দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ‘অমৃত ভারত’ স্টেশন গড়ে তুলে যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে রেল মন্ত্রক৷ কিন্তু এই আবহেই রেল মন্ত্রকের অস্বস্তি বাড়াচ্ছে ‘কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল’ (ক্যাগ) সমীক্ষা রিপোর্ট৷ সংসদের বাদল অধিবেশনে পেশ করা এই রিপোর্ট প্রশ্ন তুলে দিয়েছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের রেল স্টেশনের পরিষেবা এবং পরিকাঠামো নিয়ে৷ ক্যাগ রিপোর্টে দাবি, একাধিক স্টেশনে কুলারের পানীয় জলে ই-কোলাই ব্যাকটিরিয়া পাওয়া গিয়েছে! এই ব্যাকটিরিয়া থেকে হতে পারে মারাত্মক সংক্রমণ।
ছ’টি জোনের ৫৯টি স্টেশনে পানীয় জল পরীক্ষা করা হয়েছিল। এর মধ্যে সাদার্ন রেলের কোয়েম্বাটোর ও পালাক্কড় জংশনে কুলারের জলে ই-কোলাই ব্যাকটিরিয়া মিলেছে। দক্ষিণ–মধ্য রেলের হায়দরাবাদ স্টেশন এবং পূর্ব রেলের মধুপুর স্টেশনের জলেও একই ব্যাকটিরিয়া মিলেছে। সেন্ট্রাল রেলের ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ টার্মিনাস, ভিওয়ান্ডি রোড, কল্যাণ ও লোনাভালা স্টেশনের জলেও ই-কোলাই মিলেছে।
এ ছাড়াও বিভিন্ন রেলস্টেশনের ওয়েটিং হল, বসার জায়গা, প্ল্যাটফর্মের ছাউনি, ব্যবহারের অযোগ্য শৌচালয়, ইলেকট্রনিক ট্রেন ইন্ডিকেটরের অভাব, আবর্জনা পূর্ণ স্টেশন চত্বর, অচল পাখা, বেহাল ফুট ওভারব্রিজ, উপচে পড়া ডাস্টবিন, ত্রুটিপূর্ণ পাবলিক অ্যাড্রেস সিস্টেমের উল্লেখও রয়েছে ক্যাগ রিপোর্টে। ক্যাগের সুপারিশ, অবিলম্বে এই সব স্টেশনগুলিকে যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্যের নিরিখে আধুনিক এবং নিরাপদ করে তোলা হোক৷ পরিশুদ্ধ পানীয় জলকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে ক্যাগ। জল সরবরাহ ব্যবস্থার নিয়মিত পরিদর্শন এবং পানীয় জলের সমস্ত নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী নিয়মিত পরীক্ষার পরামর্শ দিয়েছে তারা। ক্যাগ রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ২০১টি স্টেশনে পরিচ্ছন্ন শৌচালয় নেই। ২,০৩৫টি স্টেশনে পানীয় জলের কলের ঘাটতি রয়েছে। দেশের যে সব স্টেশনের মানোন্নয়নের উপরে জোর দেওয়া প্রয়োজন বলে ক্যাগ রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, তার মধ্যে আছে হাওড়া, শিয়ালদা, নয়াদিল্লি ও মুম্বই সেন্ট্রালের নামও৷
সূত্রের খবর, ক্যাগ রিপোর্টে উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান সামনে আসায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে রেল মন্ত্রক৷ রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব দিল্লিতে রেলবোর্ডের চেয়ারম্যান এবং সিইও–সহ উচ্চপদস্থ কর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসে গোটা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে অবিলম্বে পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন৷ এই পদক্ষেপের অংশ হিসেবে প্রথমেই রেলওয়ে নেটওয়ার্ক জুড়ে প্রায় ২০,০০০ স্থানে (ওয়াটার কুলার–সহ) নতুন ‘ট্যাঙ্ক টু ট্যাপ’ (সরাসরি ট্যাঙ্ক থেকে কল পর্যন্ত) জল পরিশোধন ব্যবস্থা এবং একটি সামগ্রিক জল পরিশোধন ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা তৈরি হবে। রেলস্টেশনে জলের ট্যাঙ্কগুলো নিয়মিত পরিষ্কার এবং আউটলেট পয়েন্টে জলের গুণমান পরীক্ষা করা হবে। রেলবোর্ডের শীর্ষ স্তর থেকে চলবে নজরদারি।
১. ক্যাগ রিপোর্টে রেলস্টেশনের পানীয় জল নিয়ে কী অভিযোগ উঠেছে?
