টুলুর সিন্ডিকেটে যোগ! ফের গ্রেপ্তার অনুব্রতর প্রাক্তন দেহরক্ষী সেহগাল, উদ্ধার পাকিস্তান ও আরবের মুদ্রা
বর্তমান | ১৮ আগস্ট ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি ও সংবাদদাতা, বোলপুর: গোরু পাচার কাণ্ডে সিবিআইয়ের জালে ধরা পড়ে টানা দু’বছর তিহার জেলে ছিলেন। মাস চারেক আগে জামিনে মুক্ত হন। পাথর মাফিয়া টুলু মণ্ডলের বেআইনি সিন্ডিকেটের অন্যতম পাণ্ডা হিসাবে তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডলের একসময়ের ছায়াসঙ্গী তথা সাসপেন্ডেড কনস্টেবল সেহগাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। টুলুর সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা নিয়ে তদন্ত চালচ্ছে পুলিশ। বোলপুর বাইপাস সংলগ্ন সেহগালের বিলাসবহুল আবাসনে তল্লাশি চালিয়ে নগদ ১২লক্ষ ৮৪ হাজার টাকা, প্রায় ৮০০গ্রাম সোনা এবং বেশ কিছু পাকিস্তানি ও আরব আমিরশাহীর মুদ্রা মিলেছে। দেড়শোটি জমির দলিলের হদিশ মিলেছে। বর্ধমান ও মুর্শিদাবাদেও তাঁর নামে-বেনামে প্রচুর জমি রয়েছে বলে পুলিশের দাবি।
গোপন সূত্রে খবর পেয়ে শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ বোলপুরের এসডিপিও অর্পিত আর পারাখের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী সেহগালের ফ্ল্যাটে আচমকা হানা দেয়। শনিবার স্বাধীনতা দিবসে দিনভর চলে তল্লাশি। তাতেই চক্ষু চড়কগাছ হওয়ার জোগাড় তদন্তকারীদের। নগদ টাকা, সোনা বিদেশি মুদ্রা, প্রচুর জমির দলিলের হদিশ মিলেছে। জেরায় অসঙ্গতি মেলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। রবিবার ধৃতকে সিউড়ির বিশেষ আদালতে পেশ করা হলে বিচারক তাঁকে সাতদিন পুলিশি হেপাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। সরকারি আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘তদন্ত করতে গিয়েই সেহগাল হোসেনের নাম উঠে এসেছে। টুলুর অপরাধ চক্রের সঙ্গে তাঁর যোগ রয়েছে। বাকিটা তদন্তসাপেক্ষ।’ তবে উদ্ধার হওয়া বৈদেশিক মুদ্রার পরিমাণ ঠিক কতটা তা তদন্তের স্বার্থে তিনি স্পষ্ট করেননি।
আদালতে তোলাব সময় সেহগাল বলেন, ইডি ও সিবিআই আমার বিরুদ্ধে তদন্ত করেছে। আমি চার মাস ধরে জামিনে রয়েছি। আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে। এর পিছনে বড় কোনও মাথা থাকতে পারে। তবে আমি এই কারবারের সঙ্গে যুক্ত নই। তাঁর আইনজীবী শাহরুখ খান বলেন, ‘কয়েকটি বিদেশি মুদ্রা পাওয়ার ভিত্তিতে পুলিশ কাউকে এভাবে তুলে নিয়ে যেতে পারে না।’