• তারাপীঠের হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার আরও এক, গ্রেপ্তার হোটেল মালিকের বাবা, তল্লাশি চালছে পুকুরে
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ১৮ আগস্ট ২০২৬
  • তারাপীঠের হোটেলে (Tarapith Hotel Fire)  ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এবার গ্রেপ্তার করা হল কল্যাণ পালের বাবা প্রবীর পালকে।  সোমবার গভীর রাতে তারপীঠ থানার পুলিশ প্রবীর পালকে গ্রেপ্তার করে। এর আগে তাঁর ছেলে তথা হোটেল মালিক কল্যাণ পালকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তদন্তকারীদের সূত্রে খবর, বাবা-ছেলে মিলেই তারাপীঠের ওই হোটেলটি (Tarapith Hotel Fire) চালাতেন।

    সোমবার ভোরে তারাপীঠ মন্দিরের কাছে ‘বিদেশিনী’ নামের ওই হোটেলে আগুন (Tarapith Hotel Fire) লেগে যায়। ভয়াবহ ওই অগ্নিকাণ্ডে এখনও পর্যন্ত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। মৃতদের মধ্যে মেঘালয়ের বাসিন্দা রয়েছেন পাঁচজন। তাঁদের মধ্যে একই পরিবারের দুই শিশুও ছিল বলে খবর।

    সোমবার ভোরে যখন হোটেলটিতে (Tarapith Hotel Fire) আগুন লাগে তখন আবাসিক ও কর্মী মিলিয়ে মোট ৪৩ জন ছিলেন বলে তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে। প্রাথমিকভাবে ২২ জনকে উদ্ধার করা হয়। তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর ৯ জনের মৃত্য হয়। অধিকাংশের সন্ধান মিললেও কয়েক জনের এখনও খোঁজ মেলেনি। তাই নিখোঁজদের কেউ আতঙ্কে হোটেল (Tarapith Hotel Fire) সংলগ্ন পুকুরে ঝাঁপ দিয়েছিলেন কি না, অথবা সেখানে কারও দেহ পড়ে রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুকুরেও তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে পুকুরে ডুবুরি নিয়ে যাওয়া হয়। ডুবুরি নামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়।

    প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, শর্ট সার্কিট থেকেই আগুন লেগেছে। তবে তদন্ত এখনও চলছে। হোটেলের অন্দরসজ্জায় ব্যবহৃত ফাইবার সামগ্রী থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল বলে মনে করা হচ্ছে। আগুন লাগার পর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছিল। হোটেলের (Tarapith Hotel Fire) পিছনে বেরোনোর পথ থাকলেও অধিকাংশ পুণ্যার্থী তা জানতেন না। বিদ্যুৎ না থাকায় পথও খুঁজে পাননি তাঁরা। ফলে আতঙ্কিত আবাসিকদের অনেকেই সামনের রিসেপশন দিয়ে বেরোনোর চেষ্টা করেন। কিন্তু আগুন মূলত রিসেপশনের দিকেই ছড়িয়ে পড়েছিল। এর জেরে বহু মানুষ আগুনের মধ্যে আটকে গিয়ে ঝলসে যান।

    আবাসিকদের  (Tarapith Hotel Fire) একাংশের অভিযোগ, হোটেলের পিছনের দরজা বন্ধ ছিল। সেই কারণে বেরোতে গিয়ে তাঁরা সমস্যায় পড়েন। দরজা বন্ধ থাকার অভিযোগ এবং হোটেলে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা যথাযথ ছিল কি না, অগ্নিনিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্ত নিয়ম মানা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

    মৃতদের মধ্যে মেঘালয়ের একই পরিবারের পাঁচ সদস্য রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের মধ্যে দুই শিশু ছিল। জানা গিয়েছে, ওই পরিবার হোটেলের একেবারে উপরের তলায় ছিল। আগুন লাগার খবর পেয়ে তাঁরা শিশুদের সঙ্গে নিয়ে একসঙ্গে নিচে নামার চেষ্টা করেন। কিন্তু নিচে নামার সময় আগুনের মুখে পড়েন তাঁরা। শেষ পর্যন্ত পরিবারের কাউকেই বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

    এখন পুলিশের মূল নজর হোটেলের (Tarapith Hotel Fire) অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা, বেরোনোর পথ, বন্ধ দরজার অভিযোগ এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানের দিকে। একই সঙ্গে হোটেল (Tarapith Hotel Fire) সংলগ্ন পুকুলে তল্লাশি চালিয়ে নিখোঁজদের বিষয়ে নিশ্টিত হওয়ার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)