমাগি নকশাল’। অর্থাত্ নকশাল বা মাওবাদী মনোভাবাপন্ন। প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ, এই দিমাগি নকশালরা এখনও শিক্ষিত সমাজে মিশে রয়েছে। তারা এখনও হিংসা-অরাজকতার পথ খুঁজছে এবং দেশকে ভুল দিকে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। এই ‘দিমাগি নকশাল’দের চিহ্নিত করে বিচ্ছিন্ন করে দিতে হবে। কারা এই ‘দিমাগি নকশাল’? তা অবশ্য ভাষণে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেননি। তবে, নকশাল মনোভাবাপন্ন তকমা দিয়ে আদতে ভিন্নমত শিক্ষিত সমাজ এবং বিরোধীদেরই কণ্ঠরোধ করতে চাইছেন বলে সরব হয়েছে কংগ্রেস, সিপিআই সহ একাধিক দল। কংগ্রেস সাফ বলেছে, প্রধানমন্ত্রীর কাছে তার মানে বিরোধিতার অর্থই হল দিমাগি নকশাল। ককরোচ জনতা পার্টিও (সিজেপি) তীব্র আক্রমণ করেছে মোদিকে। প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরম এক্স হ্যান্ডলে খোলাখুলি লিখেই দিয়েছেন, ‘দিমাগি নকশাল হিসাবে আমি গর্বিত।’ প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যে যে শিক্ষিত সমাজের একাংশও ক্ষুব্ধ, তা বুঝতে পেরে রবিবার পালটা মাঠে নেমেছে বিজেপিও। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু জানান, প্রধানমন্ত্রী বিরোধীদের মাওবাদী মনোভাবাপন্ন বলতে চাননি। কারা এই তালিকায় পড়ছে, তার একটি তালিকাও দেন রিজিজু। 

    জেন-জি বিক্ষোভের আবহে স্বাধীনতা দিবসে প্রধানমন্ত্রী কী বলেন, তার দিকে নজর ছিল সকলের। টেলিপ্রম্পটার নিয়ে কটাক্ষ এড়াতে কাগজ দেখে ভাষণ দিতে গিয়ে একাধিকবার হোঁচটও খান তিনি। তবে তরুণ প্রজন্মের মন জয়ে কেন্দ্রের একাধিক উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন। জানান, আগামী বছরে এক কোটি তরুণকে ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’ নিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। অনলাইন কোচিংয়ের জন্য দেশজুড়ে ফ্রি নেটওয়ার্ক চালুর ঘোষণাও করেন প্রধানমন্ত্রী। ২০৩৬ ওলিম্পিকসের আয়োজন ভারতে করার আশা প্রকাশ করেন এবং তার জন্য পাঁচ থেকে ১৫ বছর বয়সিদের মধ্যে থেকে প্রতিভা খুঁজে আনার কর্মসূচির ঘোষণাও। এর মধ্যেই তাঁর মন্তব্য ছিল, ‘বহু বছর ধরে মাওবাদী মনোভাবাপন্ন মানুষ সমাজের মধ্যেই থেকেছে। সরকারি কমিটি ও শাসন ক্ষমতার বৃত্তেও এমন মানুষ ছিল। তাদের ভাবনাচিন্তা একাধিক প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোগে প্রভাব ফেলেছে। জঙ্গলে থাকা অস্ত্রধারী নকশালদের কাবু করা গেলেও এঁদের করা যায়নি। সুযোগের অপেক্ষায় আছে এরা।’

    কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ লেখেন, ‘এটা ওঁর চরম মরিয়া হয়ে ওঠারই লক্ষণ। যদিও তিনি তথাকথিত আরবান বা দিমাগি নকশালদের দাবিগুলিই মেনে নিচ্ছেন, সেটা অবশ্য ভিন্ন প্রসঙ্গ।’ প্রধানমন্ত্রীকে গালিগালাজ করার ওস্তাদ বলেও কটাক্ষ করেন রমেশ। সিপিআইয়ের সাধারণ সম্পাদক ডি রাজা অভিযোগ করেন, ‘স্বাধীনতা দিবসের মতো গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানেও প্রধানমন্ত্রী বিরোধীদের নিশানা করার সময় ও সুযোগ খুঁজে নেন। অথচ ভারতের জনগণ তাঁর সরকারের কাছে কী চাইছে, তা ভুলে যান। যারা সরকারের সমালোচনা করে বা প্রশ্ন তোলে, তাদের ভয় দেখানোর প্রচেষ্টা ছাড়া এটি আর কিছুই নয়।’ সিজেপির সৌরভ দাস প্রশ্ন তোলেন,  ‘কীভাবে আপনি শিক্ষিত তরুণ প্রজন্মকে নকশাল বলতে পারেন? তারা শুধুমাত্র আপনার সরকারকে প্রশ্ন করে বলে? দিমাগি নকশাল বা অন্য কিছু বলা আর কাজে আসবে না প্রধানমন্ত্রী মহাশয়। এটা চরম ঔদ্ধত্য আর সমস্যা সমাধানে অযোগ্যতা ছাড়া কিছুই নয়। শেষের ঘণ্টা বাজতে শুরু করেছে।’ এর পালটা রিজিজু এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, ‘যারা মাওবাদীদের সমর্থন করে এবং ভারতীয় সংবিধানকে মানে না, যারা বিচ্ছিন্নতাবাদীদের পাশে দাঁড়ায় এবং ৩৭০ অনুচ্ছেদ সমর্থন করে এবং যারা ‘চিকেন নেক’-কে বিচ্ছিন্ন করে উত্তর-পূর্ব ভারতকে আলাদা করতে চায়, শুধুমাত্র তারাই দিমাগি নকশাল। বিরোধী নেতারা নন।’
  • Link to this news (বর্তমান)