• গৃহীত হল না জেলা পরিষদের তিন সদস্যের পদত্যাগপত্র, নিয়ম জানাতে লাগলো দেড় মাস? উঠছে প্রশ্ন
    বর্তমান | ১৮ আগস্ট ২০২৬
  • সংবাদদাতা, গঙ্গারামপুর: জেলা পরিষদের তিন সদস্যের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করল না প্রশাসন। ইস্তফা জমা দেওয়ার প্রায় দেড় মাস পর চিঠি দিয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হল, পঞ্চায়েত আইন মেনে পদত্যাগ করতে হলে মালদহ ডিভিশনাল কমিশনারের কাছে ইস্তফাপত্র জমা দিতে হবে। ফলে আপাতত তিনজনের সদস্যপদ বহাল থাকছে। প্রশাসনের এই দীর্ঘসময় ধরে টালবাহানা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা।

    প্রায় দেড় মাস আগে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পরিষদের জনস্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ কৌশিক মাহাতো, সদস্য অশোককৃষ্ণ কুজুর ও সুভাষ ভাওয়াল পরপর জেলা শাসকের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। কিন্তু সেই পদত্যাগ পঞ্চায়েত আইন অনুযায়ী সঠিক পদ্ধতিতে হয়নি। একথা জানিয়ে সম্প্রতি তিন সদস্যের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে জেলা প্রশাসন। চিঠিতে মালদহের ডিভিশনাল কমিশনারের কাছে গিয়ে ইস্তফা দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

    ফলে আইনগতভাবে আপাতত তিন সদস্যের কেউই পদত্যাগী নন। তাঁরা জেলা পরিষদের সদস্য হিসাবেই দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। আগামী ২৩ তারিখ জেলা পরিষদের অর্থ স্থায়ী সমিতির বৈঠক রয়েছে। সেই বৈঠকে কর্মাধ্যক্ষ হিসেবে কৌশিক মাহাতোকে ডেকেছেন জেলা পরিষদের সচিব।

    রাজনৈতিক মহলের একাংশের প্রশ্ন, গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে পঞ্চায়েত সমিতি সর্বত্র তৃণমূল সদস্যদের ইস্তফা ঘিরে যখন রাজনৈতিক টানাপোড়েন চলছে, তখন জেলা পরিষদের তিন সদস্যের পদত্যাগ পত্র নিয়মমাফিক হয়নি, তা জানাতে প্রশাসনের কেন প্রায় দেড় মাস সময় লাগল? নিয়মগত ত্রুটি থাকলে তা ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই জানানো সম্ভব ছিল বলে দাবি রাজনৈতিক মহলের একাংশের। তাহলে এতদিন তিন সদস্যের উপর রাজনৈতিক চাপ তৈরির চেষ্টা হয়েছিল কি না, সেই প্রশ্নও উঠছে। জেলা পরিষদে বিজেপির কোনো নির্বাচিত সদস্য না থাকায় অনাস্থার পথেও সরাসরি রাজনৈতিক চাপ তৈরির সুযোগ নেই। পাশাপাশি উন্নয়নের ক্ষেত্রেও দক্ষিণ দিনাজপুরের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সূত্রের দাবি, উন্নয়নের নিরিখে জেলার অবস্থান বর্তমানে ২৩ নম্বরে নেমে এসেছে। ষোড়শ অর্থ কমিশনের অর্থে কী কাজ হবে, তার পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা এখনও তৈরি হয়নি। অন্যদিকে, পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের বরাদ্দ অর্থও সম্পূর্ণ খরচ হয়নি। ফলে জেলা পরিষদের উন্নয়নমূলক কাজ অনেকটাই নির্ভর করছে বর্তমান তৃণমূল পরিচালিত বোর্ডের উপর।

    জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, জেলা পরিষদের ইস্তফা গ্রহনের বিষয়ে আমরা কিছু বলার চুড়ান্ত অধিকারি নই। আমাদের দপ্তরের রিসিভিং সেকশনে ওই পদত্যাগ পত্রগুলি দেওয়া হয়েছিল। আমাদের কোনো আধিকারিকের কাছে তা সরাসরি দেওয়া হয় নি। বিষয়টি নজরে আসতেই সংশ্লিষ্ট সদস্যদের চিঠি মারফৎ ইস্তফা পত্র দেওয়ার সঠিক জায়গা বলে দেওয়া হয়েছে। 

    এদিকে, আপাতত দ্বিতীয়বার পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পথে হাঁটছেন না ওই তিন সদস্য। জেলা পরিষদ সদস্য সুভাষ ভাওয়াল বলেন, আমাদের ইস্তফা  জেলা শাসক গ্রহণ করেননি। মালদহের ডিভিশনাল কমিশনারের দফতরে ইস্তফা দিতে হবে বলে জানানো হয়েছে। কিন্তু এই বিষয়টি জানাতে কেন প্রায় দেড় মাস সময় লাগল? নিয়ম সঠিক হয়নি, তা জানাতে এক ঘণ্টাও লাগার কথা নয়। তাহলে কি রাজনৈতিক ভাবে আমাদের উপর চাপ তৈরির কৌশল নেওয়া হয়েছিল? আমরা দ্বিতীয়বার ইস্তফা দেওয়ার কথা ভাবছি না। উন্নয়নের কাজ করতে দিলে কাজ করব, না হলে বসে থাকব।

    বিজেপির জেলা সভাপতি স্বরূপ চৌধুরী বলেন, সঠিক নিয়ম জানাতে জেলা পরিষদের কেন দেড় মাস সময় লাগলো তা তাঁরাই বলতে পারবেন। আমাদের দল কাউকে ইস্তফা দিতে চাপ দেয়নি। 
  • Link to this news (বর্তমান)