সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: দিল্লির যন্তরমন্তরে আন্দোলনকারী এক সিজেপি কর্মীর বাবাকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল বিজেপির বিরুদ্ধে। মৃতের নাম শেখ মহম্মদ মাফিক (৪৯)। তাঁর বাড়ি ইন্দাসের করিষুণ্ডা গ্রামে। গত ১৩ আগস্ট রাতে তাঁকে ও তাঁর ছেলে শেখ আব্দুল হাফিজকে মারধর করা হয়। এমনকি, তারপর বাধা দেওয়া হয় চিকিৎসা করাতেও। অনেক চেষ্টার পর বর্ধমান হাসপাতালে ভরতি করা হলেও শেষরক্ষা হয়নি। শনিবার রাতে মাফিকের মৃত্যু হয়। ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছেন বাসিন্দারা। উত্তেজনা থাকায় প্রচুর পুলিশ মোতায়েন করা হয়। রবিবার দুপুরে মৃতের স্ত্রী ইন্দাস থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। বাঁকুড়া জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হেড কোয়ার্টার কুশানু রায় বলেন, ‘মৃতের স্ত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযোগে কোনো রাজনৈতিক যোগের উল্লেখ নেই।’ যদিও মৃতের ছেলে সংবাদমাধ্যমে দাবি করেন, ‘বিজেপির লোকজনই বাবাকে পিটিয়ে খুন করেছে। ওদের নেতা-কর্মীরা চিকিৎসা করাতে বাধা না দিলে বাবাকে হয়তো বাঁচাতে পারতাম। দোষীদের চরম শাস্তি চাই।’ সিজেপি নেতা অভিজিৎ দিপকে সোশ্যাল মিডিয়ায় দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। দিল্লি থেকে ইন্দাসে টিম পাঠানোর কথাও বলেছেন। এসইউসিআইয়ের রাজ্য সম্পাদক চণ্ডীদাস ভট্টাচার্য বলেন, ‘বিজেপি সুশাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এটা কি তার নমুনা?’ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, ‘ইতিমধ্যেই পুলিশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে। বাকিদেরও গ্রেপ্তার করা হবে। পরিবার যেমন চেয়েছে, পুলিশ অ্যাকশন নিয়েছে।’
হাফিজ ১৯ জুলাই দিল্লিতে যন্তরমন্তরে আন্দোলনে যোগ দেন। সেখানকার ভিডিয়ো নিজের সোশ্যাল মিডিয়ার পেজে পোস্ট করেন হাফিজ। তাতেই এলাকার বিজেপি নেতাদের ক্ষোভ আছড়ে পড়ে তাঁর উপর। ১২ আগস্ট সিজেপির তরফে নতুন কর্মসূচি ‘স্কুল ঠিক করার’ বার্তা দেওয়া হয়। সেইমতো হাফিজ নিজের গ্রামের স্কুলে গিয়ে শিক্ষকের সঙ্গে পরিকাঠামো নিয়ে আলোচনা করেন। তার একটি ভিডিয়ো পোস্টও করেন। অভিযোগ, ওইদিন রাত ৮টা নাগাদ বিজেপি কর্মীরা হাফিজের বাড়িতে চড়াও হয়। তাঁকে মারধর করে। প্রাণ বাঁচাতে তিনি ঘরে ঢুকে দরজায় খিল দিয়ে দেন। ছেলেকে বাঁচাতে গেলে মাফিক সাহেবকে প্রচণ্ড মারধর করা হয়। জখম অবস্থায় তাঁকে ইন্দাস হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসা করতে দেওয়া হয়নি। সেখান থেকে অন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হলে রাস্তায় ফের মারধর করে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। বিনা চিকিৎসায় প্রায় ২৪ ঘণ্টা বাড়িতে পড়ে থাকেন তিনি। অবস্থার অবনতি হলে ১৫ তারিখ বর্ধমান হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই রাতেই মাফিক সাহেবের মৃত্যু হয়।