শিক্ষকরা স্কুল সামলে জনগণনার কাজ কখন করবেন? এই প্রশ্ন তুলে হাইকোর্টে মামলা হয়েছে। রাজ্যে জনগণনার (census west bengal 2026) কাজে যুক্ত শিক্ষকদের সমীক্ষার কাজ ও স্কুলের কাজের সময় ভাগ নিয়ে দ্বন্দ্ব গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। স্কুল শিক্ষকদের জনগণনার কাজকে অন ডিউটি হিসেবে গণ্য করার দাবিতে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেন ৩১ জন প্রাথমিক শিক্ষক-শিক্ষিকা। মঙ্গলবারও মিলল না সমাধানসূত্র। বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের এজলাসে এ দিন দীর্ঘ শুনানির পরেও কোনও সমাধান সূত্র না বেরোনোয় ফের বুধবার শুনানি হবে।
এ দিন রাজ্য ও সেন্সাস কর্তৃপক্ষকে বিচারপতি রাও বলেন, ‘আজকের দিনটাও চলে গেল। এর পরে এক মাস আছে। এর পরে আপনারা শিক্ষকদের শোকজ় করবেন। তখন কী হবে? দায় কার হবে? এখন বলছেন তাঁদের প্রশিক্ষণ হবে। তার পরে কবে তাঁরা সেন্সাসের কাজ করবেন? আপনারা অন ডিউটি হিসেবে করাচ্ছেন, কিন্তু তারও তো সময় লাগবে।’ তাঁর সংযোজন, ‘একদিকে একমাসের সময় বাধা হয়েছে সেন্সাসের জন্য। রাজ্যের সঙ্গে সেন্সাস কর্তৃপক্ষের কোনও সমন্বয় নেই! একটা স্কুলে কত শিক্ষক আছেন, তার মধ্যে কতজনকে এই কাজের জন্য নিয়োগ করা হয়েছে, তার কোনও হিসেব আছে সেন্সাস কর্তৃপক্ষের কাছে? এটা চলতে পারে না।’
রাজ্যের তরফে আইনজীবী ধীরাজ ত্রিবেদী জানান, সকাল ৯ টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত কাজের সময় ঠিক করা হয়েছে। ৩০ দিনে এই কাজ শেষ করতে হবে। যা শুনে বিচারপতির প্রশ্ন, ‘এই সময় কি যথেষ্ট? সেন্সাস কর্তৃপক্ষের বক্তব্য তো অন্য। এটাই তো সমস্যা ডেকে আনছে।’ রাজ্যের আইনজীবী জানান, ‘আমরা টার্গেট রেখেছি। না হলে তখন সময় বাড়ানোর বিষয় আসবে।’
এর পরেই বিচারপতি রাও জানতে চান, যদি এত সমস্যা হয়, তা হলে শিক্ষক কেন? পুরসভা, পঞ্চায়েত-সহ রাজ্যের সব ক্লারিকাল কর্মীদের নামানো হোক। কত শিক্ষক মোট নিয়োগ করা হয়েছে, তার কোনও হিসাব আছে? তাও নেই! কে প্রশিক্ষণ দেবেন? আবার স্কুলের পরীক্ষারও সূচি ঘোষণা হয়ে গিয়েছে। তা হলে কী ভাবে হবে?’ রাজ্য সময় চাওয়ায় ফের বুধবার এই মামলা শুনবে হাইকোর্ট।