শ্রাবণ মাসে পুজো দিতে তারাপীঠে গিয়েছিলেন। আচমকাই হোটেলে আগুন ধরে যায়। ঝলসে মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের। সেই হোটেলেই ছিলেন মালদার নসিপুরের তিওয়ারি পরিবার। তাঁদের গাড়ি চালকের চিৎকারেই অলৌকিক ভাবে প্রাণে বাঁচেন তাঁরা। নসিপুরে পৌঁছে সেই ঘটনার কথা ভেবে এখনও শিউরে উঠছেন টুম্পা পান্ডে তিওয়ারি।
তারাপীঠ থানার কাছেই ‘বিদেশিনী’। সোমবার ভোরে পাঁচ তলা এই হোটেলেই আগুন লেগে যায়। দ্রুত তা ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন রুমে। ধোঁয়ায় ঢেকে যায় চারিদিক। সেই সময়ে হোটেলের একটি রুমে ঘুমোচ্ছিলেন তিওয়ারি পরিবারের সাত সদস্য। আচমকাই ‘বাঁচাও বাঁচাও’ বলে চিৎকার করে ওঠেন তাঁদের গাড়ির চালক। ঘুমজড়ানো চোখে কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাঁরা টের পান, গোটা হোটেল ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন।
ওই অবস্থাতেই ঘুমজড়ানো চোখে সবাই বারান্দায় ছুটে যান। সেখান থেকেই শুরু হয় বাঁচার মরিয়া চেষ্টা। আতঙ্কে আর্তনাদ করতে থাকেন তাঁরা। চারপাশে তখন শুধু ধোঁয়া। একহাত দূরের জিনিসও যেন অস্পষ্ট। কী ভাবে নীচে নামবেন, আদৌ নিরাপদে বেরোতে পারবেন কি না—সেই আতঙ্কে অসহায়ের মতো কাঁপছিলেন তাঁরা।
বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছটফট করছিলেন টুম্পা ও তাঁর পরিবারের বাকি সদস্যরা। ততক্ষণে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় দমকল। শুরু হয় উদ্ধারকাজ। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় তিওয়ারি পরিবারের সাত সদস্যকে উদ্ধার করেন দমকল কর্মীরা। টুম্পা জানিয়েছেন, তাঁরা প্রত্যেকে নিরাপদেই ছিলেন। কারও চোট, আঘাত লাগেনি।
ঘটনার পরেই তারাপীঠ থেকে রওনা দেন তাঁরা। রাত ৮টা নাগাদ ফেরেন মালদার নসিপুরের বাড়িতে। তার পরে ২৪ ঘণ্টা কেটে গিয়েছে। কিন্তু আতঙ্কের রেশ রয়ে গিয়েছে এখনও। মঙ্গলবার বাড়িতে বসে সেদিনের ঘটনার কথা বলতে গিয়ে শিউরে উঠলেন টুম্পা। কোনও রকমে বললেন, ‘ভগবানের অসীম কৃপাতেই প্রাণ নিয়ে বাড়ি ফিরতে পেরেছি।’
ইতিমধ্যে হোটেল মালিক প্রবীর পাল এবং তাঁর ছেলে কল্যাণ পালকে গ্রেপ্তার করেছে রামপুরহাট থানার পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, হোটেলের রিসেপশনের এসির MCB-তে শর্ট সার্কিট থেকেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। হোটেলের পিছনে একটি পুকুর ছিল। প্রাণে বাঁচতে অনেকে সেখানে ঝাঁপ দিয়েছিলেন। পুকুরে ডুবে গিয়ে আর কারও মৃত্যু হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
১. তারাপীঠের কোথায় আগুন লাগে?
তারাপীঠ থানার কাছে ‘বিদেশিনী’ নামে একটি পাঁচতলা হোটেলে সোমবার ভোরে আগুন লাগে।
২. অগ্নিকাণ্ডে কত জনের মৃত্যু হয়েছে?
ভয়াবহ ওই অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।
৩. তিওয়ারি পরিবারের কত জন হোটেলে ছিলেন?
মালদার নসিপুরের তিওয়ারি পরিবারের সাত সদস্য হোটেলের একটি ঘরে ছিলেন।
৪. কী ভাবে তিওয়ারি পরিবারের ঘুম ভাঙে?
পরিবারের গাড়িচালক ‘বাঁচাও বাঁচাও’ বলে চিৎকার করায় তাঁদের ঘুম ভেঙে যায়।
৫. আগুন লাগার পর পরিবারের সদস্যরা কী করেন?
ঘুম ভাঙার পর তাঁরা দেখতে পান গোটা হোটেল ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন। কোনও রকমে ঘর থেকে বেরিয়ে বারান্দায় চলে যান এবং সেখান থেকে সাহায্যের জন্য চিৎকার করতে থাকেন।
৬. কী ভাবে তিওয়ারি পরিবারের সদস্যদের উদ্ধার করা হয়?
খবর পেয়ে দমকলকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় পরিবারের সাত সদস্যকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।
৭. তিওয়ারি পরিবারের কারও চোট লেগেছে কি?
টুম্পা পান্ডে তিওয়ারির দাবি, পরিবারের সাত সদস্যই নিরাপদে রয়েছেন। কারও চোট বা আঘাত লাগেনি।
৮. ঘটনার পর তিওয়ারি পরিবার কোথায় ফেরে?
সোমবার রাত ৮টা নাগাদ তাঁরা মালদার নসিপুরের বাড়িতে ফিরে যান।
৯. হোটেল মালিকের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে?
হোটেল মালিক প্রবীর পাল এবং তাঁর ছেলে কল্যাণ পালকে গ্রেপ্তার করেছে রামপুরহাট থানার পুলিশ।
১০. প্রাথমিক তদন্তে আগুন লাগার কারণ কী জানা গিয়েছে?
প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, হোটেলের রিসেপশনে থাকা এসির MCB-তে শর্ট সার্কিট থেকেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
১১. হোটেলের পিছনের পুকুর নিয়ে কেন তদন্ত হচ্ছে?
আগুন থেকে বাঁচতে অনেকে হোটেলের পিছনের পুকুরে ঝাঁপ দিয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে। পুকুরে ডুবে আরও কারও মৃত্যু হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
১২. তিওয়ারি পরিবারের টুম্পা কী বলেছেন?
ঘটনার আতঙ্ক এখনও কাটেনি টুম্পার। তিনি জানিয়েছেন, ভগবানের কৃপাতেই তাঁরা প্রাণ নিয়ে বাড়ি ফিরতে পেরেছেন।