উত্তরপ্রদেশের মুজাফফরনগরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ রবি কুমার দিবাকরের নাম শুনেছেন? তাঁর এজলাসে মামলা উঠলে অনেকেরই ভয়ে গলা শুকিয়ে যায়। ‘বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে কাঁদে’-তে তিনি বিশ্বাসী নন? গত চার মাসে ১০টি মামলায় ২২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। তার পর থেকেই এডিজি রবি কুমারকে নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। কে তিনি?
ভারতের বিচার ব্যবস্থায় অত্যন্ত ব্যতিক্রমী কিংবা জঘন্য অপরাধের ক্ষেত্রেই মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু NALSAR-এর Death Penalty in India: Annual Statistics Report 2025-এর প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, গত বছরে উত্তরপ্রদেশের ট্রায়াল কোর্টগুলি ২০টি মামলায় মোট ২৮ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল এক বছরে। কিন্তু এডিজে রবি কুমার দিবাকর একাই চলতি বছরের এপ্রিল থেকে অগস্ট পর্যন্ত ২২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন।
১৯৮০ সালের ৫ জুলাই জন্ম রবি কুমার দিবাকরের। শৈশব কেটেছে লখনউতে। ১৯৯৯-এ ইন্টারমিডিয়েট পাশ করার পরে ২০০২-এ BCom, ২০০৫-এ LLB এবং ২০০৭-এ LLM করেন তিনি। ২০০৯-এ উত্তরপ্রদেশের বিচারবিভাগে সিভিল জজ হিসেবে শুরু হয় তাঁর কর্মজীবন। প্রথম পোস্টিং ছিল আজমগড়ে। পরে সুলতানপুর, বদায়ুঁ, বারাণসী এবং বরেলিতে সিভিল জজের দায়িত্ব সামলেছেন।
২০২২-এ বারাণসীর সিভিল জজ থাকাকালীন তাঁর নাম প্রথম সামনে আসে। তাঁর নির্দেশেই বিতর্কিত জ্ঞানবাপী মসজিদ চত্বরের ভিডিয়োগ্রাফিক সমীক্ষা হয়েছিল। সেই নিয়ে খুনের হুমকির মুখেও পড়েছিলেন তিনি। ২০২৪-এর মার্চে তাঁর একটি মন্তব্য নিয়ে তীব্র বিতর্কও হয়। বরেলি দাঙ্গা সংক্রান্ত একটি মামলার রায় দিতে গিয়ে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে প্লেটোর ‘দার্শনিক রাজা’-র সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। পরে এলাহাবাদ হাইকোর্টের নির্দেশে তাঁর ওই মন্তব্য রায়ের কপি থেকে বাদ দেওয়া হয়।
সরকারি আইনজীবী কুলদীপ কুমারের বক্তব্য অনুযায়ী, ১০টি মামলায় মোট ২২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন এডিজে রবি কুমার দিবাকর।
সমীর সইফি খুন: ২০১৯-এ আইনজীবী সমীর সইফিকে খুনের ঘটনায় ৬ এপ্রিল তিন জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন তিনি। প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা নিয়ে বিবাদের জেরে তাঁকে অপহরণ করে খুন করা হয়েছিল বলে অভিযোগ।
কৃষক রাজেন্দ্র সইনি খুন: রাজেন্দ্র সইনিকে খুনের ঘটনায় ২০ জুন দু’জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। আদালত ঘটনাটিকে ‘বিরলের মধ্যে বিরলতম’ বলে উল্লেখ করে।
হোমগার্ড খুন: ২ জুলাই কর্তব্যরত হোমগার্ড রতীরামকে খুনের ঘটনায় এক জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন তিনি। এই মামলাও ‘বিরলের মধ্যে বিরলতম’ বলে উল্লেখ করা হয়।
হাইওয়ে ডাকাতি ও খুন: ২০১১-এ হাইওয়েতে ডাকাতি ও খুনের ঘটনায় গত ১৭ জুলাই চার জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। আদালতের মতে, এটিও ‘বিরলের মধ্যে বিরলতম’ অপরাধ।
এ ছাড়াও অগস্টে আরও পাঁচ জনকে তিনি মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন বলে PTI-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে দায়রা আদালত মৃত্যুদণ্ডের রায় দিলেই তা সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর হয় না। আইন অনুযায়ী, তা হাই কোর্টের অনুমোদনের জন্য পাঠাতে হয়। ফলে মুজফ্ফরনগরের আদালতে ২২ জনের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় হলেও এখনই তাঁদের সাজা দেওয়া হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট মামলাগুলিতে এলাহাবাদ হাইকোর্টের অনুমোদনের পরেই রায় কার্যকর হবে।