• আইএসআই কর্তাদের কাছে সিম জোগান, এসটিএফের নজরে কয়েকজন ভারতীয় ডিলার, গ্রেপ্তার রাজ্যের ৩ সাপ্লায়ার
    বর্তমান | ১৮ আগস্ট ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও কোচবিহার: ডিলারদের কাছ থেকে গুচ্ছ গুচ্ছ মোবাইলের সিম তুলছে আইএসআই চররা। সেগুলি পাকিস্তান, নেপাল ও বাংলাদেশে পৌঁছে যাচ্ছে। এই ডিলারদের বেশিরভাগই এই রাজ্যের বাসিন্দা। পাক চর রানা রউফ খালিদকে জেরা করে এই তথ্য পেয়েছে বেঙ্গল এসটিএফ। এই ডিলারদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে। রানার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার রাতে কোচবিহারের সাহেবগঞ্জ ও তুফানগঞ্জ এলাকা থেকে থেকে নুর নাসিরুদ্দিন আলি, রশিদুল হক ও সফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছেন এসটিএফের অফিসাররা। নুর  নাসিরুদ্দিন তুফানগঞ্জ থানার বলরামপুরের চৌখুশি গ্রামের বাসিন্দা, সফিকুল উত্তর দিনাজপুরের পাঞ্জিপাড়ার এবং রশিদুলের বাড়ি সাহেবগঞ্জ থানা এলাকার থরাইখানা গ্রামে। শনিবার ধৃতদের দিনহাটা সিজেএম আদালতে পেশ করে এসটিএফ তাদের হেপাজতে নিয়েছে। 

    এসটিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের হয়ে হানিট্র্যাপের কাজ করত সফিকুল হক। সে বাংলাদেশের বাসিন্দা বলে গোয়েন্দাদের একাংশের দাবি। কিন্তু, পরিচয় গোপন করে ১২ বছর ধরে সে উত্তর দিনাজপুর জেলার গোয়ালপোখরে শ্বশুরবাড়িতে থাকত। পাকিস্তানের চরবৃত্তির অভিযোগে এসটিএফ প্রথমে সফিকুলকে গ্রেপ্তার করে। তাকে জেরা করে এবং তার মোবাইল ফোন থেকে সংগৃহীত তথ্যের উপর ভিত্তি করে এসটিএফ কোচবিহার থেকে নুর নাসিরুদ্দিন আলি ও রশিদুল হককে গ্রেপ্তার করে। 

    গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, নুর নাসিরুদ্দিন স্থানীয় একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নৈশপ্রহরীর কাজ করত। সেখান থেকেই শুক্রবার এসটিএফ তাকে গ্রেপ্তার করে। নাসিরুদ্দিন ও রশিদুল দুজনেরই বাড়ি বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া এলাকায়। তারা গোরু এবং জালনোট পাচার চক্রে জড়িত।  বাড়ি থেকে দেড় কিমির মধ্যেই রয়েছে বাংলাদেশ সীমান্ত। অঞ্চলটি গোরু পাচারের অন্যতম স্বর্গরাজ্য বলে পুলিশের একটি বিশ্বস্ত সূত্রের দাবি। রশিদুলের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে পাঁচটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে এসটিএফ।

    নুর নাসিরুদ্দিন, তদন্তে উঠে এসেছে, রশিদুল হক ও সফিকুল রানার নির্দেশমতো এই রাজ্যে চরবৃত্তির কাজ করছিল। তাদের দায়িত্ব ছিল বিভিন্ন ডিলারের কাছ থেকে প্রি-অ্যাক্টিভেটেড সিম সংগ্রহ করা। একেকটি সিম নেওয়ার জন্য তিন থেকে চার হাজার টাকা দিত তারা। এই সিমকার্ড তারা নেপাল ও বাংলাদেশে পাচার করত। সেখানকার দায়িত্বপ্রাপ্ত আইএসআই এজেন্টরা ভারতীয় সিম ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপ ও ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলত। এই দুই দেশে থেকে সিম আবার পাঠিয়ে দেওয়া হত পাকিস্তানে বসবাসকারী বড়ো আইএসআই অফিসারদের কাছে। তারা এই সিম ব্যবহার করে ভারতীয় চরদের সঙ্গে ভয়েস কলিং ও হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ আদানপ্রদান করত। পাশাপাশি হানিট্রাপে ফেলার জন্য ব্যবহার হত এই সিম। ১২ বছরে কয়েক হাজার সিম পাকিস্তানে গিয়েছে বলে তদন্তকারীদেকর অনুমান। কোন কোন ডিলার পয়েন্ট থেকে এই সিমগুলি গিয়েছে সেগুলি চিহ্নিত করা হচ্ছে। তার ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 
  • Link to this news (বর্তমান)