শিল্পী পূর্ণদাস বাউলের জমি দখলের অভিযোগ উঠল বীরভূমে। এই অভিযোগে মঙ্গলবার জেলাশাসকের দ্বারস্থ হন পূর্ণদাস ও তাঁর ছেলে দিব্যেন্দু দাস বাউল। এ বিষয়ে বীরভূমের জেলাশাসক ধবল জৈনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল এই সময় অনলাইন। জেলাশাসক বলেন, ‘জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে ওঁরা এসেছিলেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
পূর্ণদাস বাউলের অভিযোগ, ইলামবাজারের কামারপাড়া এলাকায় তাঁদের যে চার বিঘা জমি রয়েছে, তা দখল করে রেখেছেন সুকুল টুডু নামে এক ব্যক্তি। বার বার বলেও সেই জমি উদ্ধার করা যায়নি। দিব্যেন্দু বলেন, ‘আগের সরকারের আমলে অনুব্রত মণ্ডল, চন্দ্রনাথ সিংয়ের মদত ছাড়া জেলায় কিছু হতো না। এই ঘটনায় তাঁদের প্রত্যক্ষ মদত আছে। সেই জমি ফেরত পেতেই জেলাশাসকের কাছে এসেছিলাম।’
জমিটি পুনরুদ্ধার করে সামাজিক কাজে ব্যবহার করতে চান পূর্ণদাস বাউল। পূর্ণদাস বাউল বলেন, ‘বাউল সংস্কৃতি ও বাউলদের শিক্ষার প্রসারে আমরা ওই জায়গাটি ব্যবহার করতে চাই। কিন্তু জমিটি দখল হয়ে থাকায় এতদিন তা সম্ভব হয়নি।’ জমি ফেরত পেয়ে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করতেই তাঁরা প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
জমি দখলের অভিযোগে নানা সময়ে সরব হয়েছেন পূর্ণদাস বাউল। এক বার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি অনুষ্ঠানেও এ নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সুরাহা হয়নি। সূত্রের খবর, ১৯৭৭ সালে ইলামবাজার থানার কামারপাড়া মৌজায় রাস্তার ধারে চার বিঘা জমি কেনেন পূর্ণদাস বাউল। কিন্তু, ২০০৬ সালের পর থেকে সেই জমি ধীরে ধীরে জবরদখল হতে শুরু করে বলে অভিযোগ। আগেও জেলাশাসক এবং ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিকের দ্বারস্থ হয়েছিলেন এ নিয়ে। তার ভিত্তিতে ‘দখল’ হয়ে যাওয়া জমি সরকারি ভাবে মাপজোকের কাজও শুরু হয়েছিল। কিন্তু তা বেশি দূর এগোয়নি। নিজের জমিও ফেরত পাননি পূর্ণদাস বাউল।