‘বিকশিত ভারত’ নিয়ে স্বাধীনতা দিবসে হুগলির পঞ্চায়েতগুলিতে বিশেষ সভা, জেলাজুড়ে পক্ষে-বিপক্ষে জোর চর্চা
বর্তমান | ১৮ আগস্ট ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: স্বাধীনতা দিবসেও সচল ছিল গ্রাম পঞ্চায়েত। জেলা প্রশাসনের নির্দেশে হুগলির গ্রাম পঞ্চায়েতগুলিতে এক বিশেষ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। মূলত, কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের নির্দেশে ওই কর্মসূচি পালিত হয়। ‘জনসংবাদ ২.০ বিকশিত ভারত গ্রাম সংকল্প’ নামে ওই কর্মসূচিকে ঘিরেই স্বাধীনতা দিবসে চালু ছিল গ্রাম পঞ্চায়েত। গ্রামবাসীদের জন্য একগুচ্ছ যোগদানমূলক কাজ ওই বিশেষ গ্রামসভায় করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে এমনটাই খবর। যোগদানের অর্থ হল, নাগরিকরা ওই কর্মসূচিতে স্বেচ্ছায় অংশগ্রহণ করবেন। গ্রামের উন্নয়নের খতিয়ান পেশ, ১২৫ দিনের কাজ নিয়ে আলোচনা সভা, উন্নয়নের চাহিদা নিয়ে বিশেষ ভোটদান, এসব কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
তবে অন্যতম উল্লেখযোগ্য কর্মসূচি ছিল কথপোকথন। অর্থাৎ প্রশ্নোত্তর পর্ব। সেখানে গ্রামবাসীদের প্রশ্নের জবাব দিতে হয়েছে পঞ্চায়েতের কর্তাদের। উন্নয়নের কাজ নিয়ে গ্রামসভায় বর্তমান পরিস্থিতি ব্যাখ্যা ও নাগরিকদের প্রশ্নের জবাবদিহি করতে হয়েছে। স্বাধীনতা দিবস পালনের এই ভিন্ন কর্মসূচিকে ঘিরে ইতিমধ্যেই পক্ষে-বিপক্ষে চর্চা শুরু হয়েছে। মগরা ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান রঘুনাথ ভৌমিক বলেন, আমরা ভালো প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। গ্রামেও প্রচার করা হয়েছিল। শনিবার দুপুরে বিশেষ গ্রামসভা হয়েছে। তবে পঞ্চায়েতের এক কর্মকর্তা বলেন, ১৫ আগস্ট গ্রামবাসীরা অন্য উন্মাদনায় থাকেন। সেকারণেই এই কর্মসূচিতে মানুষের যোগদানের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন থাকছেই। পরিকল্পনার পক্ষে অবশ্য জোরালো সওয়াল করেছেন বিজেপির হুগলি সাংগঠনিক জেলার সভাপতি গৌতম চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার গ্রামীণ মানুষকে তাঁদের অধিকার বুঝে নেওয়ার সুযোগ দিচ্ছে। সেই অধিকার উদযাপনের জন্য স্বাধীনতা দিবসের থেকে ভালো দিন কিছু হতেই পারে না। গ্রামীণ মানুষ যাতে ওই অনুষ্ঠানে যোগ দেন, আমরা তা নিশ্চিত করেছি। এ নিয়ে প্রচার করা হয়েছিল। চণ্ডীতলার পাঁচঘরা গ্রাম পঞ্চায়েতের বিরোধী দলনেতা সিপিএমের আসিফ আলি বলেন, উন্নয়নের তুলনায় ভুয়ো প্রচার বেশি হচ্ছে। এসব শুধুই লোকদেখানো। নাগরিকদের প্রকৃত উন্নয়ন এভাবে হয় না। আর সেই প্রচারের জন্য স্বাধীনতা দিবসকে ব্যবহার করা এক রকমের প্রতারণা। বিকশিত ভারত স্লোগানে জোর না দিয়ে ভারতের প্রকৃত বিকাশ করলে প্রচারের দরকারই পড়ত না।
পক্ষে-বিপক্ষে মতের মধ্যেই স্বাধীনতা দিবসের বিশেষ গ্রামসভা সুষ্ঠুভাবে জেলায় পালিত হয়েছিল। বিশেষভাবে সাজানো হয়েছিল পঞ্চায়েতগুলিকে। মানুষের উৎসাহ নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও বিশেষ সভাকে কেন্দ্র করে আয়োজনের বাহারও বিশেষ চর্চায় থাকছে। ফাইল চিত্র