বড় জয় পেলেন ছাত্রছাত্রীরা। টানা ২৪ দিনের আন্দোলনের জেরে অবশেষে মাথা ঝোঁকাতে বাধ্য হলো ঝাড়খণ্ড সরকার। পড়ুয়াদের দাবি মেনে অবশেষে সোমবার স্টাফ সিলেকশন কমিশনের কম্বাইন্ড গ্র্যাজুয়েট লেভেল (CGL) পরীক্ষা বাতিলের ঘোষণা করলেন ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন। শুধু তাই নয়, টিএসআর ডেটা প্রসেসিং লিমিটেড বা TDPL-এর মাধ্যমে যত পরীক্ষা এবং নিয়োগ হয়েছে, সেই সবও বাতিল করে দিয়েছেন তিনি।
TDPL একটি বেসরকারি সংস্থা। বিভিন্ন সরকারি পরীক্ষা পরিচালনার জন্য তাদের দায়িত্ব দিয়েছিল ঝাড়খণ্ড সরকার। কিন্তু পড়ুয়াদের দাবি ছিল, TDPL-এর মাধ্যমে হওয়া একাধিক নিয়োগ পরীক্ষায় ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। তাই সেই সব পরীক্ষা এবং নিয়োগ বাতিলের দাবি তুলে আন্দোলনে নামেন তাঁরা। শুরু হয় বিক্ষোভ-অবস্থান। গত কয়েক দিনে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠকে বসেছেন সরকারি প্রতিনিধিরা। কিন্তু কোনও সমাধান সূত্র মেলেনি। অবশেষে সোমবার সন্ধ্যায় হেমন্ত কম্বাইন্ড গ্র্যাজুয়েট লেভেল এবং TDPL-এর মাধ্যমে হওয়া সমস্ত পরীক্ষা এবং নিয়োগ বাতিলের ঘোষণা করলেন।
আন্দোলনরত পড়ুয়াদের অভিযোগকে সরকার যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখছে জানিয়ে হেমন্ত বলেন, ‘গত ২৪ দিন ধরে পড়ুয়ারা আন্দোলন করছেন। তাঁদের সমস্যার সমাধানের চেষ্টা চলছে। ইতিমধ্যে বেশ কিছু দাবিদাওয়া মেনে নেওয়াও হয়েছে।’ এর পরেই পরীক্ষা বাতিলের ঘোষণা করেন তিনি। হেমন্তর কথায়, ‘TDPL-এর মাধ্যমে পরিচালিত সমস্ত পরীক্ষা এবং নিয়োগ বাতিল করা হচ্ছে।’
সোরেন জানান, CID এবং SIT-এর তদন্তে ইতিমধ্যেই বেশ কিছু ‘অপরাধমূলক তথ্য’ সামনে এসেছে। পরীক্ষায় জালিয়াতি ও কারচুপির অভিযোগে ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশনের (JSSC) মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া কয়েক জনকেও গ্রেপ্তারও করা হয়েছে বলে জানান তিনি। হেমন্ত বলেন, ‘২০১৪ সাল থেকে হওয়া সমস্ত পরীক্ষা CID তদন্ত করবে।’ তবে পড়ুয়ারা সিবিআই তদন্তের দাবি তুলেছিলেন। তা মানেননি হেমন্ত।
পরীক্ষা পরিচালনার জন্য ঝাড়খণ্ড সরকারের নির্দিষ্ট স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর (SOP) থাকলেও তা যে যথাযথ ভাবে মানা হয়নি, সে কথাও এ দিন স্বীকার করে নেন হেমন্ত। তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে SOP রয়েছে। কিন্তু তা মানা হয়নি। সেই কারণেই পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।’ পরীক্ষা ও নিয়োগ ব্যবস্থাকে স্বচ্ছ এবং সংস্কারমুখী করার জন্য সরকার কাজ করবে বলেও আশ্বাস দেন সোরেন।
পড়ুয়াদের অভিযোগ জানানোর জন্য একটি সরকারি পোর্টাল চালুর ঘোষণাও করেন তিনি। হেমন্ত বলেন, ‘পোর্টালে জমা পড়া অভিযোগগুলি বিশেষ তদন্তকারী দলের কাছে পাঠানো হবে।’ পরীক্ষা ব্যবস্থা সংস্কারের জন্য অমিতাভ কৌশলকে দায়িত্ব দেওয়ার ঘোষণাও করেছেন ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী।
১. ঝাড়খণ্ড সরকার কোন পরীক্ষা বাতিল করেছে?
ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশনের (JSSC) কম্বাইন্ড গ্র্যাজুয়েট লেভেল (CGL) পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে।
২. TDPL-এর মাধ্যমে হওয়া পরীক্ষাগুলির কী হবে?
TDPL-এর মাধ্যমে পরিচালিত সমস্ত পরীক্ষা এবং সেই পরীক্ষার ভিত্তিতে হওয়া নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে।
৩. TDPL কী?
TDPL বা টিএসআর ডেটা প্রসেসিং লিমিটেড একটি বেসরকারি আউটসোর্সড সংস্থা, যাকে বিভিন্ন সরকারি পরীক্ষা পরিচালনার কাজে যুক্ত করা হয়েছিল।
৪. কেন আন্দোলনে নেমেছিলেন পড়ুয়ারা?
TDPL-এর মাধ্যমে হওয়া একাধিক নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ তুলে পরীক্ষা ও নিয়োগ বাতিলের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছিলেন পড়ুয়ারা।
৫. কত দিন ধরে আন্দোলন চলছিল?
মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের বক্তব্য অনুযায়ী, টানা ২৪ দিন ধরে পড়ুয়ারা আন্দোলন করছিলেন।
৬. ২০১৪ সাল থেকে হওয়া পরীক্ষাগুলির কী হবে?
২০১৪ সাল থেকে TDPL-এর মাধ্যমে হওয়া সমস্ত পরীক্ষা CID-এর তদন্তের আওতায় আসবে।
৭. পরীক্ষায় অনিয়ম নিয়ে কি আগেই তদন্ত চলছিল?
হ্যাঁ। সোরেন জানিয়েছেন, CID এবং SIT-এর তদন্তে ইতিমধ্যেই বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে। পরীক্ষায় জালিয়াতি ও কারচুপির অভিযোগে কয়েক জনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে।
৮. পরীক্ষা পরিচালনায় সমস্যা কোথায় হয়েছিল?
সরকারের নির্দিষ্ট SOP বা নিয়ম থাকা সত্ত্বেও তা যথাযথ ভাবে মানা হয়নি বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এর ফলেই পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
৯. পড়ুয়ারা কী ভাবে অভিযোগ জানাবেন?
অভিযোগ জানানোর জন্য একটি সরকারি পোর্টাল চালু করা হবে। সেখানে জমা পড়া অভিযোগগুলি তদন্তকারী দলের কাছে পাঠানো হবে।
১০. পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের দায়িত্ব কে পেয়েছেন?
পরীক্ষা ব্যবস্থা সংস্কারের উদ্যোগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অমিতাভ কৌশলকে।