অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ নেই, রাম মন্দিরের অনুদান চুরিতে ক্লিনচিট চম্পত রাই, অনিল মিশ্রকে
প্রতিদিন | ১৮ আগস্ট ২০২৬
অযোধ্যার রাম মন্দিরে অনুদান চুরির ঘটনায় (Ram Mandir Donation Theft Case) নির্দোষ ‘শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট’-এর প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই এবং প্রাক্তন ট্রাস্টি অনিল মিশ্র। উত্তরপ্রদেশ প্রশাসনের বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) চম্পত এবং অনিলের বিরুদ্ধে কোনও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পায়নি। সূত্রের খবর, উত্তরপ্রদেশ সরকার দেওয়া ‘এসআইটি’র চূড়ান্ত তদন্তে রিপোর্টে এমনটাই জানানো হয়েছে।
সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, তিন সদস্যের এসআইটি-র চূড়ান্ত তদন্ত রিপোর্ট ‘শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট’-এর কাছেও হস্তান্তর করা হয়েছে। ওই রিপোর্টে চম্পত রাই এবং অনিল মিশ্রকে অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। পরিবর্তে, ভক্তদের দেওয়া দান বা প্রণামী চুরির অভিযোগে আটজনকে অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই আটজন হলেন অবিনাশ শুক্লা, অনুকল্প মিশ্র, লাভকুশ মিশ্র, মণীশ কুমার যাদব, করুণেশ পাণ্ডে, রমাশংকর মিশ্র, সুভাষ শ্রীবাস্তব এবং রমাশংকর যাদব ওরফে তিনু। তাঁরা মন্দিরে প্রাপ্ত অনুদান গণনা ও নির্দিষ্ট স্থানে তা পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বে ছিলেন।
অযোধ্যার রাম মন্দিরে অসংখ্য ভক্তের অনুদানের ৩ হাজার কোটি টাকার বেশি চুরি গিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছিল মাস তিনেক আগে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই হুলস্থুল পড়ে যায়। উত্তর প্রদেশের সীমানা ছাড়িয়ে গোটা দেশে রাজনৈতিক তোলপাড় শুরু হয়। এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। পরে যোগী আদিত্যনাথ সরকারের হস্তক্ষেপ একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়। তখনই আট অভিযুক্তের নাম সামনে আসে। অন্যদিকে চাপে পড়ে ইস্তফা দেন ‘শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট’-এর প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই। দায়িত্ব থেকে সেরে দাঁড়ান ট্রাস্টের সদস্য অনিল মিশ্রও।
অনুদান চুরির ঘটনায় চম্পত এবং অনিলকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল এসআইটি। শেষ পর্যন্ত দু’জনকেই ক্লিনচিট দেওয়া হল। উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে রাম মন্দির অনুদান চুরির তদন্ত চলছে। শেষ শুনানিতে স্ট্যাটাস রিপোর্ট চেয়েছিল সর্বোচ্চ আদালত। এইসঙ্গে উত্তরপ্রদেশ সরকারকে শীর্ষ আদালতের নির্দেশিকা— তদন্ত যাতে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।