শান্ত প্রকৃতির আশরাফুল পড়াশোনায় মগ্ন থাকত, জঙ্গি-যোগে স্তম্ভিত মা
বর্তমান | ১৮ আগস্ট ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: বাদুড়িয়ার নোয়াপাড়ার বাসিন্দা আশরাফুল মল্লিককে জঙ্গি-যোগের অভিযোগে বেঙ্গালুরু থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর সঙ্গে যোগাযোগ এবং অনলাইনে জঙ্গি কার্যকলাপে যুক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। আফগানিস্তান যাওয়ার প্রস্তুতি চলছিল বলেও দাবি তদন্তকারীদের। আশরাফুলের গ্রেপ্তারির খবর বাড়িতে পৌঁছাতেই উদ্বেগে পরিবার। ছেলের কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন মা হাফিজা বিবি। এই ঘটনায় হতবাক প্রতিবেশীরা।
নোয়াপাড়ার ইটের গাঁথনির ছোটো বাড়িতে বসে ছেলের পড়াশোনার বই দেখাচ্ছিলেন হাফিজা। ডব্লুবিসিএসের বই থেকে সরকারি চাকরির প্রস্তুতির নানা বই। তাঁর দাবি, পড়াশোনায় ভালো ছিল আশরাফুল। গোবরডাঙা হিন্দু কলেজ থেকে স্নাতক হওয়ার পর একাধিক সরকারি চাকরির পরীক্ষা দেয়। পুলিশের চাকরির জন্যও চেষ্টা করে। কিন্তু চাকরি না হওয়ায় সংসারের অভাব সামলাতে বছর দেড়েক আগে বেঙ্গালুরুতে একটি বেসরকারি সংস্থায় নিরাপত্তারক্ষীর কাজ নেয়। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বেঙ্গালুরু যাওয়ার পর আর বাড়ি ফেরেনি আশরাফুল। হঠাৎ পুলিশ তার বাবাকে বেঙ্গালুরুতে ডেকে পাঠায়। সেখানে যাওয়ার পর ছেলের গ্রেপ্তারির কথা জানতে পারেন তিনি। ছেলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অবশ্য মানতে নারাজ পরিবার।
হাফিজার কথায়, আমার ছেলে অত্যন্ত শান্ত। সব সময় পড়াশোনা নিয়ে থাকত। আফগানিস্তানের ভিসা বা পাসপোর্টের ব্যাপারে আমরা কিছুই জানি না। ও জঙ্গি কার্যকলাপে জড়িয়েছে, এটা বিশ্বাস করতে পারছি না। তদন্তকারীদের দাবি, অনলাইনের মাধ্যমে জঙ্গি কার্যকলাপে যুক্ত হওয়ার জন্য প্রভাবিত হয়েছিল সে। পরে টিটিপি’র সঙ্গে যোগাযোগ করে। তার পাসপোর্ট ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট পরীক্ষা করা হয়েছে। বিদেশ থেকে তার অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকার প্রমাণ মিলেছে বলে দাবি পুলিশের।
তবে আশরাফুলকে নিয়ে স্থানীয়দের ধারণা ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। প্রতিবেশী আসের আলি বলেন, আশরাফুলকে খুব ভালো ছেলে বলেই জানতাম। পড়াশোনা করত, চাকরির পরীক্ষা দিত। কোনো অসামাজিক কাজ বা ঝামেলায় ওকে কখনও দেখিনি। আরেক বাসিন্দা রুমা বিবির বক্তব্য, শান্ত মেজাজের ছেলে ছিল আশরাফুল। পড়াশোনায় অত্যন্ত ভালো ছিল। কেন এমন হল বুঝলাম না! সত্যি এত বড়ো অপরাধে সে জড়িত, ভাবতেই পারছি না। দেখে বোঝাও যেত না। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, চাকরি না পাওয়ার হতাশা থেকে কেউ হয়ত তাকে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে প্রভাবিত করেছিল। তবে এ নিয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে পারছেন না কেউই। প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তইবার সঙ্গে বাদুড়িয়ার তরুণী তানিয়া পারভিনের যোগাযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়। পরে তাকে রাজ্য এসটিএফ গ্রেপ্তার করে। তবে কেন বাদুড়িয়ার কম বয়সি তরুণ-তরুণীদের টার্গেট করছে এই সমস্ত নিষিদ্ধ সংগঠন, তা নিয়ে রীতিমতো চিন্তায় নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।