• জেলা ভাগের মানচিত্রের বিরুদ্ধে রাস্তায় তারকেশ্বর, ‘হুগলিতেই থাকব’, জাতীয় পতাকা হাতে মিছিল
    বর্তমান | ১৮ আগস্ট ২০২৬
  • সংবাদদাতা, তারকেশ্বর: হুগলি জেলাকে দু’ভাগে ভাগ করার কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। কোন কোন বিধানসভা ও ব্লক আরামবাগে বা হুগলির মধ্যে থাকবে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চাপানউতোর। তারকেশ্বরকে হুগলি জেলার মধ্যে রাখার দাবি জানিয়ে শনিবার স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় পতাকা হাতে পথে নেমেছিল এই শহরের বাসিন্দাদের একাংশ। তাদের একটাই স্লোগান, ‘দাবি এক দফা এক, তারকেশ্বর হুগলিতেই থাক’। এই পদযাত্রা শুরু হয় তারকেশ্বর নতুন বাসস্ট্যান্ড থেকে। তারপর জয়কৃষ্ণ বাজার, থানা রোড হয়ে বিডিও অফিসে এসে শেষ হয় পদযাত্রা। সেখানে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

    প্রসঙ্গত, হুগলি জেলার তারকেশ্বর, ধনেখালি, জাঙ্গিপাড়া— এই তিনটি তিন মহকুমার প্রান্তিক ব্লক। তারকেশ্বর, হরিপাল, সিঙ্গুরের মানুষকে চন্দননগর মহকুমা আদালত, হাসপাতাল কিংবা অন্যান্য কাজের জন্য চুঁচুড়ার দিকে আসতে হলে দু’বার ট্রেন বদল করতে হয়। অন্যদিকে, হাওড়া জেলা লাগোয়া জাঙ্গিপাড়ার শেষ প্রান্তের গ্রাম থেকে শ্রীরামপুর মহকুমায় পৌঁছাতে সমস্যায় পড়তে হয় স্থানীয় বাসিন্দাদের। তারকেশ্বর বিধানসভার ১৫টি পঞ্চায়েতের মধ্যে ১০টি তারকেশ্বর ব্লকের অন্তর্গত। তারকেশ্বর ব্লকটি আবার চন্দননগর মহকুমার অধীনে। এই বিধানসভার ধনেখালি ব্লকের অন্তর্গত পাঁচটি পঞ্চায়েত রয়েছে চুঁচুড়া মহকুমায়। এই জটিল মানচিত্রের ফলে সমস্যায় পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। ধনেখালি, তারকেশ্বর, হরিপাল, জাঙ্গিপাড়া থেকে মহকুমা শহর চন্দনগরের দূরত্ব অনেকটাই। জেলা ভাগ নিয়ে এইসব বিধানসভা এলাকার বাসিন্দাদের চর্চার শেষ নেই।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তারকেশ্বরের এক বাসিন্দা বলেন, হুগলি জেলা বিভাজন ঘিরে গোপন রাজনৈতিক বোঝাপড়া চলছে। আরামবাগ লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত সাতটি বিধানসভার মধ্যে চন্দ্রকোনা, তারকেশ্বর ও হরিপাল আরামবাগ মহকুমার অন্তর্গত নয়। বিজেপির আরামবাগ সাংগঠনিক জেলার দায়িত্বে যে সমস্ত নেতা রয়েছেন, তাঁরা প্রত্যেকেই আরামবাগের বাসিন্দা। তাঁরা চাইছেন হরিপাল ও তারকেশ্বরকে আরামবাগের অন্তর্ভুক্ত হোক। যদি এই সমীকরণ মানা হয়, তাহলে তারকেশ্বরের বাসিন্দারা আন্দোলনের পথে হাঁটবেন। দামোদরকে বিভাজন রেখা ধরে জেলা ভাগ করা প্রয়োজন। তারকেশ্বরের বাসিন্দা শিক্ষক সৌমজিৎ মাইতি বলেন, তারকেশ্বর ঐতিহাসিক স্থান। শেওড়াফুলির নিমাইতীর্থ ঘাট থেকে গঙ্গাজল নিয়ে ভক্তরা তারকেশ্বরে এসে শিব ঠাকুরের মাথায় জল ঢালেন। তারকেশ্বরকে কেটে আরামবাগের মধ্যে ঢোকালে ঐতিহ্য নষ্ট হবে। তাঁর দাবি, প্রান্তিক জেলাগুলিকে নিয়ে তৈরি হোক তারকেশ্বর মহকুমা। এই বিষয়ে বিধায়ক, বিডিও সহ জেলা ও রাজ্যের বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তরে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।

    হরিপালের বাসিন্দা মনোজিৎ দাস বলেন, চন্দননগর ও চুঁচুড়া দু’টি পাশাপাশি মহকুমা।‌ প্রান্তিক এলাকা থেকে যাতায়াত করতে সমস্যা হয়। হরিপালের বাসিন্দা হিসাবে আমরা চাই, কাছাকাছি কোনো মহকুমা তৈরি হোক। তাহলে উপকৃত হবেন প্রান্তিক এলাকার মানুষজন।
  • Link to this news (বর্তমান)