• রাতভর দুর্যোগে পূর্ব মেদিনীপুরে বন্যা পরিস্থিতি, জলমগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকা
    বর্তমান | ১৮ আগস্ট ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: রাত থেকে টানা ভারী বৃষ্টিতে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। হলদিয়া, নন্দীগ্রাম, চণ্ডীপুর, ময়না, ভগবানপুর ও পটাশপুরের একাধিক এলাকা জলমগ্ন। বহু বাড়িতে জল ঢুকে পড়েছে। জলমগ্ন হয়েছে রাস্তাঘাট, হাটবাজার এবং গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথও। পূর্ব মেদিনীপুরের বেশকিছু  স্কুলও জলমগ্ন। এই অবস্থায় বেশকিছু জায়গায় স্কুল বন্ধ থাকার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। 

    বৃষ্টির জেরে কেলেঘাই নদীর জলস্তর দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ভগবানপুর ও পটাশপুরের বাসিন্দারা নদীবাঁধের পরিস্থিতি নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন। টানা বর্ষণের ফলে বাঁধের উপরও চাপ বাড়ছে বলে স্থানীয়দের আশঙ্কা। হলদিয়া পুরসভা এলাকায় পরিস্থিতি মোকাবিলায় কন্ট্রোলরুম খোলা হয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে ক্যাম্পও চালু করা হয়েছে। জলবন্দি বাসিন্দাদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যেতে নামানো হয়েছে এনডিআরএফ। মহকুমা পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, জরুরি প্রয়োজনে ৭৯৮০০২০৯৩৮ নম্বরে ফোন করলে এনডিআরএফ টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে যাবে। নন্দীগ্রাম ও চণ্ডীপুরের একাধিক এলাকায় রাতভর জল ঢোকার কারণে দুর্ভোগে পড়েছেন বাসিন্দারা। ময়নাতেও পথঘাট ও বাজার জলমগ্ন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসনের তরফে নজরদারি ও উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছে।

    কেলেঘাই নদীর জলস্তর বাড়লেই সবচেয়ে বেশি চাপ তৈরি হয় পটাশপুর-১ ব্লকের আমগেছিয়া ও তার সংলগ্ন তালছিটকিনি এলাকায়। নদীর বাঁক থাকার কারণে ওই অংশে নদীবাঁধের উপর চাপ তুলনামূলক বেশি থাকে। ২০২১ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর তালছিটকিনি গ্রামে কেলেঘাই নদীর বাঁধ ভেঙে গোটা পটাশপুর ও ভগবানপুর প্লাবিত হয়েছিল। পাঁচ বছর পর ফের আমগেছিয়া ও তালছিটকিনি এলাকা নিয়ে উদ্বেগে প্রশাসন ও সেচদপ্তর। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমগেছিয়ায় সেচদপ্তরের অফিসে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। সেখানে ২৪ ঘণ্টার জন্য সেচদপ্তরের এসডিও তানভীর আলমকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। 

    এদিকে কেলেঘাই নদীর উপর থাকা একাধিক বাঁশ ও কাঠের সাঁকো জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে। রবিবার ময়নার আসনান থেকে ভগবানপুরের গুড়গ্রামের মধ্যে যোগাযোগকারী বাঁশের সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। আমড়াখালি ও চারুবাবুর খেয়াঘাটেও যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। আমগেছিয়া, বাড়মক্ষল, লক্ষ্মীরচক, জাতকাটা বাজার-সহ বিভিন্ন এলাকায় নদীবাঁধ মেরামতের কাজ জোরকদমে চলছে। পরিস্থিতির উপর রাতদিন নজরদারি রাখা হচ্ছে। শনিবার সেচদপ্তরের কাঁথির এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার কৌশিক মণ্ডল বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। রবিবার সেচমন্ত্রী নদীপথে নৈপুর, গোকুলপুর, মহেশপুর, অমরপুর-সহ কেলেঘাই নদীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন। পরে আমগেছিয়ায় সেচদপ্তরের ইঞ্জিনিয়ারদের নিয়ে বৈঠক করেন তিনি। ওই বৈঠকে এগরার মহকুমা শাসক এবং পটাশপুরের বিডিও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক থেকে আমগেছিয়া ও তালছিটকিনি এলাকায় নদীবাঁধের উপর ২৪ ঘণ্টা নজরদারি রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
  • Link to this news (বর্তমান)