• হস্টেলে মোমো-ফ্রেঞ্চ ফ্রাই খেয়ে ‘পার্টি’, তার পরেই অসুস্থ হয়ে মৃত্যু দুই পড়ুয়ার, গাফিলতি কার?
    এই সময় | ১৮ আগস্ট ২০২৬
  • উত্তরপ্রদেশের বান্দায় একটি বেসরকারি আবাসিক স্কুলে দুই পড়ুয়ার মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ, রবিবার সন্ধ্যায় মোমো ও ফ্রেঞ্চ ফ্রাই খাওয়ার পরেই তাঁদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। রাত গড়াতেই শুরু হয় তীব্র পেটে ব্যথা ও বমি। পরে সোমবার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে দু’জনকেই মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা। আরও এক পড়ুয়াও অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তবে মোমো বা ফ্রেঞ্চ ফ্রাই খাওয়ার সঙ্গেই মৃত্যুর সরাসরি যোগ রয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ এবং দুই পড়ুয়ার দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে।

    ঘটনাটি ঘটেছে বান্দার ঝিল কা পুরওয়া এলাকার একটি বেসরকারি আবাসিক স্কুলে। মৃত দুই পড়ুয়ার একজন ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ১২ বছরের নীতিন। অন্যজন ৯ বছরের অরুণ কুশওয়াহা, সে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ত। দু’জনেই স্কুলের হস্টেলে থাকত।

    হস্টেলে মোট ৩৪ জন পড়ুয়া থাকেন বলে জানা গিয়েছে। পরিবারের দাবি, রবিবার সন্ধ্যায় নীতিন ও অরুণ মোমো এবং ফিঙ্গার চিপস বা ফ্রেঞ্চ ফ্রাই খেয়েছিল। মহেন্দ্র চকের কাছে একটি দোকান থেকেই সেই খাবার কেনা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। খাবার খাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরেই দুই পড়ুয়া অসুস্থ হয়ে পড়েন।

    অন্যদিকে, স্কুল কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে কিছুটা ভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে। স্কুলের ম্যানেজার ওমপ্রকাশ কুশওয়াহা জানিয়েছেন, রবিবার রাতে হস্টেলের পড়ুয়ারা ডাল, রুটি ও সবজি খেয়েছিল। রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ সকলে ঘুমোতে যায়। পরে রাত ৩টে নাগাদ নীতিন তীব্র পেটে ব্যথার কথা জানায়। তার প্রায় আধ ঘণ্টা পরে অরুণও একই ধরনের সমস্যার কথা বলে।

    পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, নীতিনের অসুস্থতার খবর পাওয়ার পরে স্কুল কর্তৃপক্ষ তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। প্রথমে জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরে ফের স্কুলে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু শারীরিক সমস্যা না কমায়, সোমবার সকালে ৭টা নাগাদ ফের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। কিন্তু চিকিৎসকরা নীতিনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

    অন্যদিকে, অরুণকেও ভোরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। চিকিৎসকরা তাকেও মৃত ঘোষণা করেন। দুই শিশুর আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারগুলির মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। অরুণের পরিবারের অভিযোগ, শিশুটির অসুস্থতার খবর দ্রুত তাদের জানানো হয়নি।

    এ ছাড়া ওই হস্টেলের আরও এক পড়ুয়ার অসুস্থতার খবর মিলেছে। ৮ বছরের চন্দ্রপাল নামে ওই পড়ুয়া এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ চলছে। ফলে একই হস্টেলে থাকা একাধিক পড়ুয়ার পরপর অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনায় খাদ্য বা অন্য কোনও কারণে বিষক্রিয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

    পুলিশ জানিয়েছে, দুই পড়ুয়ার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। দু’টি দেহই ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং অন্যান্য পরীক্ষার ফল হাতে এলেই মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। একই সঙ্গে পড়ুয়ারা কী খাবার খেয়েছিল এবং সেই খাবারে কোনও দূষণ বা বিষাক্ত উপাদান ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    খাদ্যে বিষক্রিয়ার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে খাবারের নমুনা সংগ্রহ এবং স্কুলের রান্নাঘর ও হস্টেলের খাদ্যব্যবস্থার বিষয়েও তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মোমো বা ফ্রেঞ্চ ফ্রাইকেই মৃত্যুর কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা যাচ্ছে না।

