বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের জেরে প্রবল বৃষ্টিতে জলমগ্ন আসানসোল। সোমবার সন্ধ্যা থেকে টানা বৃষ্টি। এর পাশাপাশি দুর্গাপুর ব্যারেজ থেকে জল ছাড়ার পরিমাণও বাড়ানো হয়েছে। রাস্তায় জল জমার পাশাপাশি অনেক বাড়িতেও জল ঢুকে গিয়েছে। আসানসোলের রেলপাড়, বস্তিন বাজার, বরাকর-সহ একাধিক জায়গায় জল জমে রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বাড়ির মধ্যে জল ঢুকে যাওয়ার কারণে আসবাব নষ্ট হয়ে গিয়েছে। জলমগ্ন এলাকায় বাসিন্দাদের উদ্ধারের জন্য স্পিডবোট নামিয়েছে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী।
গভীর নিম্নচাপের জেরে আগস্ট মাসে রেকর্ড বৃষ্টিপাত হয়েছে আসানসোল মহকুমায়। সোমবার সকাল ৮ টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮ টা পর্যন্ত আসানসোল ও বার্নপুর মিলিয়ে ২২০.৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এরমধ্যে শুধু আসানসোলে ১৫৭.৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। ১৯৯৯ সালের পরে আগস্ট মাসে এত ভারী বৃষ্টি হয়নি আসানসোলে, এমনটাই জানিয়েছে হাওয়া অফিস।
সব থেকে পরিস্থিতি খারাপ পুরসভার ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের আসানসোল রেলপাড়ে। এলাকার শোনপাপড়ি গলি, কে টি রোড, নিউ বস্তি-সহ আশপাশের এলাকা জলের তলায় চলে গিয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের কর্মীরা বোট নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে প্রায় ১০০ জনকে উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে গিয়েছেন। অন্য দিকে, জল ছাড়া হয়েছে দুর্গাপুর ব্যারেজ থেকে। দুর্গাপুর ব্যারেজের ১০ টি লকগেট খুলে দেওয়া হয়েছে। মোট ৬৪ হাজার ৩২৫ কিউসেক জল ছাড়া হচ্ছে দুর্গাপুর ব্যারেজ থেকে। জল ছাড়ার কারণে যাতে নতুন করে বিপর্যয় না হয়, সে দিকে নজর রাখছে প্রশাসন।
অন্য দিকে, আসানসোলে সীতারামপুরে একটি খালে দুই যুবক তলিয়ে গিয়েছে। একজনকে উদ্ধার করা গিয়েছে। আরএক যুবকের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের কর্মীরা। বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের এক কর্মী রোশন গুপ্তা বলেন,‘বাসিন্দাদের উদ্ধার করার পাশাপাশি তাদের খাবার ও পানীয় জলের ব্য়বস্থা করা হয়েছে। এখনও কিছু জায়গায় লোকজন আটকে আছে। তাদের উদ্ধার করার চেষ্টা করা হচ্ছে।’
জেলাশাসক এস পোন্নামবালম জানিয়েছেন, দুর্গতদের উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে রাখার ব্য়বস্থা করা হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য় সবরকম ভাবে প্রস্তুত আছে জেলা প্রশাসন। পর্যাপ্ত ত্রাণের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।