নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: সকাল থেকেই দফায় দফায় বৃষ্টি। কখনো ঝিরঝির, কখনো আবার ঝমঝমিয়ে। কিন্তু তাতেও কমল না ভক্তদের উৎসাহ। বৃষ্টি মাথায় করেই শ্রাবণের শেষ রবিবার রামরাজার বিসর্জনের শোভাযাত্রায় শামিল হলেন হাজার হাজার মানুষ। প্রায় ৩০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী এই শোভাযাত্রাকে ঘিরে এদিন কার্যত জনস্রোতে ভাসল মধ্য হাওড়া। রামরাজাতলা থেকে রামকৃষ্ণপুরঘাট পর্যন্ত কয়েক কিমি পথ জুড়ে ছিল উৎসবের আবহ।
রামরাজার শোভাযাত্রা ঘিরে সকাল থেকেই মধ্য হাওড়ার বিভিন্ন রাস্তায় ভিড় জমতে শুরু করে। নির্দিষ্ট রীতি মেনে প্রথমে ইছাপুরের দেবী সৌম্যচণ্ডীর বিগ্রহ আসে সাঁতরাগাছি মোড়ে। এরপর বাকসাড়া থেকে যোগ দেয় ছোটো নবনারী ও বড়ো নবনারী। সবশেষে বের হয় রামরাজার মূল শোভাযাত্রা। নতুন রাস্তার মোড়, চক্রবেড়িয়া, নেতাজি সুভাষ রোড, মল্লিক ফটক এবং পি কে ব্যানার্জি রোড হয়ে তা পৌঁছয় রামকৃষ্ণপুর ঘাটে। বিভিন্ন এলাকার ছোটো পুজো কমিটিও রাম, হনুমান ও বামনাবতারের বিগ্রহ নিয়ে অংশ নেয়। বৃষ্টির হাত থেকে প্রতিমা রক্ষা করতে সেগুলি স্বচ্ছ প্লাস্টিকে ঢেকে রাখা হয়েছিল।
ভিড় ও যানজট নিয়ন্ত্রণে আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল হাওড়া সিটি পুলিস। দুপুরের মধ্যে রামচরণ শেঠ রোড, শাস্ত্রী নরেন্দ্র গাঙ্গুলি রোড, মহেন্দ্র ভট্টাচার্য রোড ও নেতাজি সুভাষ রোডে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। বিকল্প রাস্তায় যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত সিভিক ভলান্টিয়ার-সহ কয়েকশো পুলিসকর্মী মোতায়েন ছিলেন। ড্রোনের মাধ্যমেও চলে নজরদারি। শোভাযাত্রার সময় নির্দিষ্ট রুটে সাময়িক ভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রাখা হয়। বিভিন্ন জায়গায় ছিল জলসত্র। শোভাযাত্রায় উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই এবং শিবপুরের বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ।
রামরাজার পুজোর ইতিহাস প্রায় ৩০০ বছরের পুরানো। প্রচলিত ইতিহাস অনুযায়ী, ১৭৫০ সাল নাগাদ নোনাপুকুরে কনৌজি ব্রাহ্মণ পরিবারের হাত ধরে পুজোর সূচনা। পরে তা চলে আসে অধুনা রামরাজাতলায়। প্রায় ২৬ ফুট উচ্চতার সবুজবর্ণ, গোঁফধারী রাজবেশী রাম এখানে ‘রামরাজা’ নামে পরিচিত। একই কাঠামোয় সীতার পাশাপাশি পুজো হয় ব্রহ্মা, মহাদেব, সরস্বতী-সহ ২৫ দেবদেবীর। রামনবমী থেকে চারমাস পুজোর পর শ্রাবণের শেষ রবিবারে হয় বিসর্জন। এই শোভাযাত্রার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বৈদ্যুতিক খুঁটির উচ্চতার ইতিহাসও। রামরাজার উচ্চতা অনুযায়ী একসময় শোভাযাত্রার পথে খুঁটিগুলির উচ্চতা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত হয়েছিল। রামরাজাতলা থেকে গঙ্গার ঘাটের পথে আজও তার নজির দেখা যায়।