৪ ঘণ্টা এন্টালি থানা ‘তালাবন্দি’ করে বিক্ষোভ মার খাওয়া গোষ্ঠীর, বিজেপির দুই আইনজীবীর লড়াই প্রকাশ্যে
বর্তমান | ১৮ আগস্ট ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: খাস কলকাতা। মধ্যরাতে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান। এবং বিজেপির দুই গোষ্ঠীর লড়াই। এই দ্বন্দ্বেই উত্তপ্ত হল ট্যাংরার বৈশালী এলাকা। নেপথ্যে বিজেপিরই দুই আইনজীবী শিবির। একপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠল মারধর, ভাঙচুরের। আর যারা মার খেল, সেই শিবির বেনজিরভাবে টানা চার ঘণ্টা বন্ধ করে দিল এন্টালি থানা। বিক্ষোভ-অবস্থানের জেরে কাজকর্ম তো শিকেয় বটেই, মহিলা পুলিশকর্মীদেরও আটকে রাখা হল থানায়। এমনকি, অভিযোগ জানাতে আসা সাধারণ মানুষকেও ফিরে যেতে বাধ্য করে বিক্ষোভকারী গোষ্ঠী। থানায় এই তাণ্ডবের খবর ইতিমধ্যেই স্বরাষ্ট্র ও আইন দপ্তরে পৌঁছেছে। বিষয়টির লিখিত রিপোর্ট লালবাজারে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এন্টালি থানাকে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মধ্যরাতে স্বাধীনতা দিবস পালনের জন্য ট্যাংরার বৈশালী এলাকায় একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন স্থানীয় বিজেপি নেতা তথা সরকারি আইনজীবী দিলীপ রাম। তাঁর অভিযোগ, অনুষ্ঠান চলাকালীন সেখানে প্রায় ১৫০-২০০ জন হাজির হয়। তারা সকলেই বিজেপি নেত্রী তথা আইনজীবী প্রিয়াঙ্কা টিব্রেওয়ালের অনুগামী। প্রশ্ন তোলে, এই অনুষ্ঠানে প্রিয়াঙ্কাকে ডাকা হয়নি কেন? তারপরই মঞ্চে উঠে তাণ্ডব শুরু করে দেয় টিব্রেওয়াল শিবির। ভাঙচুর করা হয় মঞ্চ ও চেয়ার। মারধরও করা হয় দিলীপ শিবিরের কর্মী-সমর্থকদের। যদিও পালটা মারধরের অভিযোগও রয়েছে টিব্রেওয়াল শিবিরের। দিলীপবাবুর অভিযোগ, ‘পুলিশের ভূমিকা ঠিক ছিল না। চাপে পড়ে কয়েকজনকে ধরলেও কিছু দূর নিয়ে গিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’ এরই মধ্যে খবর আসে, পদ্মপুকুর এলাকায় তাঁদের খুঁটিপুজোর জায়গায় হামলা চালিয়েছে প্রিয়াঙ্কার অনুগামীরা। ছেঁড়া হয়েছে ব্যানার-ছবি। তখনই দিলীপ শিবির সরাসরি চলে আসে এন্টালি থানায়। অভিযোগ, থানার গেটে তালা লাগিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা। বন্ধ করে দেয় থানার পিছনের গেটও। ফলে কোনো পুলিশকর্মী ঢুকতে বা বেরতে পারেননি। অবরুদ্ধ করে দেওয়া হয় থানার সামনের রাস্তাও। গাড়ির লম্বা লাইন পড়ে যায় সেখানে। পুলিশ তালা খুলে দেওয়ার জন্য বারবার অনুরোধ করলেও, বিক্ষোভকারীরা সেই কথা কানে তোলেনি বলে অভিযোগ। থানার পুলিশকর্মীরা কথা বলতে এলে বিক্ষোভরত বিজেপি কর্মীরা তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে বলে অভিযোগ। গায়ে হাত তোলা হয়, হেনস্তা করা হয় মহিলা পুলিশকর্মীদেরও। পরিস্থিতি এমন অবস্থায় পৌঁছায়, এলাকায় রাউন্ড পর্যন্ত দিতে যেতে পারেনি পুলিশ। অভিযোগকারীরা থানায় এলে বলা হয়, এখন ঢোকা যাবে না। খবর পেয়ে এন্টালি থানায় আসেন লালবাজারের কর্তারা। তারপরও ভোর ৫টা পর্যন্ত থানার গেট আটকে তাণ্ডব চালান দিলীপ রামের অনুগামীরা। তাঁদের অভিযোগ খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিলে থানার গেট খোলে। যদিও দিলীপ রাম দাবি করেছেন, তাঁরা থানার গেটে তালা লাগাননি। পুলিশ তালা দিয়ে দেয়। কোনো পুলিশকর্মীকে হেনস্তাও করেননি। কিন্তু সরকারি প্যানেলের আইনজীবী হিসাবে তিনি কীভাবে থানার গেট আটকে বিক্ষোভ করলেন? এই প্রশ্নে তাঁর জবাব, ‘আমি আইন জানি। আইনের বাইরে কিছু করিনি।’ প্রিয়াঙ্কাদেবীর বক্তব্য, তিনি কোনো বেআইনি বিষয়কে প্রশ্রয় দেন না। ট্যাংরার অনুষ্ঠানে সমাজবিরোধীদের আনা হয়েছিল। এর প্রতিবাদ করেন স্থানীয় বিজেপি কর্মীরা। তখনই গোলমাল বাঁধে। আর যে এলাকায় খুঁটিপুজোর কথা বলা হচ্ছে, সেখানে তাঁকে ঢুকতে দেওয়া হয় না। দিলীপ রাম সমাজবিরোধীদের নিয়ে ঘুরে বেড়ান। তোলাবাজি চালাচ্ছেন।