রাইটার্স নয়, নবান্ন সরে যাবে নিউটাউনে, নজরে দুর্গাঙ্গনের জমি, সব দপ্তর এক ছাদের তলায়
বর্তমান | ১৮ আগস্ট ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাইটার্সে নয়, নিউটাউনে সরছে রাজ্য সরকারের প্রশাসনিক সদর দপ্তর। তেমনই পরিকল্পনা রয়েছে বর্তমান সরকারের। সেক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তর আর ছড়িয়েছিটিয়ে থাকবে না। ৫৪টি দপ্তরকেই এক ছাতার নীচে আনা হবে। অর্থাৎ রাজ্যের সদর দপ্তর নবান্ন থেকে রাইটার্স বিল্ডিংসে ফেরানোর আর কোনো সম্ভাবনা রইল না বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল। এক ছাদের তলায় সমস্ত দপ্তরকে এনে কাজে গতি আনতেই অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন এই সদর কার্যালয় গড়ে তোলা হবে। নিউটাউনের কোথায় মাথা তুলবে নয়া সচিবালয়? এর জন্য নজরুলতীর্থ মেট্রো স্টেশন সংলগ্ন ১৭.২৮ একর জমির কথা ভাবছে রাজ্য। পূর্বতন সরকারের আমলে এই জমিতেই দুর্গাঙ্গন গড়ে তোলার কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আরো দু’-একটি জমি দেখা হবে বলে জানা গিয়েছে নবান্ন সূত্রে। আগামী তিন বছরের মধ্যে নয়া সচিবালয় নির্মাণের কাজ শেষ করার টার্গেট নেওয়া হয়েছে। সেই মতো জমি চিহ্নিত করার কাজও দ্রুত শেষ হবে বলে মনে করছেন প্রশাসনের কর্তারা।
২০১৩ সালের ৫ অক্টোবর রাজ্যের প্রশাসনিক সদর দপ্তর রাইটার্স বিল্ডিংস থেকে সরিয়ে নবান্নে নিয়ে যান তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে জিতে আসার পর নবান্ন থেকে সরকার চালাতে রাজি ছিলেন না নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাই রাজ্যের প্রশাসনিক কার্যালয় ফের রাইটার্সে স্থানান্তরিত হবে বলে জোর জল্পনা শুরু হয়। মুখ্যমন্ত্রীর জন্য তড়িঘড়ি দু’টি ঘর প্রস্তুতও করে ফেলা হয় সেখানে। আপাতত সেই ঘর দু’টি তালাবন্ধ করে রাখা আছে। রাইটার্সের অন্যান্য অংশে মেরামতির কাজের জন্য সামগ্রী পড়ে আছে। স্বরাষ্ট্র, প্রশাসনিক ও কর্মিবর্গ দপ্তরসহ কিছু শাখার কাজ চলছে। সব মিলিয়ে ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, রাইটার্সে ফিরে আসার কোনো পরিকল্পনা নেই বিজেপি সরকারের।
মুখ্যমন্ত্রী, মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, ডিজির কার্যালয় থেকে শুরু করে অর্থ, কৃষি, বিপর্যয় মোকাবিলা, পূর্ত, তথ্য ও সংস্কৃতি, প্রশাসনিক ও কর্মিবর্গ, সংখ্যালঘু উন্নয়ন ইত্যাদি দপ্তর ২০১৩ সালেই নবান্নে সরে আসে। পুলিশ ডাইরেক্টরেটের মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যালয়ও চলে আসে হাওড়ার এই বহুতলে। তবে এই দপ্তরগুলির বেশ কিছু শাখা এবং একাধিক দপ্তরের অফিসের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা মেলেনি নবান্নে। তাই নব মহাকরণ এবং খাদ্যভবন থেকে কিছু দপ্তর পরিচালিত হচ্ছিল। তাছাড়া পঞ্চায়েত, মৎস্য, সমাজকল্যাণ, স্কুল ও উচ্চশিক্ষার মতো বড়ো দপ্তরগুলির রাজ্য কার্যালয় রয়েছে সল্টলেকে। সেখান থেকে নবান্নে যাতায়াতেই অনেকটা সময় চলে যায়। প্রসঙ্গত, ডিলিমিটেশন বা আসন পুনর্বিন্যাসের পর রাজ্যে বিধায়কের সংখ্যা বাড়তে পারে। সেকথা মাথায় রেখে ইতিমধ্যে নিউটাউনে নয়া বিধানসভা ভবন তৈরির কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তারপর থেকে রাজ্য প্রশাসনের সদর দপ্তরও নিউটাউনে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা শুরু হয় বলে জানা গিয়েছে।