• দুয়ের বেশি সন্তান নিয়ে চিন্তিত স্বাস্থ্য দপ্তর: শারদ্বত
    এই সময় | ১৮ আগস্ট ২০২৬
  • এই সময়: নাবালিক বিবাহ, টিন–এজ প্রেগন্যান্সি এবং একের পর এক সন্তানের জন্ম দেওয়া। রাজ্যের বিশেষ কয়েকটি জেলার নির্দিষ্ট কিছু ব্লকের এই প্রবণতায় যে রীতিমতো উদ্বিগ্ন রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর, সে কথা গোপন করলেন না স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। সোমবার নতুন সরকারের ১০০ দিনের সাফল্যের খতিয়ান পেশ করতে গিয়ে তিনি জানিয়ে দিলেন, দম্পতি পিছু দু'টির বেশি সন্তান একেবারেই কাম্য নয়। এবং বিষয়টি নিয়ে চিন্তাভাবনা করছে স্বাস্থ্য দপ্তর। তবে দু'য়ের বেশি সন্তান প্রতিরোধে নতুন সরকার কোনও আইন আনছে নাকি বিষয়টি নিছকই আহ্বান, তা স্পষ্ট করেননি স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

    শারদ্বত বলেন, 'মালদা, মুর্শিদাবাদ, উত্তরবঙ্গের কিছু অংশ এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের কয়েকটি এলাকায় নাবালিকা বিবাহ, টিন–এজ প্রেগন্যান্সি, ১০–১২টি করে সন্তানের জন্ম দেওয়া খুবই খারাপ প্রবণতা। সূতি, শামসেরগঞ্জের মতো ব্লকে এই দস্তুর রীতিমতো উদ্বেগের। যা সার্বিক ভাবে স্বাস্থ্য–সূচকের নিরিখে বিপজ্জনকও বটে।' প্রসূতি মৃত্যুর পর্যালোচনা করতে গিয়ে এই তিনটি বিষয়কে বেশ চিন্তার 'ফ্যাক্টর' বলে মনে করছে স্বাস্থ্য দপ্তর। তাই এর প্রতিরোধে ও এ নিয়ে সমাজে সচেতনতা আনতে বিভিন্ন জেলার পুলিশ সুপারদের সঙ্গেও তিনি কথা বলছেন বলে জানান খোদ স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

    ১০০ দিনের ২৩ দফা সাফল্য তুলে ধরতে সোমবার সন্ধ্যায় স্বাস্থ্যভবনে আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে স্বাস্থমন্ত্রী বেশ কয়েকটি নতুন বিষয়েও আলোকপাত করেছেন। তিনি জানান, এ বার থেকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র, কমিউনিটি হেলথ সেন্টার এবং জেলাস্তরের হাসপাতালগুলিতে অ্যালোপ্যাথির মূল চিকিৎসা পরিষেবার পাশাপাশি আয়ুষ পরিষেবার 'কো-লোকেশন' চালু হচ্ছে। সেখানে আউটডোর পরিষেবা থাকবে। যাতে মানুষ অ্যালোপ্যাথি কিংবা হোমিয়োপ্যাথি অথবা আয়ুর্বেদ চিকিৎসককে দেখাতে পারেন ইচ্ছেমতো। এর জন্য ৪৮৪ জন আয়ুষ মেডিক্যাল অফিসার নিয়োগ করা হবে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, রাজ্যে চালু হয়েছে আয়ুষ্মান ভারত। মুখ্যমন্ত্রীর উদ্বোধন করা এই প্রকল্পে ১.৪৩ কোটি পরিবার অর্থাৎ প্রায় ৫.৯৭ কোটি মানুষ পরিষেবা পাবেন। ১,৯৩০টি হাসপাতালকে এর আওতায় আনার কথা। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনায় আরও ৮০ লক্ষ মানুষ যুক্ত হবেন। তিনি জানান, স্বাস্থ্য পরিকাঠামো সম্প্রসারণে আলিপুরদুয়ার, সিউড়ি, শিলিগুড়ি, আসানসোল ও কালিম্পংয়ে নতুন পাঁচটি মেডিক্যাল কলেজের পাশাপাশি কলকাতায় ষষ্ঠ একটি মেডিক্যাল কলেজ তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের। মন্ত্রী জানান, ১০০ দিনে ৯৭৫টি এমবিবিএস আসন বেড়েছে রাজ্যে, যার মধ্যে ৪৭৫টি সরকারি ক্ষেত্রে।

    সরকারি হাসপাতালে বেড না থাকলে রোগী ভর্তির সমস্যা মেটাতে বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে সমন্বয়ের যে উদ্যোগ নেওয়া শুরু হয়েছে, তার আওতায় ২,৪২৬টি বেডের ব্যবস্থা করা হয়েছে বেসরকারি হাসপাতালে। সেই কর্মসূচির অঙ্গ হিসেবে এ দিন এসএসকেএম থেকে যাদবপুরের বেসরকারি কেপিসি মেডিক্যাল কলেজে রোগী স্থানান্তরের মক ড্রিল করা হয়। আগামী দিনে অন্যান্য মেডিক্যাল কলেজেও মক ড্রিল হবে। এ ছাড়াও হাসপাতালের খাবারের বরাদ্দ ৫৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১০ টাকা, ২৪X৭ ইন্টিগ্রেটেড কন্ট্রোল রুম, ২০০টি ১০২ অ্যাম্বুল্যান্স, ৩১০টি মোবাইল মেডিক্যাল ইউনিট (২০০টি ইতিমধ্যেই চলছে) চালুর কথা জানানো হয়েছে।

    জরায়মুখের ক্যান্সার প্রতিরোধে কিশোরীদের এইপিভি টিকাকরণ, টিবি-মুক্ত ভারত কর্মসূচি, ৪৫৮টি জনঔষধি কেন্দ্র, ১০০টি অমৃত ফার্মেসি এবং ব্লকস্তরে রক্ত পরীক্ষা, এক্সরে ও আলট্রাসোনোগ্রাফি পরিষেবা সম্প্রসারণের কথাও বলেছেন মন্ত্রী।

  • Link to this news (এই সময়)