    দুই পড়ুয়ার মৃত্যুর পরে স্কুল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে অসুস্থ পড়ুয়াদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল কি না এবং পরিবারকে কখন খবর দেওয়া হয়েছিল, তা তদন্তের আওতায় আসতে পারে। অরুণের পরিবারের অভিযোগ, তাঁদের সময়মতো খবর দেওয়া হয়নি। পুলিশও পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখছে।

    প্রশ্ন: কোথায় দুই পড়ুয়ার মৃত্যু হয়েছে?

    উত্তর: উত্তরপ্রদেশের বান্দার ঝিল কা পুরওয়া এলাকার একটি বেসরকারি আবাসিক স্কুলে দুই পড়ুয়ার মৃত্যু হয়েছে।

    প্রশ্ন: মৃত দুই পড়ুয়ার বয়স কত?

    উত্তর: মৃতদের মধ্যে নীতিনের বয়স ১২ বছর এবং অরুণ কুশওয়াহার বয়স ৯ বছর। নীতিন ষষ্ঠ শ্রেণিতে এবং অরুণ দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ত।

    প্রশ্ন: কী খাওয়ার পর পড়ুয়ারা অসুস্থ হয়ে পড়ে?

    উত্তর: পরিবারের দাবি, রবিবার সন্ধ্যায় নীতিন ও অরুণ মোমো এবং ফ্রেঞ্চ ফ্রাই বা ফিঙ্গার চিপস খেয়েছিল। খাবার খাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর তাঁদের অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দেয়।

    প্রশ্ন: দুই পড়ুয়ার মৃত্যুর কারণ কি খাদ্যে বিষক্রিয়া?

    উত্তর: এখনও নিশ্চিত নয়। খাদ্যে বিষক্রিয়ার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ময়নাতদন্ত এবং খাবারের নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে।

    প্রশ্ন: কী কী উপসর্গ দেখা দিয়েছিল?

    উত্তর: দুই পড়ুয়ার তীব্র পেটে ব্যথা ও বমির মতো উপসর্গ দেখা দিয়েছিল বলে জানা গিয়েছে।

    প্রশ্ন: স্কুল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য কী?

    উত্তর: স্কুলের ম্যানেজার জানিয়েছেন, রবিবার রাতে হস্টেলের পড়ুয়ারা ডাল, রুটি ও সবজি খেয়েছিল। রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ তারা ঘুমোতে যায় এবং রাত ৩টে নাগাদ নীতিন পেটে ব্যথার কথা জানায়। কিছুক্ষণ পরে অরুণও অসুস্থতার কথা জানায়।

    প্রশ্ন: আর কোনও পড়ুয়া অসুস্থ হয়েছে কি?

    উত্তর: হ্যাঁ। ৮ বছরের চন্দ্রপাল নামে আরও এক পড়ুয়া অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

    প্রশ্ন: দুই পড়ুয়ার দেহের ময়নাতদন্ত করা হচ্ছে কি?

    উত্তর: হ্যাঁ। পুলিশ দুই পড়ুয়ার দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। পাশাপাশি খাবারের নমুনা ও স্কুলের খাদ্যব্যবস্থাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    প্রশ্ন: পুলিশ কী তদন্ত করছে?

    উত্তর: পড়ুয়ারা কী খাবার খেয়েছিল, খাবারে দূষণ বা বিষাক্ত উপাদান ছিল কি না, স্কুলের রান্নাঘর ও খাদ্যব্যবস্থা এবং অসুস্থ পড়ুয়াদের চিকিৎসা ও পরিবারকে খবর দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও গাফিলতি হয়েছিল কি না—সবই তদন্ত করা হচ্ছে।

  • Link to this news (এই সময়)