লিচুবাগান থেকে ১২ বছরের এক শিশুর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের নাম ফাহিম শেখ। ছাগল চুরি দেখে ফেলায় তাকে গলা টিপে খুন করে গাছে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ মৃত শিশুর পরিবারের। মঙ্গলবার মালদার কালিয়াচকের সুজাপুরের ঘটনা। ইতিমধ্যেই খুনে জড়িত সন্দেহে জসিম শেখ নামে এক যুবককে আটক করেছে কালিয়াচক থানার পুলিশ। গোটা ঘটনার তদন্ত চলছে।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন দুপুরে লিচুবাগানে খেলছিল ফাহিম। অভিযোগ, সেই সময়ে বাগানে ঢুকে একটি ছাগল চুরি করে গ্রামেরই কয়েক জন যুবক। সেই ঘটনা ফাহিম দেখে ফেলেছিল বলে অভিযোগ। এর পরেই প্রমাণ লোপাট করতেই তাকে গলা টিপে খুন করে একটি গাছে ঝুলিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ মৃত শিশুর পরিবারের। ফহিমের পরিবারের দাবি, ‘খুনের পরে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করেছিল ওরা।’
ফাহিমের ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। শোরগোল পড়ে যায়। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে জসিম খান নামে এক যুবককে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় কালিয়াচক থানার পুলিশ। তাঁরা জসিমকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে মালদা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
ঘটনার তদন্তে মেনে জসিম শেখ নামে গ্রামেরই এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। তিনি ফাহিমের প্রতিবেশী আরফাজুল শেখের ছেলে। পাশাপাশি, ঘটনায় আরও এক ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে বলে পুলিশের দাবি। তবে ওই ব্যক্তি এখনও পলাতক।
ফাহিমের মৃত্যু ঘিরে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা রয়েছে। ছাগল চুরির সঙ্গে এই মৃত্যুর আদৌ কোনও যোগ রয়েছে কি না, শিশুটির কী ভাবে মৃত্যু হল—সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে জানিয়েছে পুলিশ।
১. কোথা থেকে ১২ বছরের শিশুর দেহ উদ্ধার হয়েছে?
মালদহের কালিয়াচকের সুজাপুরের একটি লিচুবাগান থেকে ১২ বছরের ফাহিম শেখের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছে।
২. ফাহিমকে কী ভাবে মারা হয়েছে বলে অভিযোগ?
ফাহিমের পরিবারের অভিযোগ, ছাগল চুরি দেখে ফেলায় তাঁকে গলা টিপে খুন করা হয়। পরে প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে তাঁর দেহ গাছে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি পরিবারের।
৩. ঘটনাটি কখন ঘটেছে?
মঙ্গলবার দুপুরে ঘটনাটি ঘটেছে বলে পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে।
৪. ঘটনার সময় ফাহিম কোথায় ছিল?
ঘটনার সময় ফাহিম লিচুবাগানে খেলছিল বলে জানা গিয়েছে।
৫. ছাগল চুরির সঙ্গে ঘটনার কী যোগ রয়েছে?
পরিবারের অভিযোগ, কয়েক জন ব্যক্তি লিচুবাগানে ঢুকে ছাগল চুরি করছিল। সেই ঘটনা ফাহিম দেখে ফেলেছিল। সেই কারণেই তাকে খুন করা হয়েছে বলে পরিবারের দাবি। তবে এই অভিযোগের সত্যতা এখনও তদন্তসাপেক্ষ।
৬. ফাহিমের দেহ কে দেখতে পান?
লিচুবাগানে ফাহিমের ঝুলন্ত দেহ প্রথমে স্থানীয় বাসিন্দারা দেখতে পান। এরপর এলাকায় শোরগোল পড়ে যায়।
৭. ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়েছে কি?
হ্যাঁ। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে জসিম শেখ নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।
৮. জসিমের সঙ্গে কী ঘটেছিল?
ফাহিমের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত সন্দেহে স্থানীয়রা জসিমকে মারধর করেন বলে অভিযোগ। পরে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে মালদা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
৯. ঘটনায় আরও কেউ অভিযুক্ত কি?
পুলিশের দাবি, ঘটনায় আরও এক ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে। তবে তিনি এখনও পলাতক।
১০. পুলিশ কী নিয়ে তদন্ত করছে?
ছাগল চুরির সঙ্গে ফাহিমের মৃত্যুর আদৌ কোনও যোগ রয়েছে কি না, শিশুটির কী ভাবে মৃত্যু হয়েছে এবং তাঁর দেহ গাছে কী ভাবে ঝোলানো হল—সব দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
১১. মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী ভাবে জানা যাবে?
ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং তদন্তের পরই ফাহিমের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।