ক্যাগের রিপোর্টে বলা হয়েছে, কয়েকটি রেলস্টেশনে কুলারের পানীয় জলে ই-কোলাই ব্যাকটিরিয়া পাওয়া গিয়েছে। এই ব্যাকটিরিয়া গুরুতর সংক্রমণের কারণ হতে পারে।
২. কতগুলি স্টেশনের পানীয় জল পরীক্ষা করা হয়েছিল?
ছ’টি রেল জোনের ৫৯টি স্টেশনে পানীয় জল পরীক্ষা করা হয়েছিল।
৩. কোন কোন স্টেশনের জলে ই-কোলাই পাওয়া গিয়েছে?
সাদার্ন রেলের কোয়েম্বাটোর ও পালাক্কড় জংশন, দক্ষিণ-মধ্য রেলের হায়দরাবাদ, পূর্ব রেলের মধুপুর এবং সেন্ট্রাল রেলের ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ টার্মিনাস, ভিওয়ান্ডি রোড, কল্যাণ ও লোনাভালা স্টেশনের জলে ই-কোলাই পাওয়া গিয়েছে।
৪. রেলস্টেশনগুলির পরিকাঠামো নিয়ে আর কী জানিয়েছে ক্যাগ?
বেহাল ওয়েটিং হল, পর্যাপ্ত বসার জায়গার অভাব, প্ল্যাটফর্মে ছাউনির সমস্যা, অপরিষ্কার বা ব্যবহারের অযোগ্য শৌচালয়, অচল পাখা, উপচে পড়া ডাস্টবিন, আবর্জনায় ভর্তি স্টেশন চত্বর এবং ত্রুটিপূর্ণ পাবলিক অ্যাড্রেস সিস্টেমের মতো সমস্যার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
৫. কতটি স্টেশনে পরিচ্ছন্ন শৌচালয় নেই?
ক্যাগ রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশের ২০১টি স্টেশনে পরিচ্ছন্ন শৌচালয়ের ঘাটতি রয়েছে।
৬. পানীয় জলের কলের ঘাটতি কত স্টেশনে?
দেশের ২,০৩৫টি স্টেশনে পানীয় জলের কলের ঘাটতি রয়েছে বলে জানিয়েছে ক্যাগ।
৭. কোন গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলির মানোন্নয়নের কথা বলা হয়েছে?
হাওড়া, শিয়ালদা, নয়াদিল্লি এবং মুম্বই সেন্ট্রালের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনের পরিষেবা ও পরিকাঠামোর মানোন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথা রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
৮. ক্যাগের সুপারিশ কী?
স্টেশনগুলিতে নিরাপদ ও পরিশুদ্ধ পানীয় জল নিশ্চিত করার পাশাপাশি জল সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়মিত পরিদর্শন এবং নির্ধারিত মান অনুযায়ী জলের গুণমান পরীক্ষা করার সুপারিশ করেছে ক্যাগ।
৯. রেল মন্ত্রক কী পদক্ষেপ করছে?
রেল নেটওয়ার্কের প্রায় ২০ হাজার জায়গায়, ওয়াটার কুলার-সহ, নতুন ‘ট্যাঙ্ক টু ট্যাপ’ জল পরিশোধন ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি জল পরিশোধন ও গুণমান পর্যবেক্ষণের জন্য সামগ্রিক ব্যবস্থা তৈরি করা হবে।
১০. জলের গুণমান কী ভাবে নজরদারি করা হবে?
রেলস্টেশনের জলের ট্যাঙ্ক নিয়মিত পরিষ্কার করা হবে এবং কলের মুখ বা আউটলেট পয়েন্টে জলের গুণমান পরীক্ষা করা হবে। রেলবোর্ডের শীর্ষ স্তর থেকেও পুরো ব্যবস্থার উপর নজরদারি চালানো হবে।