• আইটি সেলের প্রধান পদ থেকে ‘বাদ’, অমিত মালব্যকে নিয়ে বড় পরিকল্পনা বিজেপির?
    প্রতিদিন | ১৮ আগস্ট ২০২৬
  • দীর্ঘ ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিজেপির সোশাল মিডিয়া সামলেছেন। দলের ভালো-খারাপ যে কোনও সময় সোশাল মিডিয়ায় যোদ্ধা হিসাবে লড়াই করে গিয়েছেন। গালমন্দ হজম করেছেন। সেই অমিত মালব্য আর বিজেপির আইটি সেলের প্রধান নন। তাঁর বদলে সোশাল মিডিয়া কনভেনর হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে ছত্তিশগড়ের দীপক মাস্কের নাম। একেবারে ঢেলে সাজানো হয়েছে বিজেপির সোশাল মিডিয়া টিম। কিন্তু কেন বাদ পড়তে হল মালব্যকে? সত্যিই তিনি বাদ পড়লেন নাকি কোনও কৌশলে আপাতত তাঁকে ‘বিশ্রাম’ দেওয়া হল?

    বিজেপি সভাপতি নীতীন নবীনের নতুন টিমে মালব্যর নাম বাদ পড়ার পর থেকেই সোশাল মিডিয়ায় তাঁকে নিয়ে কাটাছেঁড়া চলছে। কেউ কেউ তাঁকে নিয়ে রসিকতাও করছেন। কিন্তু বিজেপি সূত্র বলছে, অমিত মালব্যকে ছেঁটে ফেলা হয়েছে যে প্রচার করা হচ্ছে, ব্যাপারটা তেমন নয়। বরং মালব্য নিজেই দীর্ঘদিন ধরে এই পদ থেকে অব্যহতি চাইছেন। ২০১৯ এবং ২০২৪ দুই লোকসভা ভোটের পরই মালব্য আইটি সেলের প্রধান পদ থেকে ইস্তফা দিতে চেয়েছিলেন। এর মধ্যে তাঁকে বাংলার সহকারী পর্যবেক্ষক-সহ একাধিক বড় পদে বসানো হয়। একই সঙ্গে আইটি সেলও সামলাচ্ছিলেন। সেকারণেই আইটি সেলের পদটি তিনি ছাড়তে চাইছিলেন। এমনকী, নিজের উত্তরসুরী হিসাবে কাকে চান, সে নিয়েও একাধিক নাম প্রস্তাব করেন তিনি। বিজেপি সূত্র বলছে, অমিত মালব্যর সঙ্গে আলোচনা করেই দীপক মাস্কেকে সোশাল মিডিয়ার কনভেনর করা হয়েছে।

    কিন্তু প্রশ্ন হল, মালব্যকে যখন আইটি সেলের প্রধান পদ থেকে সরানো হল, তখন অন্য কোনও পদে আনা হল না কেন? বিজেপি সূত্র বলছে, এক্ষেত্রে বিজেপির অন্দরের একাধিক সমীকরণ তাঁর বিপক্ষে গিয়েছে। আসলে দলের সাধারণ সম্পাদক বা সাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদকের মতো পদগুলি বিভিন্ন রাজ্যের জাতিগত সমীকরণ, বিভিন্ন রাজ্যের প্রতিনিধিত্ব এবং দলের অন্দরের বিভিন্ন শিবিরের সমন্বয় রক্ষা করে তারপর ,নির্ধারণ করা হয়। সমস্যা হল, মালব্য উত্তরপ্রদেশের ব্রাহ্মণ। উত্তরপ্রদেশ থেকে স্মৃতি ইরানি এবং হরিষ দ্বিবেদীর মতো সিনিয়র নেতারা সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন। তাছাড়াও রেখা শর্মা, তারিক মনসুরদের সহ-সভাপতি করা হয়েছে। অমরপাল মৌর্য হয়েছেন ওবিসি শাখার প্রধান। দলের সংখ্যালঘু সেলের প্রধান বাসিত আলি এবং সাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক সকলেই উত্তরপ্রদেশের।

    সব মিলিয়ে নতুন টিম উত্তরপ্রদেশের প্রচুর সদস্য। এবং তাঁদের প্রত্যেকের গুরুত্ব আছে নিজ নিজ ক্ষেত্রে। ফলে সদিচ্ছা সত্ত্বেও মালব্যকে আর নতুন টিমে জায়গা দিতে পারেননি নীতীন নবীন। তবে সূত্রের দাবি, মালব্যকে নিয়ে বড়সড় ভাবনা রয়েছে বিজেপি নেতৃত্বের। উত্তরপ্রদেশের আসন্ন নির্বাচনে তাঁকে কাজে লাগানো হতে পারে। নিতান্তই যদি সেটা না হয়, তাহলে উত্তরাখণ্ড বা পাঞ্জাবের মতো রাজ্যে সহকারী পর্যবেক্ষকও করা হতে পারে তাঁকে। সার্বিকভাবে দলের মূলধারার সঙ্গেই যুক্ত রাখা হবে তাঁকে। বাংলার সহকারী পর্যবেক্ষক পদে তাঁর সাফল্যের পুরস্কার তাঁকে দেওয়া হবে।
  • Link to this news (প্রতিদিন)